মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র তুষারঝড়

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:১৪
তীব্র শীতে বিপর্যস্ত মধ্যপ্রাচ্য। প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় তাঁবুর নিচে আশ্রয় নেয়া সিরিয়ার হাজারো শরণার্থী ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এদিকে তুষার ঝড়ে তুরস্ক ও লেবাননের শরণার্থী শিবিরগুলো বরফের চাদরে ঢেকে গেছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়েই বয়ে যাচ্ছে তীব্র তুষার ঝড়, আর হিমশীতল বাতাস। আর কোথাও কোথাও বন্যায় ভেসে গেছে ঘর-বাড়ি। দুর্বিষহ হয়ে উঠছে মানুষের জীবন।—খবর সিএনএনের। জাতিসংঘ জানিয়েছে, সিরিয়ার ৫,৪০,০০০ নাগরিক যুদ্ধের কারণে জর্ডান, ইরাক, লেবানন, তুরস্ক এবং মিসরে আশ্রয় নিয়েছে। যাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু। প্রচণ্ড শীতে এক ভয়ানক পরিস্থিতির মধ্যে তারা রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। যুদ্ধবিগ্রহগ্রস্ত সিরিয়ার মানুষ বেঁচে থাকতে গ্রহণ করছে নানা রকম ব্যবস্থা। অনলাইনে প্রচারিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, রাস্তান শহরের রাস্তায় বসে তিনজন পুরুষ এবং দুই শিশু তাদের স্কুলের বইয়ের পাতা ছিঁড়ে আগুন পোহাচ্ছে। বুসরা শহরে দেখা যায় এক ব্যক্তি পান করার জন্য বালতিতে তুষার জমাচ্ছেন। এই ভিডিওর সত্ত্বাধিকারী কারা সিএনএন তা নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ অঞ্চলজুড়ে বয়ে যাচ্ছে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ। মঙ্গলবার তুষার এবং তীব্র ঝড় দেশটির অধিকাংশ শহরে বয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা সানা। ঘন্টায় ৭০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যাওয়ায় বায়ু আরো শীতল হয়েছে। এদিকে এই সপ্তাহে ঝড়ের ফলে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে বন্যায় ৫০০ জন আহত এবং চারশ’রও বেশি বাড়ি-ঘর বন্যার পানিতে ভেসে গেছে বলে দেশটির গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে। ওয়াফা জানায়, পশ্চিম তীরজুড়ে অসংখ্য ঘর-বাড়ি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া সালফিট প্রদেশে ৫৩০ এরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে বন্যার কবল থেকে। ওদিকে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে বুধবার তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে যায়। এ সময় তীব্র বাতাসও বয়ে যাচ্ছিল। দেশটির অধিকাংশ জায়গায় মুষলধারে বৃষ্টি আর তুষার ঝড় বৃদ্ধি পাওয়ায় বুধবার সকল সরকারি অফিস বন্ধ রাখা হয়। তবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পেত্রা সূত্রে জানা গেছে। মঙ্গল এবং বুধবার ৭৫৭টি যানবাহনের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। এদিকে তীব্র ঠাণ্ডায় তুরস্ক বিমানবন্দরে ৩৯ টি বিমান ওঠানামা বাতিল করা হয়েছে।