নির্বাচন নিয়ে ভাবনা

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:১১
অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য উভয় দলকেই ছাড় দিতে হবে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো মধ্যে যে ভাবনা বিরাজ করছে তাতে শঙ্কিত হতে হয়। আগামী নির্বাচন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নাকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে তা অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। একটি দেশ কিভাবে পরিচালনা হবে তার বিধিবিধান সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও শুধুমাত্র রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে দেশের মধ্যে অসহিষ্ণুতা বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে। দেশের নির্বাচন কমিশন স্বাধীন হওয়ার কথা, দুর্নীতি দমন কমিশন স্বাধীন হওয়ার কথা, বিচারবিভাগ স্বাধীন হওয়ার কথা, সুশাসন নিশ্চিত হওয়ার কথা কিন্তু আমাদের এ প্রতিষ্ঠানগুলো আদৌ কি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে? তাহলে কিভাবে একটি দেশের নির্বাচন ক্ষমতাসীন দলের অধীনে হবে? যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে যে দল আন্দোলন মিছিল করে রাজপথ প্রকম্পিত করেছিল এখন কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে তাদের বাধে। দেশে আইনের শাসন না থাকার দরুন যে সুফল পাওয়ার কথা তা কেউ পাচ্ছে না। রাজনীতিতে এখন চলছে দমন নীতি। যে দল ক্ষমতায় থাকবে তার কাজ হবে বিরোধী দলকে কিভাবে কুক্ষিগত করে রাখা যায় সে প্রচেষ্টা করা। তাই সত্যিকার অর্থে আমাদের দেশে এখনও গণতন্ত্রের কোন সঠিক চর্চা হয়ে ওঠেনি। সরকার যে কঠোর হয়েছে তাতে রাজনীতিতে আরো বড় ধরনের সংঘাত সংঘর্ষ বাড়বে বলেই মনে হচ্ছে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার বিকল্প কিছু আছে বলে মনে হয় না। সাবিকুন্নাহার চাঁদনী এইচএসসি প্রথম বর্ষ, বিজ্ঞান বিভাগ, সরকারি হরগঙ্গা কলেজ, মুন্সীগঞ্জ আগামীদিনের নির্বাচন নিয়ে দেশে দেখা দিতে পারে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি আগামীদিনের বাংলাদেশের নির্বাচনী অবস্থা যে কেমন হবে; কে করবে এ দেশ সঠিক পরিচালনা; তা দেশের সাধারণ মানুষের বোধগম্য নয়। প্রধান রাজনৈতিক দুই দলের ব্যর্থতার কারণে অসহায় আমাদের দেশের সাধারণ মানুষগুলো। নির্বাচনের আগে নানা প্রলোভন দেখিয়ে ভোট সংগ্রহে ব্যস্ত থাকে, নানা ধরনের চাপাবাজি করতে থাকে, কিন্তু উদ্দেশ্য একটাই, তা হাসিল হলেই হলো, দেশের সাধারণ মানুষগুলো বাঁচলো না মরলো তা দেখার দরকার নেই। কোন দল চায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন আবার কোন দল চায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই হতে হবে নির্বাচন। এ কেমন রেষারেষির ভাব? এদিকে বিরোধী দলীয় নেত্রী বলছেন দেশ রক্ষায় এবার আরেকটি সংগ্রাম করতে হবে। এমতাবস্থায়, কেমন হতে পারে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি। তাই আগামী নির্বাচন নিয়ে রেষারেষির মনোভাব ছেড়ে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি নির্বাচন হোক, যা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এবং দেশবাসীর জীবনে বয়ে আনবে মঙ্গলের বার্তা। স্বরূপ কুমার রায় প্রথম বর্ষ, অর্থনীতি বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল নির্বাচন হতে হবে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিশেষ করে রাজনীতিবিদরা এরই মধ্যে বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা শুরু করে দিয়েছেন। সবার আমলনামা জনগণের সামনে প্রকাশের চেষ্টা করছেন। জনগণও এর হিসাব নিকাশ করছেন। আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে বড় দুটি দলের দলীয় প্রধানরা যেভাবে একে অপরকে দোষারোপ করে প্রচার চালাচ্ছেন তাতে মনে হচ্ছে সামনের পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চায়। কিন্তু আওয়ামী লীগ দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে চায়। এ নিয়ে দু’দলের মধ্যে মতপার্থক্য বিদ্যমান। তাই সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দকে উদ্যোগী হয়ে তাদেরকে একত্রে বসিয়ে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার ফলপ্রসূ সমাধান করতে হবে। তা না হলে দেশ এক ভয়াবহ সংকটের মধ্যে পড়ে যাবে। তাই নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয় সে লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা উচিত। মো. শাহিন হোসেন চৌধুরী এম এস এস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান), কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা সরকারের কর্তব্য হলো সুষ্ঠু একটি নির্বাচন করা গণতান্ত্রিক দেশে জনগণই সকল ক্ষমতার উত্স। আর জনগণের ক্ষমতা প্রয়োগের প্রধান মাধ্যম হলো জাতীয় নির্বাচন। যদি জাতীয় নির্বাচনে দেশের সকল শ্রেণির মানুষ অংশগ্রহণ করতে না পারে, তাহলে বুঝতে হবে দেশে সত্যিকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই আমি বলতে চাই দেশ জাতির স্বার্থে সরকারি দলকে বুঝতে হবে যে, বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে ১৮ দলীয় জোটের অংশগ্রহণ ছাড়া জাতীয় নির্বাচন সম্ভব নয়। সুতরাং বিরোধী দলসমূহের দাবিগুলো মেনে নিয়ে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করবে এই আমার প্রত্যাশা। ওমর ফারুক (শান্ত) হাজীরহাট ডিগ্রি মাদ্রাসা, স্নাতক ১ম বর্ষ (রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ), হাজীরহাট, কমলনগর, লক্ষ্মীপুর দুই নেত্রী বসে সিদ্ধান্ত নেবেন কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে নিদর্লীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুই বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে দ্বিমত পোষণ করে আসছেন ও বিপরীতমুখি হয়ে একটি সংঘাতময় রাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সাথে আওয়ামী লীগের খোলামেলা আলোচনায় বসা দরকার। যেহেতু নির্বাচন হতে হবে নিদর্লীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। এটা নিয়ে আলোচনা করে ঐক্যমতে পৌঁছতে হবে। কেউ কেউ তৃতীয় শক্তির কথা বলছেন। তাতে কোন লাভ হবে না। বরঞ্চ দুই বড় দলকে একটা সমঝোতার মাধ্যমে এসে ঠিক করতে হবে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করছি দেশের যে পরিস্থিতি তাতে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। ২০১৩ সাল সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের বছর। প্রত্যেক দেশে গণতান্ত্রিক জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমেই সরকার গঠিত হয়। আমাদের দেশেও তাই হওয়া উচিত। সরকারের মেয়াদ শেষে হলে পরবর্তী নির্বাচনের পূর্বে সংসদ ভেঙে দিতে হবে। গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচনের সময় এক ধরনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকে। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও সুন্দর হয় তাহলে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা পর্যন্ত এই নির্বাচনকে নিঃসন্দেহে পছন্দ করবে। আরো একটি বিষয় হচ্ছে দুই বড় দল যখন সমঝোতায় আসছে না কোনভাবে তখন জনগণকে নিয়ে একটি গণভোটের আয়োজন করা যেতে পারে। আমরা চাই একটা সুষ্ঠু সুন্দর অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। শুধু দেশের মানুষ সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায় না বিদেশিরাও চায় একটি সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন। জনগণই ভোটের মালিক এটার রায় জনগণই দেবেন। তবে এটাও ঠিক সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সংলাপ জরুরি হয়ে পড়েছে। রোকসার আন্নুর ১ম বর্ষ, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন