নির্বাচন নিয়ে ভাবনা

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২৬
আবারও বলছি এমন কিছু করেন যাতে করে আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হয় নোয়াখালীর মহাসমাবেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেত্রীর পড়ালেখাকে নিয়ে বেশ আক্রমণাত্মক ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন। ঠিক আছে আপনার নেতৃত্বে দেশ এখন এগুচ্ছে। কিন্তু একজন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে আপনার এভাবে বিরূপ মন্তব্য করা সমীচীন নয়। কোথায় আমরা আশা করব যে আপনারা এক টেবিলে বসবেন তা না করে একজন আরেকজনকে কাদা ছুঁড়াছুঁড়ি করেন। যাতে করে দেশে আরেকটি ১/১১ সৃষ্টি হয়। দেশ চালাতে হলে সবকিছুর জন্যই মন-মানসিকতা থাকতে হবে। আপনারা বিশ্বজিতের মতো আর কত কোরবানী চান? শুধু জয় ভাই, তারেক ভাই, খোকা ভাই নয়, আমরাও যে আপনাদেরই সন্তান। মা দেহ বিক্রি করে যদি তার সন্তানকে দুধ পান করাতে পারে, তাহলে আপনারা কেন যাবতীয় গ্লানি মুছে এক টেবিলে বসার জন্য ত্যাগ স্বীকার করতে পারবেন না? এখন যদি আপনারা দেশের জন্য কিছু করে যেতে না পারেন একদিন দেশ এগিয়ে যাবে ঠিকই, কিন্তু আপনাদেরকে মানুষ ভুলে যাবে। ভুলবে না শুধু আপনাদের আচরণ। এখানে সকল ধর্মের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করুন। কারো মসজিদ, মন্দির ও উপাসনালয় আক্রমণ হওয়া থেকে রক্ষা করুন। আবারও বলছি- এমন কিছু করেন, যাতে করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া যায় এবং আগামী নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হয়। মোহাম্মদ এহিয়া মিরপুর ল’ কলেজ। কেমন হবে নির্বাচনী নাটক ...! আমাদের সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং রাজনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই তিনটি বিষয় আমাদের সমাজকে নানাভাবে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে রাজনীতির প্রভাবটা সবচেয়ে মারাত্মক। বাকি দুই প্রভাব উপেক্ষা করা গেলেও রাজনীতির প্রভাব কোনভাবেই উপেক্ষা করা যায় না। যাই হোক, এই নতুন বছরে অনেক কিছু যেমন আমরা হারিয়েছি আবার বেশ কিছু পেয়েছি। আরো একটা জিনিস পাবো। তাহলো দশম জাতীয় নির্বাচন এবং রাজনীতির পালাবদল। এ বছরের শেষের দিকে নির্বাচন ও পালা বদলের নাটকীয়তা শুরু হবে। সেই নাটকের স্ক্রিপ্ট অবশ্য আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য ছোট-বড়, মাঝারি সব দলের হর্তা-কর্তারা লিখতে শুরু করেছেন। সেই নাটক হবে অসাধারণ সার্থক নাটক। নাটকের সবগুলো উপাদান নিয়ে রাজপথে মেগাসিরিয়াল মঞ্চায়ন হবে। নাটকটিতে হাসি-তামাশা, উচ্ছ্বাস, উল্লাস এবং গভীর ট্র্যাজেডি সবই থাকবে। নাটকের দু’টি নারী চরিত্রকে কেন্দ করে রহস্যময়ভাবে কাহিনী সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যুতে কোন অভিনেতার কৃত্রিম নয়, দেহের প্রাকৃতিক রক্তে রঞ্জিত হবে পিচঢালা কালো পথ। কারো আবার প্রাণ যাবে পুলিশের গুলিতে। অথবা মহান ছাত্র রাজনৈতিকের চাপাতি, রামদা ও ছুরিকাঘাতে। বিচিত্র দৃশ্য আর সংলাপের মধ্যদিয়ে দেশের আপামর জনগণ সেই নাটক উপভোগ করবেন বিটিভিতে নয়, স্যাটেলাইট চ্যানেলে, পত্রিকা, রেডিও, ফেসবুক এবং টুইটারে। লক্ষ-কোটি দর্শক-শ্রোতা ব্যাপক আকুল ব্যাকুল এবং আঁকুপাঁকু মন নিয়ে অধীর অপেক্ষা করছে এখন থেকেই। কখন শুরু হবে সেই দৃশ্য..? কখন শুরু হবে সেই নাটক...! সজিব তৌহিদ শিক্ষার্থী, কারমাইকেল কলেজ, রংপুর। আলোচনা ও সমঝোতাই সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মনোভাব গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দিচ্ছে। পারস্পরিক হিংসাত্মক ও দ্বিমুখী নীতিবিশিষ্ট রাজনীতি আমাদের দেশের ভাবমূর্তি অনেকাংশে কমে যাচ্ছে। রাজনৈতিক পরিবেশ দরকার স্থিতিশীল। সদ্য মহাজোট সরকারের চার বছর শেষ হতে যাচ্ছে। যত দিন এগিয়ে আসছে ততদিন অধিকতর কঠিন হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে। পেশীশক্তি ব্যবহার করে শুধু ক্ষমতার জন্য সকল প্রকার ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড করে চলেছে। দেশের মানুষ এখন ভীতিকর অবস্থায় বাস করছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য নিরীহ বিশ্বজিেক জীবন দিতে হল। দেশের সার্বিক উন্নতির জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দেশকে ভালবাসার নির্দশন স্থাপন করতে হবে। যে কোন গণতান্ত্রিক দেশের অন্যতম শর্ত সুষ্ঠু নির্বাচন। সমপ্রতি মার্কিন নির্বাচন গণতন্ত্রের চর্চার উদাহরণ উপহার দিয়েছে পৃথিবীবাসীকে। এই উদাহরণের উত্কৃষ্ট অনুকরণ হোক আমাদের আসন্ন সংসদ নির্বাচন। মারামারি, ভাংচুর, হত্যা, দুর্নীতি ছাড়া যে নির্বাচন সম্ভব তা প্রমাণ করল মার্কিনীরা। নয় মাসে যদি দেশ স্বাধীন করতে পারি তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবো না কেন? দেশের ভালোর জন্য একমঞ্চে আসুন। এ দেশের মানুষকে উত্কণ্ঠার জীবন থেকে মুক্ত করে সুস্থভাবে বাঁচতে শেখান। আসন্ন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় হওয়ার জন্য সকল রাজনৈতিক দলসহ আমরা সবাই একত্র ঘোষণা করি- এই হোক আমাদের সবাই অঙ্গীকার। মো. কোরবান আলী, ৩য় বর্ষ, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ । সর্বস্তরের জনগণের প্রত্যাশা নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন একটি দেশের রাজনৈতিক দল দেশটির সকল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আর জনগণ তাদের সমর্থনের মাধ্যমে দলটি নির্বাচিত করে থাকে। নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচন পরিচালিত করে থাকে। আমাদের দেশের নির্বাচনের সময় সন্নিকটবর্তী। অর্থাত্ ২০১৩ সালের মধ্যেই নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু এ ব্যাপারে তেমন কোন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। রাজনৈতিক দলগুলো এক মত হতে পারছে না নির্বাচনের পদ্ধতি সম্পর্কে। তার একমাত্র কারণ দলীয় স্বার্থের কথা চিন্তা করে সকলে মতামত ব্যক্ত করছে। কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে ক্ষমতা পাওয়া যাবে সে চিন্তায় সকলে বিভোর। আর ক্ষমতা না পাওয়া গেলে জবাবদিহিতার ভয়। ভালো কাজের সিদ্ধান্ত নিন, যাতে জবাবদিহিতার ভয় না থাকে। সর্বস্তরের জনগণের এই প্রত্যাশা নির্দিষ্ট সময় নির্বাচিত দল দেশ পরিচালনার পর আবার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, সর্বজনীন ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন। আমি রাজনৈতিক দলগুলোকে বলব আপনারা নিজের স্বার্থ পরিত্যাগ করে জনগণের স্বার্থে কাজ করার মনোভাব তৈরি করলে সঠিক সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয়ে যাবে। নির্বাচনের জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে একত্রে বসে অতীতের নির্বাচনের পদ্ধতি ও ফলাফলগুলো পর্যালোচনা করে একটি সুন্দর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা দরকার। নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যে সকল ব্যবস্থা দরকার ক্ষমতাসীন দলের দায়িত্ব সে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা। নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন না দিতে পারলে দেশ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে পড়বে। জনগণের কাছে এই ব্যর্থতার জন্যে কঠোর জবাবদিহিতা করতে হবে । ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ করে দেশ ও জনগণের স্বার্থের কথা চিন্তা করে সঠিক সময়ে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিন। সকল রাজনৈতিক দলকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসা উচিত। মো. লুত্ফর রহমান এমএসসি ফাইনাল, রসায়ন বিভাগ সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন