সোমালিয়ায় ফরাসি অভিযানকে সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:২৫
সোমালিয়ায় ফরাসি অভিযানকে সমর্থন দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, দেশটিতে জিম্মি ফরাসি গোয়েন্দাকে উদ্ধার করতে মার্কিন বাহিনী সীমিত পর্যায়ে ফ্রান্সকে কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে। এ লক্ষ্যে মার্কিন বিমান সোমালিয়ার আকাশে গেলেও তারা কোন হামলা চালায়নি। তবে বিষয়টি নির্ভর করছে ফরাসি সরকারের ওপর, যদি তারা মনে করেন যে, তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন তাহলেই পাশে দাঁড়ানো হবে। এদিকে মালির বিদ্রোহী ঘাঁটিতেও হামলা অব্যাহত রেখেছে ফ্রান্সের বিমানবাহিনী। এই হামলায় কমপক্ষে ১১ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। রবিবার কংগ্রেসে দেয়া এক চিঠিতে ওবামা বলেন, মার্কিন যুদ্ধ বিমান সোমালিয়ায় গেছে ওই ফরাসি গোয়েন্দাকে উদ্ধারে সহযোগিতার জন্য। গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে যেখানে আটক রাখা হয়েছে; সেখানে চালানো হামলায় আমেরিকা সরাসরি অংশগ্রহণ করেনি। তিনি বলেন, সৈন্যরা শুক্রবারে সোমালিয়ায় ফরাসি অভিযানে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করেছে। আর এই সহযোগিতা শুধু জিম্মি উদ্ধার অভিযানের জন্য। বারাক ওবামা কংগ্রেসে আইনপ্রণেতাদের কাছে ওই চিঠি দিয়েছেন এই কারণে যে দেশটির নিয়ম অনুযায়ী কোন দেশে কংগ্রেসের অনুমতি ছাড়া অভিযানে গেলে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তা কংগ্রেসকে অবহিত করতে হয়। তিনি বলেন, মার্কিন বিমানগুলো সোমালিয়ার আকাশসীমায় অল্প সময়ের জন্য প্রবেশ করলেও কোনো অস্ত্র ব্যবহার করেনি। এছাড়া মার্কিন স্বার্থরক্ষার জন্য এ অভিযানে ফরাসি বাহিনীকে সহায়তা করা হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন ওবামা। সোমালিয়ায় ফরাসি গোয়েন্দা জিম্মিকে মুক্ত করতে তৃতীয় দিনের মতো রবিবারও জঙ্গিগোষ্ঠী আল-শাবাবের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায় ফ্রান্স। এতে অন্তত আটজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ওই জিম্মিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ফ্রান্স সোমালিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় হামলা চালালে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। ফরাসি কর্মকর্তারা জানান, ওই উদ্ধার অভিযানে একজন ফরাসি কম্যান্ডো নিহত হয়। ফরাসি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, এতে ১৭ সোমালিও নিহত হয়েছে। রয়টার্স জানায়, সামরিক অভিযানকালে ফ্রান্সের হেলিকপ্টারের এক পাইলটও নিহত হন। লেফটেন্যান্ট দামেইন বইতিয়ক্স নামে এ পাইলটের নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন ফ্রান্সের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিন-ইভেস লি দ্রিয়ান। মালির উত্তরাঞ্চলীয় শহর কন্নাতে তরেগ গেরিলাবিরোধী সামরিক অভিযান চালানোর সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তরেগ গেরিলারা গত বৃহস্পতিবার উত্তরাঞ্চলীয় কৌশলগত কন্না শহর দখল করে নেয়ার পর শুক্রবার ফ্রান্স সরকার মালিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করে এবং প্রথম দফাতেই বিমান হামলা চালায়। এতে গেরিলারা কন্না শহর থেকে পিছু হটে যায়। তবে পরে মালির সেনাদের সঙ্গে গেরিলাদের প্রচণ্ড সংঘর্ষ হয়।