অর্থনীতি

কৃষি ঋণ বিতরণ ভাবনা

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩৬
বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতি কাঠামোতে কৃষি ঋণের গুরুত্ব আলোচনার অবকাশ রাখে না। যে দেশের অধিকাংশ কৃষকের নিত্যদিন কাটে অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে সে দেশে সময়মতন প্রয়োজনীয় কৃষি ঋণ সহায়তা কৃষকের জন্য একান্তই প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে কৃষক প্রাতিষ্ঠানিক উত্স থেকে প্রয়োজনীয় কৃষি ঋণ সময়মতো পায় না বিধায়ই তাদের বিভিন্ন অপ্রাতিষ্ঠানিক উত্স থেকে করতে হয় ধার-দেনা। শুধু তাই নয়, অপ্রাতিষ্ঠানিক উত্সগুলোর মধ্যে চাষজমি বন্ধক, ঠিকা (মুখ কবলা- যখন গৃহীত টাকা ফেরত দিতে পারবে। কেবল তখনই জমি ফেরত পাবে। শতকরা হারে বছরভিত্তিক গৃহীত টাকার কোন অংশই কমবে না) দিয়ে টাকা সংগ্রহ করার ভবিষ্যত্ পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ। কারণ ঠিকা পদ্ধতিতে ভবিষ্যতে বেশিরভাগ জমিই চলে যায় স্থায়ী কবলায়। বিপরীতে কৃষক তার প্রয়োজনীয় অর্থ সময়মতো ঋণ হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক উত্স থেকে সরবরাহ পাওয়া যেতো তাহলে তাদের মহাজনী চড়া সুদে কিংবা চাষজমির বিনিময়ে অর্থ সংগ্রহ করতে হয় না। এখানে একটি মজার পর্যবেক্ষণ ফলাফল দৃশ্যমান। বিষয়টি হলো বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, ৪টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক, বি আর ডি বি, বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লি. এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের কৃষি ঋণ বিতরণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় তার সাথে বিতরণের পরিমাণের থাকে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান। যেমন ২০০৪-২০০৫ অর্থ বছরে কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৫৩৭.৯১ কোটি টাকা কিন্তু এই অর্থবছরে বিতরণ হয়েছে ৪৯৫৬.৭৮ কোটি টাকা। ২০০৫-২০০৬ সালে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৮৯২.২১ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। ৫৮৯৬.২১ কোটি টাকা। ২০০৬-২০০৭ সালে ৬৩৫১.৩০ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বিতরণ হয়েছে ৫২৯২.৫১ কোটি টাকা। একইভাবে ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বিতরণে ঘাটতি প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে কৃষি উত্পাদনের অত্যাবশ্যকীয় কৃষি ঋণের বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সত্যিকার বিতরণ অবস্থার চিত্র এরকম কেন ? চলমান প্রবন্ধে কয়েকটি বছরের ঋণ চিত্র উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে প্রায়ই প্রতি বছরের চিত্র একই রকমের। মাঠ পর্যায়ে গবেষণা করে দেখা গেছে যে, কৃষকের কৃষি ঋণ চাহিদা ও বিতরণের মধ্যেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। তাহলে বিষয়টি কি দাঁড়ায়? কৃষকের কৃষি ঋণ চাহিদাও আছে, বিতরণের লক্ষ্যমাত্রাও আছে কিন্তু বিতরণের ঘটতির কারণে কৃষককে যেতে হবেই মহাজন কিংবা অন্য কোন চড়াসুদে সুদ দেয়া প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছে। অন্যথায় চাষজমি বন্ধক কিংবা বিক্রি, ঠিকা পদ্ধতিতে কৃষককে জড়াতে হচ্ছে। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি নিয়ে অধিকতর মাঠ পর্যায়ে গবেষণার সাথে সাথে উল্লেখিত বিষয়ে সমাধানের বাস্তব পথ অনুশীলন অত্যাবশক। লেখক : চেয়ারম্যান, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় , বনানী,ঢাকা।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন