সিরিয়াজুড়ে তীব্র লড়াই

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:১৭
সিরিয়াজুড়ে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত বাহিনী এবং বিরোধীদের মধ্যে তুমুল লড়াই হয়েছে। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গিবিমান থেকে বোমা হামলা চালিয়েছে সরকারি বাহিনী। এদিকে বিদ্রোহীরা আলেপ্পোর সাথে অন্য শহরগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার সিরিয়ার দেরা, হামা, হোমস, আলেপ্পো, দামেস্ক এবং দেইর আল-জোর নগরীতে সরকারি বাহিনী এবং বিদ্রোহীদের মধ্যে ব্যাপক লড়াইয়ের ঘটনা ঘটেছে। হোমসে গত তিনদিনে সরকারি বাহিনী ১শর বেশি মানুষকে হত্যা করেছে বলে দাবি করেছে সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস। বৃহস্পতিবার সংস্থাটি জানিয়েছে, এলাকাটিতে হামলা চালিয়ে অধিবাসীদের বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে সিরিয়ায় সংবাদ মাধ্যমগুলোর ওপর বিধি-নিষেধ থাকায় এ তথ্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা যায়নি। পর্যবেক্ষক সংস্থাটির প্রধান রামি আবদেল রহমান জানিয়েছেন, একই পরিবারের ১৪ জন নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে তিন শিশুও রয়েছে। এছাড়া অন্য একটি পরিবারের ৩২ জনের সবাই নিহত হয়েছে। আবদেল রহমান আরো বলেছেন, জাতিসংঘের এ হত্যাযজ্ঞের তদন্ত করা উচিত। এদিকে সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ নিতে গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করছে বিদ্রোহীরা। আল-তাওহীদ ব্রিগেডের প্রধান হাজি আনাদান বলেন, আসাদ বিরোধী ফ্রি সিরিয়ান আর্মি (এফএসএ) শহরমুক্ত করতে নতুন কৌশল হাতে নিয়েছে। আলেপ্পো ভিত্তিক ব্রিগেডের প্রধান আরও বলেন, আলেপ্পোর চারপাশের সামরিক এলাকাগুলো, বিমানবন্দর ও ঘাঁটির দিকে আমরা লক্ষ্য দিচ্ছি। আল্লাহকে ধন্যবাদ জানাই যে, আমরা সেগুলো ঘিরে ফেলেছি এবং ধাপে ধাপে সেগুলো মুক্ত করব। এছাড়া আলেপ্পোর একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দখল নিতে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষ চলছে। শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এই বিমানবন্দরটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ । মঙ্গলবার আলেপ্পো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়াবহ জোড়া বোমা হামলায় ৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার জন্য সরকার ও বিরোধীরা পরস্পরকে দোষারোপ করছে। ২০১১ সালের মার্চে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়। এক পর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয় এ আন্দোলন। এ বছরের শুরুতে এক হিসেবে জাতিসংঘ জানিয়েছে, সিরিয়ার সহিংসতায় ৬০ হাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছে।