আফগানিস্তান থেকে অধিকাংশ মার্কিন সেনা এই বসন্তেই চলে যাবে। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের মধ্যে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। তারা উভয়েই একমত হন যে, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা পরিবর্তন করে সেটি এগিয়ে আনা উচিত। সে লক্ষ্যে ২০১৩ সালের মাঝামাঝি নাগাদ আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হবার আগেই যুক্তরাষ্ট্র এই আগাম সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিল।
হোয়াইট হাউসে বৈঠকের পর ওবামা বলেন, আফগানিস্তানে বসন্ত আসার আগেই মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর সেখানে ন্যাটো দায়িত্ব নেবে। তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হবার আগ পর্যন্ত আফগানিস্তানে ছিলেন এমন মার্কিন সৈন্যদের বিচারিক প্রক্রিয়া থেকে দায়মুক্তি দেবার প্রয়োজন রয়েছে। ঐ বৈঠকের পর দুই নেতা জানান, বিভিন্ন বিষয়ে অগ্রগতিমূলক আলোচনা হয়েছে। তালেবানের সাথে শান্তি আলোচনার জন্য কাতারে অফিস খোলার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। কারজাই বলেন, তালেবানের সাথে শান্তি আলোচনার জন্য আমরা কাতারে, দোহায় অফিস করার জন্য সম্মত হয়েছি যেখানে আফগান শান্তি আলোচনার জন্য উচ্চ পরিষদের প্রতিনিধিরা সরাসরি নিযুক্ত থাকতে পারবেন। আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা যত তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে আনা যায় সেই চেষ্টায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আমরা অন্যান্য জোটের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে যাবো।
বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরো একটি বিষয়ে একমত হন যে, তারা আফগান সরকারের কাছে তাদের অধীনে থাকা কারাবন্দীদের হস্তান্তর করবে। কেননা এটা করা না হলে তা হবে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। হামিদ কারজাই বলেন, তিনি অত্যন্ত আনন্দিত যে,আফগান বাহিনী এই বসন্তে তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে।
আফগান সৈন্যদের কাছে দায়িত্ব দ্রুত হস্তান্তরের বিষয়ে দুই নেতা একমত হলেও ২০১৪ সালের পরে আমেরিকানদের উপস্থিতির ব্যাপারে স্পষ্টভাবে কিছুই আলোকপাত করা হয়নি। প্রেসিডেন্ট কারজাই সুকৌশলে বলেছেন এটা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করবে। উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে এখন প্রায় ৬৬ হাজার মার্কিন সৈন্য রয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিও প্যানেট্টা বলেছেন, ২০১৪ সাল নাগাদ আফগানিস্তানে নিযুক্ত সব আমেরিকান সেনা প্রত্যাহার করা হবে। বৃহস্পতিবার আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।
