নির্বাচন নিয়ে ভাবনা

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:১৭
নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা ছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্বচ্ছ হবে না রাজনীতির ময়দানে অস্থিতিশীলতার প্রধান নিয়ামক নির্বাচনে দলীয় কিংবা নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার টানাপোড়েন চলছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সন্দেহমুক্ত নয়, আবার দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেশে-বিদেশে বিরোধী দলের গ্রহণযোগ্য নয়। এ অবস্থার সমাধান হওয়া জরুরি, না হলে সংঘাত অনিবার্য। এ সংঘাত এড়ানোর একটা ভালো উপায় হতে পারে বিবদমান দলগুলোর মধ্যে সংলাপ। একটি রাষ্ট্রে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে সরকার ও বিরোধী দলের সহাবস্থান প্রয়োজন। সংসদীয় রাজনীতিতে দলীয় কর্তৃত্ব রয়েছে বটে, কিন্তু বিরোধী দলের ভূমিকাও এখানে মুখ্য। বিরোধী দলও সরকারের একটি অংশ। সংসদীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলের নেতাকে বলা হয় ছায়া প্রধানমন্ত্রী। বিরোধী দলকে যদি মূল ভূমিকায় আনা না যায়, সে দেশে গণতন্ত্র বিকাশ লাভ করতে পারে না। পশ্চিম ইউরোপ, যেখানে গণতন্ত্রের ভিত্তি অত্যন্ত শক্তিশালী, সেখানে বিরোধী দলের সম্মান কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি দলের চাইতেও বেশি। অনেক সময় বিদেশে বিরোধী দলের নেতা সরকারেরও প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন। কিন্তু বাংলাদেশে বিরোধী দলের ভূমিকা উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। তাতে বাড়ছে ক্ষোভ আর সেই ক্ষোভ জন্ম দিচ্ছে সহিংসতার। প্রধানমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অনির্বাচিত কোনো ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা দেয়া হবে না। আর সুপ্রীমকোর্টের রায় অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের সুযোগ নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যে তত্ত্বাবধায়ক নামে হতে হবে এমন কথা নেই, ভিন্ন নামেও হতে পারে। যেমন- অন্তর্বর্তী সরকার, কোয়ালিশন সরকার, নির্দলীয় সরকার। আরিফুল ইসলাম মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদ লেভেল-২, সেমি.-১ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ। নেত্রীদ্বয়ের আলোচনার কোন বিকল্প নেই গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় অতীব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হচ্ছে নির্বাচন। নির্বাচনে জনগণের মতামত প্রতিফলিত হয়। আর এ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেন । যারা নির্বাচিত হওয়ার পর দেশের ক্ষমতাভার গ্রহণ করেন। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা দায়িত্ব শব্দটা হয়তোবা ভুলেই গেছে। এ বছর নির্বাচনের বছর। তাই অন্য বছরের তুলনায় এ বছরে রাজনীতিতে উত্তেজনা অনেক বেশি । পুরনো বছরের ন্যায় রাজনীতিবিদদের মুখে এবছরও মুড়ির মতো ফুটবে ঝুলিভরা বিভিন্ন ওয়াদার কথা। তারা কোন চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই যত্রতত্র ওয়াদা করে বেড়াবেন এটাই স্বাভাবিক। কেননা তারা যে রাজনীতিবিদ। এতে কোন দলের অবশ্য দোষ দেয়া যায় না, কেননা নির্বাচনে জয়ী হওয়া বলে কথা। কোথায় কি বললো সেটা কোন সাবজেক্ট না। এবছরের নির্বাচন আগের বছরের তুলনায় ভিন্ন মনে হচ্ছে। দেশের দুই প্রধান নেত্রী অন্তর্বর্তীকালীন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বির্তকের মধ্যে রয়েছেন। এ বির্তক কবে শেষ হবে তা কারো জানা নেই। তবে দেশের নেত্রীদ্বয় যদি এ বির্তকের অবসান না ঘটান তাহলে দেশে চরম সংঘাত অনিবার্য। এতে করে নেত্রীদ্বয়ের তেমন কোন ক্ষতি না হলেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে এ দেশের আম-জনতাকে। জনগণের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে, সর্বোপরি গণতন্ত্রের স্বার্থে, সুষ্ঠু নির্বাচন করা ও সংঘাত এড়ানোর জন্য দেশের প্রধান দুই নেত্রী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার মধ্যে আলোচনার কোন বিকল্প নেই । মোস্তাফিজ মিশু গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ২য় বর্ষ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা দরকার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কিভাবে হবে তা নিয়ে বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এক বিপরীতমুখী অবস্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারি দল চাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে। অপরদিকে বিরোধী দল সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে সোচ্চার। এ বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপে বসা অত্যন্ত জরুরি। বিষয়গুলো রাজপথে না গড়িয়ে যদি সংলাপে বসে ঠিক করা যায় সেটাই দেশের জন্য মঙ্গল হবে। হরতাল এবং নৈরাজ্য করে দাবি আদায় করার চেয়ে সংলাপই উত্কৃষ্ট পন্থা। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর কারণে দেশের সাধারণ মানুষকে যেন আর ভোগান্তি পোহাতে না হয় সেটা চিন্তা করতে হবে। তাছাড়া কূটনৈতিক মহলও সংলাপের পক্ষে মত দিয়েছেন। সরকার ও বিরোধী দলের উচিত তাদের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া। একটি গণতান্ত্রিক দেশের রাজনৈতিক অধিকার যাতে সকলে ভোগ করতে পারে সেজন্য ক্ষমতাসীন দলকে আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। তাহলেই জাতির সামনে হরতালের মতো অরাজকতা আর চোখে পড়বে না। জাতি একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কামনা করে। আর একটি অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অবশ্যই সরকার ও বিরোধীদলের মধ্যে সমঝোতা দরকার। মোহাম্মদ আলাউদ্দিন এইচএসসি পরীক্ষার্থী- ২০১৩ ইং বিভাগ-বিজ্ঞান, নাঙ্গলকোট হাছান মেমোরিয়াল ডিগ্রী কলেজ, নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা। আগামী নির্বাচন হবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন একটি প্রক্রিয়ামাত্র, যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেছে নেয়া হয় নির্দিষ্ট প্রতিনিধি। এই প্রতিনিধিদের কাজ হচ্ছে সাধারণ জনতার সুখ-দুঃখ নিয়ে চিন্তা করা এবং তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করা। কিন্তু আমাদের প্রতিনিধিরা কি তা করছে ? হয়তোবা করছে, নয়তোবা না ! তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, সাধারণ জনতার অধিকার তখনই নিশ্চিত হবে যখন নির্বাচিত হবে সত্যিকার জনদরদী। আর এজন্য দরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হতে দরকার একটি শক্তিশালী এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন। তাই, আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, আগামী নির্বাচন হতে হবে একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশনের অধীনে এবং এজন্য দরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধীদলীয় নেত্রীর সহযোগিতা আর এটা তখনই সম্ভব যখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর এক সঙ্গে বৈঠক হবে। তারেক রহমান স্নাতক সম্মান ( বাংলা ) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর, বাংলাদেশ ।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন