নির্বাচন নিয়ে ভাবনা

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২০
দেশের গণতন্ত্রকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সকল রাজনৈতিক দল মিলে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি বেছে নেবে; এটাই আমাদের প্রত্যাশা প্রায় ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ। দেশটির জন্ম হয়েছিল স্বাধিকার আদায় ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য। গণতন্ত্র রক্ষার অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার উপযোগী সরকার গঠন। স্বাধীনতার চার দশক পরেও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন কাঠামো পদ্ধতি গড়ে উঠতে পারেনি। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথে দেশে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে তা জনগণের কাছে এখনও অজানা। দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে এ বিষয়টি নতুন করে এক ইস্যুর জন্ম দিচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করাকে সরকারি দল প্রয়োজনীয় মনে করলেও দেশের প্রধান বিরোধী দলের অবস্থান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে। সরকারি দল ঘোষণা দিয়ে চলছে এ ব্যবস্থা কিছুতেই পুনর্বহাল করা যাবে না, অন্যদিকে বিরোধী দলের দাবি— এ ব্যবস্থার পুনর্বহাল না হলে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। দেশের প্রধান বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ না নিলে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সে নির্বাচনের গুরুত্বই বা কতটুকু থাকবে! তাছাড়া পরস্পরবিরোধী এ দাবি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এর প্রতিফলন দেখা যাবে রাজপথে সহিংস আন্দোলন, যা কারোই কাম্য নয়। পরিতাপের বিষয় হলেও সত্য, দেশের নির্বাচন কাঠামো কি হবে তা নিয়ে সাধারণ জনগণের মতামত চাওয়া বা গ্রহণযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠ মতানুসারে কোন নির্বাচন পদ্ধতি বেছে নেয়ার মন-মানসিকতা সরকারি বা বিরোধী কোন দলেরই নেই। এমতাবস্থায় নির্বাচন নিয়ে আসন্ন রাজনৈতিক সংঘাতমূলক পরিস্থিতি এড়ানোর লক্ষ্যে সরকার ও বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে সব দলের গ্রহণযোগ্য কোন ব্যবস্থাকে বেছে নেয়া প্রয়োজন। সানজিদা মুস্তাফিজ এম.ফিল গবেষক, ইতিহাস বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যা করা দরকার তাই করতে হবে রাজনীতিবিদদের জন্য নির্বাচন আর জনগণের জন্য নির্বাসন। এত সাধ আর স্বপ্ন নিয়ে আমরা জনগণ জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচিত করি, বসাই সিংহাসনে, ছোট্ট মনের ছোট্ট আশা- ছোট্ট একটু কুঁড়েঘরে তেলের প্রদীপের পরিবর্তে করব বিদ্যুতের ব্যবহার কিন্তু মনের আশা আহত হয়ে মনকে বুঝায় আশা! সে তো মরীচিকা, বামন হয়ে চাঁদে হাত বাড়িও না। অতি শ্রদ্ধার, সম্মানিত, মাননীয় মহারানীদ্বয় সিংহাসন জয় করার পর রাজ্যে হুকুম জারি করেন- বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করা হোক, চাল-ডালের দাম বৃদ্ধি করা হোক, আহা! নুনটাই বা বাদ থাকবে কেন? সেটাও বাড়াও। হুকুম যথা আজ্ঞায় পালন হলে মহারানীদের পরান জুড়ায় কিন্তু নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ‘পরান যায় জ্বলিয়ারে’ অবস্থা সেটা কি রাজমাতারা একবারও ভেবে দেখেছেন। এক মহারানী করেন যুদ্ধাপরাধীর বিচার, এটা অতি গর্বের কিন্তু সাবেক মহারানী প্রশ্ন তোলেন স্বচ্ছতার। যেসব যোদ্ধা যুদ্ধ করে রাজ্য থেকে শত্রু নিপাত করলেন তাদের অনেকেই আজ এই নশ্বর পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য ক্ষুধার সাথে যুদ্ধ করছেন, করছেন ভিক্ষাবৃত্তি, থাকেন অর্ধাহারে-অনাহারে, পাননি বীরত্বের খেতাবটুকু এখনো, চাল নেই, চুলো নেই, মাথার উপরের ছাউনিটুকুও নেই, রাজমাতাদের সুনজর কি পড়বে না এদিকে? বাংলার জমিনে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা। রাজ্যের প্রজাদের কে কত অত্যাচার-অনাচার করতে পারে এই নিয়ে চলে প্রতিযোগিতা, চলে রাজ্য আর সিংহাসন লাভের লড়াই, ঝরুক রক্ত, মরুক মানুষ, তাতে কি এসে যায়? আছে প্রচুর তবুও মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি দখল, জমি দখল, সন্তানের চাকরিতে চায় ঘুষ, এটা লজ্জার, এটা ঘৃণার। আশি শতাংশ কৃষি হওয়ার পরেও করি আমদানি, তবুও জোটে না অন্ন, শ্রদ্ধেয় মহামান্যদ্বয় আমাদের আকুতি আপনাদের সমীপে হবে কি গণ্য? না হলে কবির কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে গর্জে বলতে বাধ্য হবো: “ভাত দে হারামজাদা, নইলে তোর মানচিত্র খাব”। রাজকাণ্ডারীদের সমীপে প্রজাদের বলার আছে অনেক কিছু কিন্তু বলে কি লাভ, শোনার মতো কান কই? মোহাম্মদ হালিম ব্যাচেলর সায়েন্স অব ডেন্টাল, স্টেট কলেজ অব হেলথ্ সায়েন্স, ঢাকা তত্ত্বাবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যাই হোক চাই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বর্তমানে আমরা বাংলাদেশিরা এক সংকটময় অবস্থায় রয়েছি। বাংলাদেশের বৃহত্ দুটো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল। ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ। বিরোধী দল হিসেবে রয়েছে জাতীয়তাবাদী দল। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছে এই অজুহাতে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করলে দেশ ১-১১-এর মতো ভয়াবহ অবস্থায় ফিরে যাবে (অবশ্য এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জনগণের কাছ থেকে মতামত নেয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি)। অন্যদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্ত কোনভাবেই মেনে নিতে রাজি নয়। তারা যে কোন মূল্যেই হোক তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। তারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখতে পারছে না। তাদের ধারণা- এই সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না কিছুতেই। দুই বৃহত্ দলই তাদের যার যার সিদ্ধান্তে অটল। বিপাকে পড়েছে দেশের সাধারণ মানুষ। তকীউদ্দিন মুহাম্মদ আকরাম ভূঁইয়া প্রথম বর্ষ আলেম, লক্ষ্মীপুর দারুল উলুম মাদ্রাসা, লক্ষ্মীপুর সকল রাজনৈতিক দলের উচিত একত্রে বসে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুন্দর একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছা বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। সকল নাগরিকের মতামতের ভিত্তিতে সরকার নির্বাচিত হবে। আর তা হবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায়। নির্বাচন নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য অবশ্যই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রয়োজন। দলীয় সরকারের অধীনে সম্পূর্ণ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে এটা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষিতে মোটেও বলা যাচ্ছে না। কারণ শুধু বর্তমান সরকারি দল নয়, বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে দলের পক্ষে একক সমর্থন ও ব্যক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে প্রায় সকল সিদ্ধান্তের চিন্তা-ভাবনা করা। ২০১৩ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও এখনো পর্যন্ত নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে কোন সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারা তার সুস্পষ্ট প্রমাণ। সকলে চায় নিজের সুবিধা হবে এমন পদ্ধতিতে নির্বাচন হোক। আমি বলব আপনারা আপনাদের ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থের চিন্তা ভুলে গিয়ে দেশ ও জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করে যেভাবে সঠিক সময়ে নির্বাচন হতে পারে তা নিয়ে ভাবুন। টালবাহানা করে সময় পার করার চেষ্টা করবেন না। এমনটি করলে জনগণের কাছে তার চড়া মূল্য দিতে হবে। তা এমন হতে পারে যে- জনগণ অদূর ভবিষ্যতে আপনাদের মত স্বার্থপর দলগুলোকে সরাসরি বয়কট করবে এবং তৃতীয় কোন দলের অনুসন্ধান করবে। ভুলে গেলে চলবে না যে বাঙালি সেই জাতি যারা অন্যায়কারীদেরকে জীবন বাজি রেখে হলেও প্রতিরোধ করে। তাই সকল রাজনৈতিক দলের উচিত একত্রে বসে নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুন্দর একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছা। জনগণের কথা মাথায় রেখে একত্রে বসুন। রায়হান রহমান দ্বাদশ শ্রেণী, আনন্দমোহন কলেজ, ময়মনসিংহ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন