টেলিফোনে পাঠকের মতামত

আওয়ামী লীগ ১০০ পেলে বাকি আসনগুলো কার

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০১
জাপার চেয়ারম্যান নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে যে মন্তব্য করেছেন তা আমি মনে করি ঠিক নয়। যেহেতু এ ব্যাপারে যদি দেশে একটি সাধারণ ভোটের বা গণভোটের ব্যবস্থা করেন নির্বাচন কমিশন তাহলে ১৬ কোটি মানুষ স্বস্তি পাবে। যেহেতু দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির যে কঠিন অবস্থা, তা অচিরেই অবসান হওয়া দরকার। সৈয়দ নাসরিন সুলতানা স্যানি সাইড, নিউইয়র্ক সরল বিশ্বাসী নতুন ভোটারদের ধোঁকা দেয়া? নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষণা করা হয়েছিল ক্ষমতায় গিয়ে দুদক, নির্বাচন কমিশন, গণমাধ্যম, তথ্য অধিকার আইন, বিচার বিভাগ ও জনগণের ভোটের অধিকারের স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে এবং ঘরে ঘরে চাকরি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি দমন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ক্রসফায়ার, নারী ধর্ষণ, যানজট, দুর্ঘটনা, দুঃশাসন সর্বোপরি অপরাজনীতি বন্ধ করে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা হবে। কিন্তু বর্তমানে আমরা কী দেখছি? চারদিকে হত্যা, গুম, খুন, অপহরণ, খাদ্যে ভেজাল, মূল্যস্ফীতি, বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পেটোয়া বাহিনী দ্বারা নিরীহ বিশ্বজিেক রাজপথেই হত্যা করা। আবার পুঁজিবাজারের ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীর ৯০ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক, যুবক, ডেসটিনি, হলমার্ক ও আইপি কেলেঙ্কারির মাধ্যমে কয়েক লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করে স্থবির করা হয়েছে অর্থনীতিকে। শিক্ষকদের গরমপানি ও লাঠিপেটা করে হতাহত করা হয়েছে। দফায় দফায় জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনদুর্ভোগের নজির সৃষ্টি করা হয়েছে। এর জবাব ব্যালটের মাধ্যমে আগামীতে দিয়ে বর্তমান সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ফলাফল উলটে ফেলবে জনগণ। যা থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকারের উচিত এখনই ভুলগুলো সংশোধন করা। কামরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর রিকাবী বাজার, মুন্সীগঞ্জ বিএনপি ১৬০ থেকে ১৭০ আসন, আওয়ামী লীগ পাবে ১০০ থেকে ১১০, জাতীয় পার্টি ১৫টা জামায়াত ৫টা, আর অন্যান্য দল ১০টা আসন পাবে বলে আমি মনে করি। রাশেদুল ইসলাম সরিষা বাড়ী, জামালপুর নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ একশ আসন পাবে না বলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ যে উক্তি করেছেন; তা আগামী জাতীয় নির্বাচনে জনগণ ভোটের মাধ্যমে প্রকাশ করবে বলে আমি মনে করি। আগামী জাতীয় নির্বাচন হতে হবে সকল দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, পেশীশক্তি, কালো টাকা মুক্ত। দেশের জনগণকে নির্বাচিত করতে হবে সত্, যোগ্য প্রার্থীকে। মো. লিটন গাজী দক্ষিণ টেংরা, সারুলিয়া, ডেমরা, ঢাকা ১২০৫ আমার মতে নির্বাচন নিয়ে ভাবনা কেন এত আগেই। বর্তমান সরকার এক শ আসন পাবে এটা বলা যাবে না। তবে আমি বলবো, বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া কথা রাখতে পারেননি। তাদের সফলতা ও ব্যর্থতা আছে। তবে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী। মুজিব উত্তরা, ঢাকা নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ এক শ আসন পেলে বাকীগুলো জাতীয় পার্টি পাবে বলে আমি মনে করছি। নাসির আল আমিন লালবাগ, ঢাকা এই মুহূর্তে কিংবা সময়মত নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ৭০ থেকে ৮০ আসনের বেশি পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। আর জাতীয় পার্টি আলাদা নির্বাচন করলে ১০ থেকে ১৫ আসন পেতে পারে, বাকি সব আসনে বিএনপি তথা ১৮ দলীয় জোটের জয়ের সম্ভাবনা আছে। তা মহাজোট সরকার অনেক আগেই বুঝতে পেরেছেন বলেই নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন না দেবার জন্য অনড় অবস্থান নিয়েছেন। দেশে এমুহূর্তে শক্তিশালী তৃতীয় কোন দল নেই যে জনগণ বেছে নেবে। বর্তমান সরকারের জন সমর্থনে বিরাট একটা ধস নেমেছে। দুর্নীতি, দুঃশাসন, খুন, রাহাজানি, গুম, ধর্ষণ বর্তমানে মহামারি আকারে রূপ নিয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম অস্থিরতা ও স্থবিরতা বিরাজ করছে। সব মিলে দেশের অবস্থা চরম নাজুক। মো. শাহ্ আলম খান সরল, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম আমি মনে করি সুষ্ঠু, সুন্দর নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ একশ-র অনেক নিচে থাকবে। বাকিগুলো বড় দল বিএনপি ও সামান্য কিছু অন্য দলগুলো পাবে। নীলুফা আক্তার টোলারবাগ, মিরপুর, ঢাকা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাপার চেয়ারম্যান বলেছেন, আওয়ামী লীগ এক শ আসন পাবে। আমি বলবো তার চেয়েও কম পাবে। বাকি আসনগুলো বিএনপি- জামায়াত পাবে। মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদ উল্লাহ মিরপুর, ঢাকা নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ এক শ পাবে না বলে জাপার চেয়ারম্যান মন্তব্য করেছেন কীভাবে, তা আমাদের বোধগম্য নয়। কর্মেই মানুষের পরিচয়। জন্ম হোক যথা তথা কর্ম হোক ভালো আমরা জানি। যে যা ভালো করবে সে তার ফল পাবে। কাউছার আকন্দ মতিঝিল, ঢাকা। আমার মতে জাপা ও আওয়ামী লীগ এক শ আসন পাবে। বাকি ২০০ আসন বিএনপি ও জামায়াত পাবে বলে আমার বিশ্বাস। আবদুস সালাম বুয়েট, ঢাকা আমার মতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাকি ২০০ আসন পাবে জামায়াতে ইসলামী দল। আমিন, গুলশান, ঢাকা নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ এক শ আসন পাবে না উক্তি করেছেন জাপার চেয়ারম্যান। আমি বলবো ওনার কথার মধ্যে কোন মিল নেই। তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কথা বলেন। গত মঙ্গলবার রংপুরে এক জনসভায় তিনি বলেছেন, ছাত্রলীগ/যুবলীগের হাত থেকে মানুষ আজ মুক্তি চায়। এজন্য আগামীতে তারা এরশাদকে ক্ষমতায় দেখতে চায়। তিনি বলেছেন, একা নির্বাচন করবেন। তিনি বলেছেন, এ সরকারকে মানুষ আর চায় না। কিন্তু কথা হচ্ছে তিনি একা নির্বাচন করলে ক’টি আসন পাবেন? তিনি কি তা জানেন? এদেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন। আর বিএনপি তথা ১৮ দলীয় জোটের সম্ভাবনাই বেশি। আর অন্য দলসমূহ অনেক নিচের দিকে থাকবে। লাড্লা ধানমন্ডি, ঢাকা জাপার চেয়ারম্যান জ্যোতিষী নন যে, আওয়ামী লীগের নির্বাচনের আসন নির্ধারণ করেছেন বলেছেন বলে মেনে নিতে হবে। নির্বাচনের পরেই দেখা যাবে কে কতটা আসন সংখ্যা ধরে রাখতে পারে? দেশের মঙ্গলের জন্যই রাজনীতিবিদগণ কাজ করে থাকেন। সে কাজে যদি অবহেলা করা হয় তাহলে বেশি আসন পাবে না এটা সবাই জানে। সুতরাং আমরা আশা করবো আওয়ামী লীগ যেন দেশের কাজে আরো মনোযোগী হয়। তাই আসন নিয়ে চিন্তা করলে কাজ হবে না। দায়িত্ব পালন করতে হবে। আশা এলিজাবেত গোমেজ লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ এক শ আসন পাবে না। নির্বাচন হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন হলে কোন্ দল কত আসন পাবে কি পাবে না এ ধরনের মন্তব্য না করে আমরা দেখতে চাই যার যার দলের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে জনগণের জানমাল রক্ষার্থে রাষ্ট্রকে সবার উপরে প্রাধান্য দেয়া। নির্বাচন যেহেতু একটা সরকারের দায়িত্বশীল কর্তব্য সেহেতু জনগণের ক্ষমতাকে অপব্যবহার করে এ ধরনের বক্তব্য না দিয়ে দেশকে একটি উন্নয়নশীল এবং টেকসই দেশে পরিণত করা হোক। মো. রমিজউদ্দিন সরকারি বিএম কলেজ, মুসলিম হল, বরিশাল আমার মত হলো নির্বাচন হলে এক শ আসনও পাবে না আওয়ামী লীগ তাদের কার্যকলাপের জন্য এবং দেশের আর্থিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কারণে। আলাউদ্দিন আহমদ, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা আমার মতে জাপার চেয়ারম্যান সত্য কথা বলেছেন। তবে আওয়ামী লীগ সরকার ৫০টা আসন পাবে না। কারণ আজকের প্রধানমন্ত্রী ৫টি আসন থেকে নির্বাচিত হতে পারেননি এবং তিনি কেন পারেননি তা আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেছিলেন শেখ হাসিনার জিহবা তার প্রধান শত্রু। তার মধ্যে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, চাপাতি লীগ ইত্যাদির কারণে মানুষ আজ মহাজোটের সরকারের উপর মহানাখোশ। বিশেষ করে তিনি বলেছিলেন কোরান সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন করবেন না। কিন্তু আমরা দেখলাম ক্ষমতায় এসে সংবিধানে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থার বিশ্বাস কথাটি তুলে দিয়েছেন। যা মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত হেনেছে। তিনি বিশ্বখ্যাত দুর্নীতিবাজ সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে দেশপ্রেমিক হিসাবে আখ্যায়িত করেছেন। কাজী নিজামউদ্দিন গুলশান, ঢাকা বর্তমান সরকারের সফলতার চেয়ে ব্যর্থতার ভার বেশি। তাঁরা যেভাবে দেশ পরিচালনা করছেন তাতে দেশবাসী নাখোশ। আর যতটুকুই সফলতা আছে তাতে ছাত্রলীগ, যুবলীগের নৈরাজ্য আর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ম্লান হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষ তাদের উপর সন্তষ্ট নয়। বর্তমান মহাজোট যদি এককভাবে নির্বাচন করে তাহলে সীমিত সংখ্যক আসন পাবার সম্ভাবনা বেশি। মনির হোসেন ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়, ধানমন্ডি, ঢাকা বাকি আসনগুলোর কিছু অংশ জাপা চেয়ারম্যান নিজের দল পাবে। আর কিছু অংশ অন্যরা পাবে। আবদুল মালেক আড়াই হাজার, নারায়ণগঞ্জ এরশাদ সাহেব কখন কী বলেন তার কোন ঠিক থাকে না। কখনো বলেন হরি। কখনো বলেন রাম। কাজেই তিনি কীভাবে আওয়ামী লীগকে নিয়ে মন্তব্য করেন? মোহাম্মদ পারভেজ তালুকদার ত্রিশাল, ময়মনসিংহ মনে বড় ব্যথা নিয়ে চির সবুজ নায়ক জাপা’র চেয়ারম্যান এমন ধরনের উক্তি করেছেন। তার ক্ষোভের কারণ তারই লাঙ্গল দিয়ে ফসল ফলানো হচ্ছে আর অন্যজন তা নৌকায় তুলে নিয়ে গিয়ে ভোগ করছেন এটি হতে পারে না। এবার নৌকার মালিক যদি তার মাঝিকে দিয়ে এরশাদের কানে কানে মন্ত্রণা দেয় পাগল— লাঙ্গল, তোমাকে আগামীতে নিধিরাম সর্দাররূপী প্রেসিডেন্ট বানানো হবে। তবে আমাদের মনে হয় লাঙ্গলের পাগল আগাম আসন বণ্টন করা হতে যেমন বিরত থাকবে তেমনি নৌকায় আর না ওঠার হুমকি-ধমকি দেয়াও বন্ধ করে দেবে। তাই সকালে এক কথা আর বিকেলে আরেক কথা যিনি বলেন তার কথায় আমাদের কানাকানি আর আসন নিয়ে ভাগ-বাটোয়ারা বণ্টন না করাই ভালো। মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা বর্তমান প্রেক্ষাপটে ১০০ আসন আওয়ামী লীগের পাওয়াটাও কঠিন হয়ে যাবে। কেননা যে সরকার বাম রাজনীতিবিদদের ডানপন্থি করে বিশাল অর্থ-সাম্রাজ্যের মালিক করেন তাদের জনগণের রায় পাওয়াটা খুবই কঠিন। তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সামনে নির্বাচনে যে ক’টি আসন পাক না কেন সেটি পাবে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দল হিসাবে। তবে জাপা চেয়ারম্যানের এক শ আসনের যেই হিসাব-নিকাশ এটি করেও তিনি আবার প্রমাণ করেছেন তিনি একজন স্বৈরশাসক। আমাদের ভয় হয় স্বাধীনতার এতোদিন পরও নির্বাচক বা দলের প্রধানদের হিসেব-নিকেশে কি আমাদের আসন বণ্টন হয়? না জনগণের ভোটে? আবদুল্লাহ্ আল মিঠু নারায়ণগঞ্জ আমার মতে, আওয়ামী লীগ ত্রিশটার বেশি আসন পাবে না, এক শটি নয়। এক্ষেত্রে বাকি আসনগুলো অন্য দলেরা পাবে। অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহার দুমকি, পটুয়াখালি প্রবাদ আছে— নেড়া একবার বেল তলায় যায়; কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রাপ্তবয়স্ক ভোটারদের মাথায় চুল থাকুক আর না থাকুক তাদের বেল তলা দিয়ে হাঁটতে হয়। প্রতিশ্রুতি আর প্রত্যাশার ১২ হাত দেখিয়ে ’৯০-এর পর দুই দল পালাক্রমে ক্ষমতায় ছিল। যোগ-বিয়োগ করে দেখার বিষয়— কে কী দিয়েছে, আর কী নিয়েছে? দেশে এখনো বিভিন্ন দলের বেশ কিছু সত্যিকারের রাজনীতিবিদ আছেন তাদের সাথে করে নিরপেক্ষ দল গঠন করতে পারলে জাপার নেতার ভাগে অনেক কিছুই আসতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে জাপার দল থেকে বের হয়ে আসতে হবে। প্রয়োজনে তৃতীয় কোনো দল গড়তে পারেন তিনি। তাহলে দেখা যাবে বর্তমান সরকার কত আসন পায়? তবে অবশ্যই নির্বাচন হতে হবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। রহিমা আক্তার, তেজগাঁও, ঢাকা বাকিগুলোর মধ্যে ২০টি জাতীয় পার্টি, ১০টি জামায়াত আর বাকিগুলো বিএনপি পাবে। মাইনউদ্দিন, মালিবাগ আমার মনে হয় আওয়ামী লীগ এক শ’ কেন, দুই শ’র উপরে পাবে। আর বাদ বাকিগুলো অন্যরা পাবে। জয়নাল আবেদীন কামাল, সিলেট একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ একটি দল সম্পর্কে এরকম সরাসরি মন্তব্য করা আমার যথাযথ বলে মনে হয়নি। কারণ একটি দল একক ক্ষমতায় নয়, ক্ষমতায় কয়েকটি দল নিয়ে মহাজোট সরকার। যে দলের প্রতি সাবেক রাষ্ট্রপতি মহোদয়েরও সমর্থন আছে। আমরা এক্ষেত্রে তাঁর বক্তব্যের ভিন্নতা লক্ষ্য করি। তিনি হয়তো অন্য কোন সুবিধা অথবা সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য অথবা নিজের দলের আসনটি সরকারি দলে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। আমরা তার কথাকে বিভিন্ন মাত্রায় এবং বিভিন্ন আঙ্গিকে বিচার করতে চাই। কারণ সমালোচনা যে কোন দলেরই হতে পারে। কিন্তু নির্বাচনে কে কয়টি আসন পাবে এবং এ মুহূর্তে নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের অবস্থা কী দাঁড়াবে সে কথা বলা সত্যই কঠিন। এরকম সুনির্দিষ্ট করে কোন কথা বলা যেমন এক শ’টি আসনও পাবে না, এটি গণতন্ত্রের ভাষা নয়। কারণ দীর্ঘদিন ধরে আমরা দেখে আসছি, একটি দলের সমর্থনে কখনো সরকার গঠন হয়নি। আওয়ামী লীগের মতো একটি প্রাচীন দলের ব্যাপারে এ কথা চলে না। তবে আমরা আগামীতে নির্বাচন অবশ্যই সব দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হোক এটা চাই। যে নির্বাচনে পেশীশক্তি, টাকার খেলা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড জোর যার মুল্লুক তার— এ অবস্থা দেখতে চাই না। সত্য কথা হচ্ছে যে দল ক্ষমতায় থাকে তার সমালোচনা হয়। তার নির্বাচনে দায়িত্ব বেশি এবং তাকে বেশি সহ্য এবং ধৈর্য দেখাতে হয়। প্রকৃত জনগণ প্রেমিক এবং সহূদয়বান ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে ভোটাররা কখনো ভুল মতামত দেয় না। ওয়াহিদ মুরাদ স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জাপার চেয়ারম্যান যে উক্তিটি করেছেন তার সাথে আমি একমত। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন বিচার ইস্যু, শেয়ারবাজার, হলমার্ক, ডেসটিনি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস ও তেলের মূল্য বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তারা ১০০ আমনের বেশি পাবে না। মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম দুলাল বাঞ্ছারামপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১৮ দলীয় জোট ১৫০-এর উপরে আসন পাবে, জাতীয় পার্টি সামান্য কিছু পাবে আর স্বতন্ত্র পাবে কিছু, আওয়ামী লীগ ১০০ আসনের নিচে পাবে। মোহাম্মদ রজব আলী মিয়া মতিঝিল, ঢাকা জাপার চেয়ারম্যানের বক্তব্যে আমি একমত পোষণ করছি। কারণ শেয়ারবাজার, ডেসটিনি, হলমার্ক, পদ্মা সেতু, বিডিআর বিদ্রোহসহ সন্ত্রাস, দুর্নীতি, অপশাসন ও নিত্য পণ্যের লাগামহীন উচ্চ গতিতে দেশের অর্ধেকের বেশি ভোটার বর্তমান সরকারের বিপক্ষ নেবে বলে আমার বিশ্বাস। আগামী নির্বাচনে জনগণ হয়তো শেষ সুযোগ হিসেবে বর্তমান বিরোধী দলকে বেছে নেবে, তবে তৃতীয় শক্তির সম্ভাবনা কম নয়। ফখরুল ইসলাম টিপু সেনবাগ, নোয়াখালী জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলছেন, আওয়ামী লীগ ১০০টির বেশি আসন পাবে না। তাঁর এই বক্তব্য মোটেও ঠিক নয়। বর্তমান প্রজন্মের তরুণরা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে দেশের উন্নয়ন করার জন্য। সরকারও সে কাজও শুরু করেছেন। আগামী নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ আসনের ভোট পেয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জিতবে এ নিশ্চয়তা দেয়া যায়। আর জাপা চেয়ারম্যান যা বলছেন তা একেবারেই মিথ্যা। ফারুক আহমেদ বাঘমারা, রাজশাহী এরশাদের এ সমস্ত কথাবার্তার কোনো ঠিক নেই। তিনি কীভাবে এসব কথা বলেন। তার এই ভাঁওতাবাজিতে কাউকে পা না ফেলার জন্য অনুরোধ করছি এবং তার দল থেকেও দেশকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকার জন্য বলছি। এম মতিউর রহমান ৫/এ, আমিনাবাদ কলোনি, রমনা, ঢাকা নির্বাচন নিয়ে জাপার চেয়ারম্যান যে মন্তব্য করেছেন তার সাথে আমি একমত নই। কারণ তিনি কখন কি বলেন তার ঠিক নেই। মোহাম্মদ শওকত আলী (শাহীন) মহাখালী জাপার চেয়ারম্যান বলেছেন, নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ এক শ আসন পাবে না। আমি একমত এ বিষয়ে। তবে বিএনপি পাবে ২০০ আসন। আল-আমিন টাঙ্গাইল জাপা চেয়ারম্যানের মূল্যায়নটি সময়োপযোগী কারণ লোভনীয় ডিজিটাল নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা দিয়ে নতুন ভোটারদের বিশাল সমর্থন নিয়ে মহাজোট সরকার সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করে শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাই বাদ দেয়নি, ক্ষমতাসীন আসনগুলি শূন্য ঘোষণা না করে জাতীয় নির্বাচনের বিধান রেখে রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক আমজনতার মতামতকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে গণভোট বাতিল করে অমরত্ব দেয়া হয়েছে রাষ্ট্রদ্রোহিতার আইনের মতো স্পর্শকাতর ও বিপজ্জনক প্রায় পঞ্চাশটি অনুচ্ছেদ। আগামী জাতীয় নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দিতে ভুল করবে না এদেশের সচেতন জনগণ। কে. ইসলাম রাম গোপালপুর, মিরকাদিম পৌরসভা, মুন্সীগঞ্জ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ এক শ আসন পাবে না বলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ যে উক্তি করেছেন তা কতটুকু বাস্তব সত্য সেটা বিচার-বিবেচনার বিষয়। তবে এটাও ঠিক বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার নির্বাচন ইশতেহারে দেয়া কথাগুলো সব রক্ষা করেননি। বিশেষ করে দেশের রাজনীতিক পরিস্থিতির যে অবস্থা তাতে করে দুটি দলই অনেকটা দায়ী। দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর অবস্থান সরকার নিতে পারেননি। দ্রব্যমূল্যের অসহনীয় বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সবচেয়ে আলোচিত অংশ হিসাবে উপস্থাপিত হয়েছে আবারও ১/১১-এর আশঙ্কার কথা। স্বাধীনতার পর থেকে একদল যাচ্ছে একদল আসছে এটাই নিয়ম। একদল যাবে অন্য দল আসবে রাজনীতিতে এটাই সহজ নিয়ম। একদল জয় হবে অন্যদলের পরাজয় ঘটবে। এটাকে মেনে নিতে হবে। হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী নোয়াখালী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এক শ আসন নয় আরো বেশি পাবে ইনশাল্লাহ। ওয়াসিম আহমেদ ইমামগঞ্জ, ঢাকা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে যা ছিল তার বেশিরভাগ পূরণ হয়েছে তবে কিছু ব্যর্থতাও আছে—তার মধ্যে শেয়ারবাজার, তাজরীন ফ্যাশন গার্মেন্টসের অগ্নিকাণ্ড, সাগর-রুনির হত্যা, বিশ্বজিত্ হত্যা, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের যে সফলতা তা হচ্ছে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, সমুদ্র সীমা নিষ্পত্তি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ ইত্যাদি। এম এন সালেহ বায়েজীদ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গত ৪ বছরের দেশ পরিচালনায় অবৈধ অর্থ, পেশিশক্তি, জালিয়াতি, সীমাহীন ঘুষ-দুর্নীতিতে দেশ প্লাবিত। কাজেই নির্বাচন যে নামেই হোক আসন অনেক কমে যাবে, সেই ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই বলে আমি মনে করি। কাজেই এখনো সময় আছে সংশোধনের। মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম মল্লিক তেঁতুলঝড়া, সাভার, ঢাকা নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ এক শ আসন পাবে না বলে যে উক্তি জাপা চেয়ারম্যান করেছেন তা ঠিক নয়। তবে কয়টি আসন পাবে তা তাদের কার্যকলাপের উপর নির্ভর করছে। ফারুক আলম মালিবাগ, ঢাকা নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ ১০০ আসন পাবে না। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের এ হেন উক্তি রাজনীতির অদূরদর্শিতাই প্রমাণ করে। স্বাভাবিক কারণে প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়— তাঁর নিজের দল কয়টা আসন পাবে— দেশের জনগণ এখন অনেকটাই সচেতন। কোন দল কত আসন পাবে তার রায় জনগণের হাতেই। সুতরাং কোন দলের এ নিয়ে কিছু বলার নেই। শাহ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন হিরু কালিহাতি, টাঙ্গাইল নির্বাচন হলে ১০০ আসন পাবে না আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সলে যে নির্বাচন হয়েছে তাতে বিএনপি যে আসন পেয়েছে তাও আওয়ামী লীগ পাবে না। তুলনামূলক জাতীয় পার্টির আসন বেশি পাবে আওয়ামী লীগের চেয়ে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হলেই এটা সম্ভব। মাসুম চৌধুরী রাজবাড়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাপা চেয়ারম্যানের যে নির্বাচন কেন্দ্র সেখানেই তো সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ফেল করেছেন। তাহলে তার মুখে এই কথা কি সাজে? আওয়ামী লীগ কত ভোট পাবে তার চেয়ে নিজে কতটা পাবেন তা আগে চিন্তা করা উচিত ছিল তাঁর। শেখ সাইফুল ইসলাম ঢাকা জাপা চেয়ারম্যান এ কথা দ্বারা তাঁর দলকে জনগণের সবচেয়ে প্রিয় দল বোঝাতে চাচ্ছেন। অন্য দলের সম্পর্কে মন্তব্য করা যত সহজ নিজের দলের অবস্থান সম্পর্কে মন্তব্য করা তত সহজ নয়। নাসিরউদ্দিন ফুরকান শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, সরকারি বাংলা কলেজ, ঢাকা জাপা চেয়ারম্যান যে কথা বলেছেন, তার সঙ্গে আমি একমত পোষণ করি। বাকি আসনগুলোর মধ্যে এক শ সত্তর আসন বিএনপি ও বাকি আসনগুলো অন্যরা পাবে। মাহবুব মোর্শেদ মহেশখালি, কক্সবাজার আমার ধারণা এক শরও কম পাবে। ফরিদুল আলম, ঢাকা এরশাদ যা বলেছেন তা ঠিকই। বাকি আসনগুলো পাবে বিএনপি। জসিম উদ্দিন, বিপি রোড, নারায়ণগঞ্জ আগামী সংসদ নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয় তাহলে বর্তমান ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারের দল ত্রিশটি আসন পাবে কিনা তাতে সন্দেহ আছে। এরশাদ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকমের কথা বলেন। এদেশে খুব কম নাগরিকই আছেন যে তাঁর কথা সহজে বিশ্বাস করেন। এরশাদ বলছেন, বর্তমান সরকারি দল আগামী নির্বাচনে এক শ আসনও পাবে না কিন্তু তাই বলে তাঁর দল যে অনেক আসন পাবে তাও বলা যাবে না। বাংলাদেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন। বিভিন্ন রকমের ছলচাতুরি বাদ দিয়ে আগামী নির্বাচনটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দেয়া হোক। এটাই এখন বাংলাদেশের মানুষের দাবি। সাইফুল ইসলাম তানভীর মোড়েলগঞ্জ, বাগেরহাট জনগণ তো আর এরশাদের কথায় ভোট দেয় না। সরকারে যারা থাকে তাদের ভুল একটি অবশ্যই থাকে। তাই বলে এরশাদের যে কথা তা বিশ্বাস করা যায় না। মো. জহিরুল ইসলাম কুড়িগ্রাম এরশাদ সাহেব যা বলেছেন তা সঠিক। আর বাকি আসনগুলো পাবে ১৮ দলীয় জোট। জি.এম সেলিম দেবিদ্বার, কুমিল্লা নির্বাচনে বর্তমান সরকার এক শ-র কাছাকাছি পাবে আর বাকি ৩০ থেকে ৫০টি পাবেন এরশাদ, বিএনপি পাবে ১৫০ থেকে ১৬০টি। আর বাকিগুলো অন্যরা পাবে। মো. ফিরোজ সোহাগ আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মন্ত্রীদের কাজকর্ম দেখে এবং সরকারি দলের নেতাদের এলাকার কাজকর্ম দেখে মনে হয় তারা আশি থেকে নব্বই আসনের বেশি আসন পাবে না এবং অনেক মন্ত্রী মহোদয় নির্বাচন করলে হেরে যাবেন। সৈয়দ হায়দার আলী মহাখালি, ঢাকা। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ সাধারণত বর্তমান সরকারের সমালোচনাই করেন। তার এ ধরনের বক্তব্য হয়তো রাজনৈতিক বক্তব্য। তিনি যেভাবে কথা বলেছেন সেটা ঠিক নয়। তার জানা উচিত, আওয়ামী লীগ একটি বৃহত্ দল। তাছাড়া বর্তমান সরকার অনেক কাজ করছেনও। আবু আহমেদ ফয়জুল কবির লালমাটিয়া, ঢাকা আশা করি বাদবাকি আসনগুলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পীর সাহেব চরমোনাই পাবে। রেজাউল করিম আগৈলঝাড়া, বরিশাল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এক শটি সিট পাবে কিনা সন্দেহ। পরিসংখ্যানে দেখা যায় আগামী নির্বাচনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের সিট বাড়ার সম্ভাবনা একশ ভাগ নিশ্চিত। তবে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগ এবং বিএনপিকে ক্ষমতায় আর দেখতে আগ্রহী নয়। তারা তৃতীয় একটি শক্তিকে দেখতে চায়। মাহবুব উদ্দিন চৌধুরী ফরিদাবাদ, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন