পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার পৃথক চারদফা বোমা হামলায় ১১৫জন নিহত এবং দুই শতাধিক আহত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দেশটিতে যেসব বোমা হামলা হয়েছে, তার মধ্যে প্রাণহানির দিক দিয়ে এটি অন্যতম ভয়াবহ বলে মনে করা হচ্ছে। খবর রয়টার্স, এএফপি ও বিবিসির
পুলিশের উপ-পরিদর্শক হামিদ শাকিল জানান, বেলুচিস্তানের কোয়েটা শহরের একটি স্নুকার আসরে প্রথম আত্মঘাতী বোমা হামলাটি চালানো হয়। এর ১০ মিনিট পর ঘটনাস্থলে ছুটে আসা পুলিশ ও গণমাধ্যমের কর্মীদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফা বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এ দুই ঘটনায় ৬৯ জন নিহত এবং শতাধিক লোক আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে পাঁচ পুলিশ এবং একজন গণমাধ্যম কর্মী রয়েছেন।
এর আগে তৃতীয় দফা বোমা হামলাটি ঘটে একই শহরের একটি বাজার এলাকায়। এতে ১১জন নিহত এবং ৪০জনেরও বেশি লোক আহত হয়। এরও আগে চতুর্থ বোমা হামলাটি ঘটে। পাকিস্তানের সোয়াত প্রদেশের মিনগোরা শহরে এক ধর্মীয় নেতার জনসভায় চালানো হামলাটিতে ২১জন নিহত এবং ৬০জন আহত হয়। দুটি সূত্র থেকে প্রথম দুটি বোমা হামলায় দুটি গোষ্ঠীর দায়-স্বীকারের সংবাদ পাওয়া গেছে। দায় স্বীকার করা গোষ্ঠী দুটি হলো-‘লস্কর-ই-জাঙ্গভি’ এবং ‘ইউনাইটেড বেলুচ আর্মি’। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র সচিব আকার দুররানি বোমা হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন-বিচ্ছিন্নতাবাদী ও গোত্রভিত্তিক সংঘাতের ফলে সহিংসতা বেড়েই চলেছে। পুলিশ এবং চিকিত্সাধীন আহতদের হাসপাতালগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে-অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। ঘটনাপরবর্তী নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। এদিকে, পাকিস্তানের শিয়া মানবাধিকার আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছে হামলাকারী জঙ্গি সংগঠনগুলো দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর হয়ে কাজ করছে। প্রায়ই শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনকে হত্যা করা হচ্ছে, কিন্তু হামলায় জড়িতদের গ্রেফতারের ঘটনা বিরল।
