‘গাছের ছায়ার সাথে ক্লাস (শ্রেণী) ঘোরে। আর বৃষ্টি হলে ক্লাস বন্ধ। স্কুলে বসার জন্য শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে আনতে হয় মাদুর। জরাজীর্ণ ব্ল্যাক বোর্ড (লেখার জন্য উপকরণ) চেয়ারের উপর রেখে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হয়। এভাবেই শিক্ষা লাভ করছে তিন শতাধিক কোমলমতি শিক্ষার্থী’। এই দুরবস্থা ডুমুরিয়া উপজেলা সদর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরের কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। সরকার আসে সরকার যায় কিন্তু কোমলপুর বিদ্যালয়ের ভাগ্যের চাকা ঘোরে না। কোমরপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানান, ছেলে-মেয়েদের পড়ার জন্য কোন স্কুলঘর নেই। সে কারণে মাদুর পেতে অথবা দাঁড়িয়ে-দাঁড়িয়ে তাদের ক্লাস করতে হয়। এ যেন ব্রিটিশ আমলের সেই ‘জগা বাবুর পাঠশালার’ মতো।
অভিভাবক ইলিয়াস হোসেন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, রাজনৈতিক নেতারা উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেন। কেউ সংসদ সদস্য হলে স্কুলের উন্নয়ন করে দেবেন বলেন, আবার কেউ চেয়ারম্যান, মেম্বার হলে সকল সমস্যা দূর করবেন বলে আশ্বাস দেন। আর তারা নির্বাচিত হয়েই প্রতিশ্রুতির কথা বেমালুম ভুলে যান। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অথবা এলাকাবাসী তাদের প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করলে তারা নানা জটিলতার কথা তুলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজা খাতুন জানান, কোমরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী। শিশু শ্রেণী থেকে ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত সুষ্ঠুভাবে পাঠদান করতে ৬টি কক্ষের প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে মাত্র তিনটি শ্রেণীকক্ষ রয়েছে। তিনি বলেন, শিশু শ্রেণী, প্রথম শ্রেণী ও দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মাঠে ও স্কুলের বারান্দায় পাঠদান করানো হয়। তবে বৃষ্টি এলে পাঠদান করা সম্ভব হয় না। তখন তাদেরকে অন্য শ্রেণীকক্ষে আনা হয়। কিন্তু পাঠদান করানো যায় না। প্রধান শিক্ষক জানান, ৩ শতাধিক শিক্ষার্থীদের জন্য সবমিলিয়ে ৭২ জোড়া বেঞ্চ রয়েছে; যাতে ১৪৪ জন শিক্ষার্থী বসতে পারে। অন্যরা বাড়ি থেকে মাদুর, পলিথিন অথবা অন্য কিছু নিয়ে আসে। এছাড়া শীতকালে মাঠে পাঠদান করানো গেলেও গ্রীষ্মকালে তা দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, গ্রীষ্মের সময় যেখানে গাছের ছায়া পড়ে সেখানে ক্লাস নেয়া হয়। অর্থাত্ ছায়ার সাথে ক্লাস ঘোরে। এছাড়া এত সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র একটি টয়লেট রয়েছে।
