নির্মল সেনের মৃত্যুসংবাদ শোনার পর তাত্ক্ষণিকভাবে তাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে ঢাকায় একটি দৈনিকে একটি কলাম লিখেছি। তাতে মন ভরেনি। তার সঙ্গে আমার পরিচয় ও যোগাযোগ দীর্ঘ পঁয়ষট্টি বছরের। শেষদিকে যোগাযোগ ছিলো না। কিন্তু দু’জনেই দু’জনের খবর রাখতাম। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি এমন এক বিরল এবং একক ব্যক্তিত্ব, যার দ্বিতীয় উদাহরণ দেওয়া আমার পক্ষে কষ্ট। ব্রিটিশ আমলে তার রাজনীতির শুরু, পাকিস্তান আমল হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে তার ইতি। কিন্তু এই সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে অনেক বিখ্যাত নেতার মতো তিনি হারিয়ে যাননি। তার একক ব্যক্তিত্ব দ্বারাই দেশের বাম রাজনীতিতে একটা বড় ছাপ রেখে গেছেন। এমনকি বাংলাদেশের সাংবাদিকতাতেও।
১৯৪৭ সালের কথা। ভারত ভাগ হতে যাচ্ছে। আমি তখন বরিশালে এ.কে ইনস্টিটিউশনে ক্লাস সেভেনে পড়ি। ছোটবেলা থেকেই আমি একটু ইচোরে পাকা ছিলাম। বহু ব্যাপারে আমার জ্ঞান ছিল, যা ওই বয়সে থাকার কথা নয়। আমার বাবা বরিশাল জেলা কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন। গ্রামের বাড়িতে থাকলেও কলকাতা থেকে আনন্দবাজার, যুগান্তর, আজাদ, নবযুগ সবরকম দৈনিক পত্রিকাগুলো বাড়িতে আসতো। আমি তা দীর্ঘকাল ধরে অসুস্থ বাবাকে পড়ে শুনাতাম। ফলে দেশের তখনকার ছোট-বড় রাজনৈতিক দল, যথা কংগ্রেস, মুসলিম লীগ, কৃষক প্রজা পার্টি, খাকসার, খোদাই খিদমতগার দল, কম্যুনিস্ট পার্টি, সোস্যালিস্ট পার্টি, রেভ্যুলশনারি সোস্যালিস্ট পার্টি ইত্যাদি নাম আমার ভালোভাবে জানা হয়ে গিয়েছিল।
তখন বরিশালের সদর রোড দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে দেখতাম, অশ্বিনী কুমার দত্ত টাউন হলের উল্টোদিকে একটা দোতলা টিনের ঘরে বিশাল সাইনবোর্ড, সারা ভারতের কম্যুনিস্ট পার্টি, বরিশাল জেলা শাখা, সেখান থেকে লাইব্রেরিপট্টি পেরিয়ে জেলখানার দিকে এগিয়ে গেলে হাতের বাঁ পাশে ছিল একটি ফটোগ্রাফির দোকান। নাম আর্টভিলা। এই দোকানের দোতলায় ছিলো আরএসপি অফিস। তারও বড় আকারের সাইনবোর্ড ছিল। বরিশালের সদর রোড দিয়ে হাঁটলেই এই দু’টি বড় বাম রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড আমার চোখে পড়তো।
ওই সাতচল্লিশ সালের একেবারে গোড়ার দিকের কথা। সম্ভবত স্কুল ছুটি ছিলো। গ্রামের বাড়িতে চলে এসেছি। আমাদের উলানিয়া একটি সমৃদ্ধ গ্রাম। এই গ্রামের জমিদার বাড়ির আরিফ চৌধুরী (কবি আসাদ চৌধুরীর বাবা) ছিলেন বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইন পরিষদের সদস্য এবং জেলা মুসলিম লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা। মুসলিম লীগ রাজনীতি করলেও তিনি প্রগতিশীল মনের মানুষ ছিলেন এবং তখনকার প্রাদেশিক মুসলিম লীগের প্রগতিশীল উইং হাশেম-সোহরাওয়ার্দী গ্রুপে ছিলেন। তার কাছে কুম্যনিস্ট পার্টি (তখন অবিভক্ত), ফরোয়ার্ড ব্লক ইত্যাদি বাম রাজনৈতিক দলের নেতারাও আসতেন।
আমাদের গ্রামের বাড়ির কাচারি ঘরের সামনেই একটি পুকুর। সেই পুকুরের অপর পারেই একটি পায়েহাঁটা পথ। যে পথ আরিফ চৌধুরীর (ডাক নাম ধনু মিয়া) বাড়িতে ঢুকেছে। আমি সে বাড়িতে প্রায়ই যেতাম। আরিফ চৌধুরী আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। সেদিন ওই পুকুর পারের পায়েহাঁটা পথ দিয়ে আরিফ চৌধুরীর বাড়ি থেকে ফিরে আসছি, দেখি দু’জন ভদ্রলোক বিপরীত দিক থেকে ওই বাড়ির দিকে আসছেন। দু’জনেই যুবা বয়সী। একজন বয়সে একটু বড়। খদ্দরের মলিন পাজামা-পাঞ্জাবি পরা। অপরজনের শরীরেও পাজামা-পাঞ্জাবি। তবে খদ্দরের নয়। এবং তা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। তিনি বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুণ এবং একটু বেঁটে হলেও সুদর্শন।
তারা আমাকে দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, আচ্ছা, আরিফ চৌধুরীর বাড়িটা কোনদিকে বলতে পারো? প্রথম সম্বোধনেই তুমি। আমি বিচলিত হইনি। বলেছি, আপনারা তো সেই বাড়ির সামনেই দাঁড়িয়ে আছেন।
ঃ তুমি তাকে চেনো?
ঃ হ্যাঁ।
ঃ তার সঙ্গে আমাদের একটু দেখা করিয়ে দিতে পারো?
ঃ বললাম, আপনারা কারা?
ঃ বয়স্ক ব্যক্তি বললেন, আমরা বরিশাল শহর থেকে এসেছি। রাজনৈতিক দল করি। আরিফ চৌধুরীর সঙ্গে দেখা করা দরকার।
জিগ্যেস করলাম, কোন্ রাজনৈতিক দল করেন?
বয়স্কজন একটু প্রশ্রয়ের হাসি হেসে বললেন, আরএসপি! তুমি সম্ভবত নাম জানো না।
আমি সোত্সাহে বললাম, ও আরএসপি! নাম জানবো না কেন?
সদর রোডে জেলখানার উল্টোদিকে আপনাদের অফিস।
তারা দু’জনেই হয়তো আশা করেননি আমার বয়সী একটি মুসলমান ছেলে আরএসপি’র নাম জানবে! আমার জবাব শুনে তারা খুব উত্সাহিত হলেন। বললেন, তুমি তাহলে বরিশালে থাকো?
বললাম, বরিশাল শহরে থাকি এবং স্কুলে ক্লাস সেভেনে পড়ি। তারা আমাকে তাদের পরিচয় দিলেন। বয়স্কজন আবদুল খালেক খান। কম বয়সী তরুণের নাম নির্মল সেন। আব্দুল খালেক খান পরবর্তীকালে রাজনীতির প্রত্যক্ষ সংশ্রব ছেড়ে সাংবাদিক হয়েছিলেন। দীর্ঘকাল দৈনিক সংবাদ, দৈনিক আজাদ, দৈনিক পাকিস্তান (পরবর্তীকালে দৈনিক বাংলা) ইত্যাদি কাগজে সাংবাদিকতা করার পর গত শতকের শেষের দিকে প্রয়াত হন। আর সেদিনের সেই তরুণ আজকের বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও সাংবাদিক নির্মল সেন। ৮২ বছর বয়সে গত ৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার যিনি প্রয়াত হয়েছেন। ‘নির্মলদা’ এই একটি নামে সারা বাংলাদেশ যাকে চেনে এবং জানে।
সাতচল্লিশ সালের সেই বিস্মৃত প্রায় দিনটিতে এই দু’জনকেই আমি আরিফ চৌধুরীর কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম। তিনি পরম সমাদরে তাদের গ্রহণ করেছিলেন। তখন ভরদুপুর। উলানিয়া জমিদার বাড়ির মুসাফিরখানাটি তখনো টিকে ছিলো। সেখানে তাদের আহার-বিশ্রামের ব্যবস্থা হল। পরদিন তারা বরিশাল শহরে ফিরে গেলেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে আমার সম্পর্কটি পাকা হয়ে যায়।
বরিশাল শহরে স্কুল খুলতেই ফিরে আসার পর আরএসপি’র দিকে আমি ধীরে ধীরে ঝুঁকতে থাকি। তা কেবল নির্মল সেনের কারণে নয়। চল্লিশের দশকের বরিশালে কম্যুনিস্ট পার্টি এবং আরএসপি দু’টো বামপন্থী দলই সমান শক্তিশালী ও প্রভাবশালী ছিল। কিন্তু বরিশালের প্রগতিশীল চিন্তাধারার মুসলমান ছাত্রদের বেশির ভাগের ঝোঁক ছিল আরএসপি’র দিকে। আবদুল খালেক খান ছাড়াও এই দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন শামসুদ্দীন আবুল কালাম, মোজাম্মেল হক, শাহজাহান চৌধুরীর মতো তখনকার প্রগতিশীল মুসলিম ছাত্রদের নেতৃস্থানীয় অংশ।
শামসুদ্দীন আবুল কালাম তখনই অবিভক্ত বাংলাদেশে খ্যাতনামা কথাশিল্পী। তার প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘শাহেরবানু’ তিনি মোজাম্মেল হক ও আবদুল খালেক খানের নামে উত্সর্গ করেছিলেন। বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় মোজাম্মেল হক ও আবদুল খালেক খান দীর্ঘকাল কারাদণ্ড ভোগ করেন। কারামুক্তির পর তারা দু’জনেই সাংবাদিকতার পেশা গ্রহণ করেন। দৈনিক পাকিস্তানের বার্তা সম্পাদক থাকাকালে মোজাম্মেল হক ১৯৬৫ সালে পিআইএ’র কায়রো ফ্লাইটের দুর্ঘটনায় নিহত হন। কারাগারে থাকাকালে নির্মল সেনও মোজাম্মেল হক ও খালেক খানের সঙ্গে ছিলেন।
মোজাম্মেল হক ও খালেক খান একটু আগেই কারামুক্ত হন। নির্মল সেনকে পুরো সাত বছরই কারাগারে কাটাতে হয়েছিল। কারামুক্তির পর তিনি ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। প্রথমে জীবিকার জন্য গৃহশিক্ষকতা (প্রাইভেট ট্যুইশনি) এবং পরে সাংবাদিকতার পেশায় যোগ দেন।
প্রাইভেট টিউটর হিসেবে নির্মল সেনের খ্যাতি সারা ঢাকা শহরেই ছড়িয়ে পড়েছিল। বর্তমানের অনেক খ্যাতনামা লোকের তিনি গৃহশিক্ষক ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন ‘দৈনিক ইত্তেফাকের বর্তমান সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।’ ইত্তেফাকে তিনি কিছুদিন সাংবাদিকতাও করেছেন। ইত্তেফাকের প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া তাকে কলামিস্ট হওয়ার জন্য উত্সাহিত ও অনুপ্রাণিত করেন।
প্রয়াত প্রখ্যাত সাংবাদিক মোহাম্মদ মোদাব্বেরের মেয়ে শিরিনেরও তিনি গৃহশিক্ষক ছিলেন। তার গৃহশিক্ষকতার সুনাম শুনে আমার শ্বশুর এ.বি.এম মফিজ উদ্দীন আহমদ তাকে আমার মেজো শ্যালিকা সাবিহা আখতার আঁখির গৃহশিক্ষক নিযুক্ত করেন। আমার শ্বশুর নিজেও ছিলেন একজন শিক্ষক এবং ঢাকার গভরমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলের সহকারী হেডমাস্টার। তিনি নির্মলদা’র শিক্ষকতা গুণের ভূয়সী প্রশংসা করতেন। আমার শ্যালিকার প্রাইভেট টিউটর হওয়ার পর নির্মলদা’র সঙ্গে আমার পারিবারিক সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে। তিনি আমার স্ত্রীকে ডাকতেন শেলি (পুরো নাম সেলিমা আফরোজ)। আর আমার স্ত্রীও তাকে ডাকতেন ‘নির্মলদা’। আমার ঢাকার বাসায় নির্মলদা যখনই আসতেন, তার ভাত না খেয়ে যাওয়ার উপায় ছিলো না।
নির্মলদা সাধারণত লঘু হাসি-ঠাট্টা করতেন না। কিন্তু যখন করতেন তখন তার দায় এড়ানো বড় কষ্টকর হতো। একটা উদাহরণ দেই। আমার বড় মেয়ের তখন জন্ম হয়েছে। ১৯৬১ সালে তার জন্ম। দৈনিক আজাদে তখন চাকরি করি। নির্মলদা আজিমপুর সংলগ্ন শেখ সাহেবের বাজারে আমার ভাড়াটে বাসায় প্রায়ই আসেন। মেয়ের নাম তনিমা রেখেছি জেনে আমার স্ত্রীর সামনেই একদিন বললেন, বুঝেছি, তুমি বরিশালের তনিমা-শঙ্করীদের এখনো ভুলতে পারোনি।
আমি একটু বিব্রত হলাম। আমার স্ত্রীর চোখে-মুখে সন্দেহের ছায়াপাত হলো। বললাম, নির্মলদা, কি বলছেন? নির্মলদা হেসে বললেন, তুমি বরিশালের তনিমা, শঙ্করীদের এখনো ভুলতে পারোনি। সেজন্যেই মেয়ের নাম রেখেছো তনিমা।
প্রতিবাদ করলাম না, নির্মলদা, আপনার অনুমান সঠিক নয়। নির্মলদা আমার কথা কতোটা বিশ্বাস করলেন জানি না। প্রকৃত ব্যাপার ছিলো আমি যখন স্কুলের ছাত্র, তখন নির্মলদা, তার সহপাঠী দিলীপ গুহঠাকুরতা, নারায়ণ দাশ শর্মা, অরবিন্দ গুহ এরা সব ব্রজমোহন কলেজের ডাকসাইটে ছাত্র। তনিমা, শঙ্করী এবং এরকম আরো কয়েকটি মেয়ে ছিলেন ডাকসাইটে ছাত্রী। শহরে তাদের রূপগুণের খ্যাতি ছিলো। আমি তাদের দিদি ডাকতাম এবং তারাও আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহ করতেন।
একবার বরিশালে চৈত্র সংক্রান্তি মেলা থেকে তনিমা কিছু দেব-দেবীর মাটির মূর্তি কিনেছেন। আমি ওই মেলায় গিয়েছিলাম। তনিমা আমাকে দেখে বললেন, গাফ্ফার, আমি অনেকগুলো মূর্তি কিনেছি। কিন্তু একা বহন করে বাসায় নিয়ে যেতে পারছি না। তুমি কি আমাকে একটু সাহায্য করবে? আমি কয়েকটি মূর্তি তার কাছ থেকে নিয়ে তাকে ভারমুক্ত করেছি এবং তাকে বাসায় পৌঁছে দিয়েছি। এটাই আমার পরিচিত যারা দেখে ফেলেছিলেন, তারা শহরে চাউর করে দিলেন, তনিমার আমি নেকনজরে পড়েছি। নির্মলদা’র কানেও কথাটা সম্ভবত গিয়েছিল। বহুকাল পরে তার মুখে কথাটা শুনলাম। বরিশালের তনিমাকে স্মরণ করে আমি নিজের মেয়ের নাম রাখিনি, একথাটা সেদিন তাকে বোঝাতে পেরেছিলাম কিনা জানি না। কিন্তু নির্মলদা’র মুখেই শুনেছি বরিশালে ১৯৫০ সালের ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর তনিমারা কলকাতায় চলে যায়। সেখানে কোথায় কার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে, নির্মলদা সে খবরও রাখতেন।
পাকিস্তান আমলে নির্মলদা সাত বছরের কারাবাসের পর মুক্ত জীবনে এসে প্রথমে ছাত্রলীগে যোগ দিয়েছেন। পরে ছাত্র ইউনিয়নে চলে যান। শুনেছি, এটা তার পার্টির (আরএসপি) নির্দেশ ছিল। পরে তিনি শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল গঠন করেন। এটাও পার্টির নির্দেশে করেছিলেন কিনা জানি না। ১৯৫০ সালের পর থেকেই আরএসপি’র সঙ্গে আমার কোনো সংশ্রব ছিলো না। আমি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে আসি। রাজনৈতিক কলামিস্ট হই এবং কট্টর বাম রাজনীতির চাইতে গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির মধ্যবাম প্রশস্ত পথকেই গণমুক্তির সেবা পন্থা বলে ভাবতে শুরু করি। নির্মলদা বহুবার চেষ্টা করেছেন তার রাজনৈতিক বিশ্বাসে আমাকে ফিরিয়ে নিতে। আমি ফিরে যাইনি। তাতে আমাদের মধ্যে মতান্তর হয়েছে, মনান্তর হয়নি।
নির্মলদা বাম রাজনীতির যে ধারায় শেষ পর্যন্ত অবস্থান করেছেন, তার স্বচ্ছতা সম্পর্কে আমার মনে মাঝে মাঝে সন্দেহ হয়েছে, কিন্তু তার সততা সম্পর্কে কখনো সন্দেহ হয়নি। তার রাজনীতিতে কিছুটা আওয়ামী-বিরোধিতা এবং প্রচ্ছন্ন মুজিব-বিরোধিতা ছিলো। এটার কারণ আমার পক্ষে সম্যক অনুধাবন করা সম্ভব হয়নি। আমি তাকে একবার জিগ্যেস করেছিলাম, সানইয়াত সেন সম্পর্কে চীনের কম্যুনিস্টেরা তাদের ভুল স্বীকার করেছে। সুভাষ বসু সম্পর্কে ভারতীয় কম্যুনিস্টদেরও বহু পরে হলেও ভুল ভেঙ্গেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে বাংলাদেশের একশ্রেণীর বামের কবে ভুল ভাঙবে বলতে পারেন? নির্মলদা আমার কথায় জবাব দেননি।
নিজের বিশ্বাসে অটল থেকেই নির্মলদা আমাদের কাছ থেকে চলে গেলেন। আমাদের গণতান্ত্রিক বাম রাজনীতিতে তার শূন্যতা বহুদিন পূর্ণ হবে না।
লন্ডন ১২ জানুয়ারি, শনিবার, ২০১৩
