দেশের মানুষ এই মুহূর্তে কি চাচ্ছেন? রাজনৈতিক সংকট নিয়ে তারা কি ভাবছেন? তারা হরতাল, মারামারি, জ্বালাও, পোড়াও চাচ্ছেন না একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চাচ্ছেন? এসব নিয়ে যদিও টেলিভিশন টক শোতে বিস্তর আলাপ-আলোচনা হচ্ছে কিন্তু তাতে করে কারো টনক নড়ছে বলে মনে হয় না। তাছাড়া টেলিভিশনে যেসব সাবেক আমলা-বুদ্ধিজীবীসহ কিছু পোড়খাওয়া রাজনীতিক ব্যক্তি আলোচনা করেন তাদের সে আলোচনাও ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা আংশিক। অর্থাত্ তাদের সেসব আলোচনা সামগ্রিক বলা বলে না। কারণ ঐসব ব্যক্তিবর্গের অধিকাংশই বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাদের পদচারণা নেই। দেশের গ্রাম-গঞ্জ, থানা, ইউনিয়ন, মফস্বল শহরসহ প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে কথা বললে তারা অবাক হওয়ার মত কথা বলেন। তারা যত সঠিক এবং সাবলীলভাবে সরকারের স্বার্থকতার কথা, ব্যর্থতার কথা বলেন তা রাজধানীকেন্দ্রিক মতলবাজ মানুষের কথা হতে সম্পূর্ণ ভিন্নতর। গ্রামের একজন চাষি জানালেন, তার ছেলে-মেয়ে নতুন বই হাতে যখন স্কুলে যায় তখন প্রাণটা ভরে যায়, তার ক্ষেত যখন ফসলে ভরে ওঠে তখন তার নয়ন জুড়ে যায়। এসবকে তিনি সরকারের সাফল্য হিসেবেই দেখেন। আবার যখন দেখেন যে, তার এলাকার এমপি একটি উন্নয়ন কাজে কাবিখা প্রকল্পে গম বরাদ্দ করেছেন এবং সেই এমপির পিএ (সাগরেদ) সেই গম কম দাম ধরে কিনে নিয়ে উন্নয়ন কাজে কম টাকা দিয়েছেন এবং সেই কম টাকা হতেও অর্ধেক টাকার কাজ হয়েছে তখন তার মনটা কেঁদে ওঠে। তিনি জানান, এভাবে গরিবের টাকা মেরে খাওয়া ঠিক নয়। আর এসব কথা শুনলে মনে হয় উন্নয়ন আর দুর্নীতি সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলেছে। এক্ষেত্রে দুর্নীতিটাকে অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পারলেও সরকারের সুনাম বৃদ্ধি পাবে বলে সকলের ধারণা। যাক সে কথা। যা বলতে শুরু করেছিলাম তাই বলি। দেশের মানুষের কথা, সরকার এবং বিরোধী দলের কাছে তাদের চাওয়া-পাওয়ার কথা বলি। এসব চাওয়া-পাওয়ার একটি সহজ সমীকরণ করলে দেখা যাবে তারা সরকার এবং বিরোধীদল উভয়কেই দাম্ভিকতা ত্যাগ করে নমনীয় হতে বলছেন। সরকার এবং বিরোধীদল উভয়কেই কিছু ছাড় দিয়ে সামনে একটি সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচনের প্রত্যাশা করছেন দেশের মানুষ। গ্রামের একজন স্বশিক্ষিত বর্ধিষ্ণু কৃষক (মাতব্বর) জানালেন, সরকারি দল বিরোধী দলের কাছে দূত পাঠালেই পারেন। উল্লেখ্য, এই কৃষক ভদ্রলোক বঙ্গবন্ধুর একনিষ্ঠ ভক্ত। তিনিও বর্তমান সংকটের গ্রহণযোগ্য সমঝোতা চান। আবার একজন প্রাইমারী স্কুল শিক্ষক যিনি বিএনপির সমর্থক, তিনি বললেন সরকার কঠোর হলে বিরোধী দলও হরতাল, ভাঙচুরের মত কঠোর কর্মসূচি দিবেন এবং তাতে জামায়াত সুবিধা পেয়ে যাবে। এ অবস্থায় তিনি সরকারের কঠোরতা এবং বিএনপির হরতাল কোনটিই সমর্থন করেন না। তিনি বললেন, হরতাল ডাকলেই স্কুল বন্ধ থাকে এবং এতে করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হয়। আমি গ্রামের একটি কলেজের শিক্ষার্থীদের অল্প কিছু বৃত্তি দেই। ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু প্রত্যাবর্তন দিবসে সেখানে গেলে তরুণ অধ্যক্ষ জানালেন বঙ্গবন্ধুর মত নেতার অভাবেই দেশের এই অবস্থা, জানি না দেশ কবে এসব ধান্দাবাজ নেতাদের হাত হতে উদ্ধার পাবে! এখানেই লেখাটির পাদটীকা টানব। কারণ এখানে আরো বিস্তারিত বলার সুযোগ নেই। পাদটীকায় প্রধান দুই দলীয় প্রধানের কাছে এবং তাদের যারা পরিচালনা করেন তাদের কাছে উপরোক্ত ব্যক্তিবর্গের বক্তব্য তুলে ধরে অনুরোধ করবো, দেশের মানুষ কিন্তু কাজ করে খায় এবং তারা কাজকাম করে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভাল থাকতে চায়। এদেশ আমার আপনার নয়, এদেশ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষের। দেশের এই সন্ধিক্ষণে তাই আপনাদের প্রতি সাবধান বাণী উচ্চারণ করে বলবো, দয়া করে দেশের মানুষের কথা ভাবুন, তাদের কাজ করে খেতে দিন! প্লিজ।
লেখক :মুক্তিযোদ্ধা, কলামিস্ট
