সাধারণভাবে ধরে নেয়া হয়, যেসব দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল, শিক্ষার হার কম, লিঙ্গ বৈষম্য সেসব দেশেই ভ্রূণ হত্যা বেশি। এ ধারণা অনেকটাই ঠিক হতে পারে, তবে পুরোপুরি নয়। ইউরোপেও কন্যা শিশু জন্মের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমছে।
আলবেনিয়ায় ১১২ জন ছেলে জন্ম নিলে মেয়ে জন্ম নেয় ১০০জন। কসোভো আর মন্টেনেগ্রোয় অবস্থা একটু ভালো। সেখানে গড়ে ১০০ জন মেয়ের পাশাপাশি জন্ম নিচ্ছে যথাক্রমে ১১০ ও ১০৯ জন ছেলে। সমাজে মেয়ের সংখ্যা এ হারে কমতে থাকলে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে এ নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে অনেকদিন ধরে। তবে ইউরোপীয় সংসদীয় পরিষদ পিএসিই বা পেস-এ সুইজারল্যান্ডের প্রতিনিধি ডোরিস স্টাম্প তুলে ধরেছেন নতুন একটা সমস্যার কথা। তার মতে, সমাজে মেয়ের সংখ্যা কমলে পতিতাবৃত্তি বাড়বে, বাড়বে মেয়ের জোর করে বিয়ে দেয়া এবং আত্মহত্যার ঘটনা। কিন্তু এসব কথা তো এশিয়া বা আফ্রিকার কিছু উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত দেশের বেলায় প্রযোজ্য। ইউরোপেও কেন এই চিত্র? ইউরোপীয় সংসদে জার্মানির সবুজ দলের প্রতিনিধি ফ্রান্সিসকা ব্রান্টনার যা বললেন, তাতে ইউরোপের ওই দেশগুলোর সঙ্গে এশিয়া বা আফ্রিকার দেশগুলোর খুব বশি পার্থক্য নেই। তার মতে, ইউরোপের কিছু দেশে কন্যা শিশুর জন্মহার কমছে মূলত দারিদ্র্য, সাধারণ মানুষের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে কম আগ্রহ এবং কুসংস্কারের কারণে। আলবেনিয়া, কসোভো এবং মন্টেনেগ্রোর মতো কিছু দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা যে ভালো নয় এটা সবারই জানা। ফ্রান্সিসকা ব্রান্টনারের কথায় বেরিয়ে এসেছে আরেকটা সত্য- ওসব দেশেও অনেক মানুষই মনে করে ছেলেই জ্বালিয়ে রাখবে বংশের প্রদীপ। সেই প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখা নিশ্চিত করতে মায়ের পেটে কন্যা সন্তান এসেছে জানা মাত্রই নেয়া হয় গর্ভপাতের ব্যবস্থা। ‘আল্ট্রাসাউন্ড’-এর সুবিধা নিয়ে মেয়ে ভ্রূণ চিহ্নিত করে এই কর্মটি বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, চীন, কোরিয়ার মতো করে ইউরোপের কিছু দেশেও তাই হরদম চলছে ভ্রূণ হত্যা।
