গোপালগঞ্জে ২৫ কোটি টাকার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ কাজ প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। গণপূর্ত বিভাগ সর্বনিম্ন দরপত্রদাতাকে কাজ না দিয়ে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ায় সরকারের কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকা আর্থিক ক্ষতি হবে। গোপালগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগ অফিস সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ কাজের জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তর বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দরপত্র আহবান করেন। দরপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল ৮ নভেম্বর ২০১২। কাজের জন্য ছয়টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে ঠিকাদার এমডি আব্দুল খালেক সর্বনিম্ন দর দাখিল করেন। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করে জানান- বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল বশর তার পছন্দের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সানফ্লাওয়ার এন্টারপ্রাইজকে (জেভিসি) বেআইনিভাবে কাজ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে সরকারের কমপক্ষে ৩০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হবে।
সমপ্রতি গণপূর্ত বিভাগ বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দেখা যায় প্রথম সর্বনিম্ন দরদাতা এমডি আব্দুল খালেক ২১ কোটি ৭৮ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৫ টাকা দর দাখিল করেন। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা সানফ্লাওয়ার এন্টারপ্রাইজ দর দাখিল করেছেন ২২ কোটি ৭ লাখ ৩১ হাজার ৬১৮ টাকা। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা সানফ্লাওয়ার এন্টারপ্রাইজের দরপত্রে অংশগ্রহণের জন্য যে সকল যোগ্যতা থাকার কথা তা প্রতিষ্ঠানের নেই। যোগ্যতা না থাকলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বেআইনীভাবে কাজ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী একসময়ে নড়াইল জেলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ছিলেন। ওই সময় থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। গণপূর্ত বিভাগ বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকোশলী আবদুল গনি মুঠোফোনে বলেন- এখানে কোন অনিয়ম করার সুযোগ নেই। কাজের মূল্যায়ন কমিটির সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। দরপত্রদাতাদের দাখিলকৃত কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য প্রধান প্রকৌশলী বরাবরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
বরিশাল গণপূর্ত জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল বশরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি (০১৭১১-০৩১৯০৬)। সর্বনিম্ন দরদাতা এমডি আব্দুল খালেক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সেখ মাসুদুর রহমান জানান- তাদের প্রতিষ্ঠানের সকল যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দরদাতা সানফ্লাওয়ার এন্টারপ্রাইজকে কাজ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
