সামরিক সম্পর্ক জোরদারে একমত চীন-ভারত

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২১
শক্তিশালী সামরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে একমত হয়েছে চীন-ভারত। সোমবার চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে দুইদেশের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে এক বৈঠকে তারা ঐক্যমতে পৌঁছে। এদিকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিব শংকর মেনন বিরোধী নেতা অরুন জেতলি ও সুষমা সরাজের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এতে সামপ্রতিক কাশ্মীর সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে ভারতীয় সৈন্য নিহত হওয়ার পর যে উত্তেজনা চলছে তা নিয়ে আলোচনা হয়। খবর সিনহুয়া ও এনডিটিভির। চীনের কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান জু কিলিয়াংয়ের সঙ্গে ওইদিন ভারতের প্রতিরক্ষা সচিব শশিকান্ত শর্মার বৈঠক হয়। বৈঠকে উভয় দেশ তাদের সামরিক সম্পর্ক জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে। এ সময় জু কিলিয়াং বলেন, বিশ্বের মধ্যে বৃহত্তম দুটি উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে চীন-ভারত একে অপরের প্রতিবেশী। এ জন্য দুই দেশের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে উভয়ের মধ্যে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে। কেননা পারস্পরিক এ সহযোগিতা উভয়ের উন্নতি সাধনে গুরুত্বপূণ ভূমিকা রাখবে। জু বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন যে, দুই দেশের যথেষ্ট জ্ঞান এবং সামর্থ্য রয়েছে এ সম্পর্ককে ধরে রাখতে। আর এ সম্পর্কই উভয়ের উন্নয়ন ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শক হবে। জু আরো বলেন, চীন ভারতের সঙ্গে এ সামরিক সম্পর্ককে সবসময়ই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে। তিনি আশা করেন, এ পারস্পরিক বিশ্বাস উভয়ের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বৃদ্ধিতে এবং বাস্তবসম্মত সহযোগিতার ক্ষেত্রে শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি শশি বলেন, ভারতও চীনের সঙ্গে এ সম্পর্ককে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি যে এর মাধ্যমে উভয় দেশের ভবিষ্যত সামরিক সম্পর্ক আরো মজবুত হবে। এদিকে গতকাল ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিব শংকর মেনন বিরোধী নেতা অরুন জেতলি ও সুষমা সরাজের সঙ্গে বৈঠকে সামপ্রতিক কাশ্মীর সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ রেখার (লাইন অব কন্ট্রোল) কাছে ভারতীয় সৈন্য নিহত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে সুষমা সরাজ বলেন, ভারত যদি পাকিস্তানিদের হাতে মাথা কেটে নেয়া তাদের সৈন্য ল্যান্স নায়েক হেমরাজ সিংহ এর মাথা ফেরত আনতে না পারে তাহলে এর পাল্টা ব্যবস্থা হিসাবে ভারত ১০ পাকিস্তানি সৈন্যের মাথা নিয়ে আসবে। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আজ আমাদের অবশ্যই প্রতিশোধ নিতে হবে। আর এটা করতে না পারলে এ দুর্বল সরকারকে কখনোই দেশবাসী চাইবে না। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহও বিষয়টি নিয়ে দুই নেতার সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সেসময়ে মনমোহন সিং তাদের বলেন, কোন কিছুই আপনাদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া করা হবে না।