মরিচের গুঁড়া সমাচার

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩২
হরতাল-বিক্ষোভ-আন্দোলন দমাইতে পুলিশ ইদানীং যে পিপার পাউডার বা মরিচের গুঁড়া ব্যবহার করিতেছে উহা লইয়া বিভিন্ন মহলে ব্যাপক ক্ষোভ-বিক্ষোভ পরিলক্ষিত হইতেছে। এই জাতীয় ক্ষোভ বা বিক্ষোভ অসঙ্গত নহে। কেননা মরিচের গুঁড়া ব্যবহারের ফলে বিক্ষোভকারীদের চোখ ও দেহের চামড়াসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব-প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে এমন আশংকাকে উড়াইয়া দেওয়া যাইতেছে না। এতকাল কাঁদানে গ্যাস, জলকামান, লাঠিচার্জ, রাবার বুলেট এমনকি তাজা গুলিও বিক্ষোভ ও হরতাল দমনে ব্যবহূত হইয়াছে। এখনও যে এইসব ব্যবহূত হয় না তাহা নহে। তবে এই জাতীয় দমন পদ্ধতি নিশ্চয়ই কেহ সমর্থন করিতে পারেন না। কেননা, তাজা বুলেট ও লাঠিচার্জের দরুন প্রাণহানির আশংকা থাকিয়া যায় বৈকি! হরতাল-বিক্ষোভ ইত্যাদি গণতান্ত্রিক অধিকার। সুতরাং এই জাতীয় কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রে কোন প্রকার দমন-পীড়ন অভিপ্রেত নহে নিশ্চয়ই। তথাপি এই জাতীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনকালে জনতা যদি জনসাধারণের জান-মালের ক্ষতিসাধন কিংবা জননিরাপত্তায় বিঘ্ন সৃষ্টি করে, তখন সেই উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে দমনের বা তাহাদেরকে সহিংস কর্মকাণ্ড হইতে নিবৃত্ত করিতে পুলিশকে বা নিরাপত্তা রক্ষীদেরকে খানিক শক্তি প্রয়োগ করিতে দেখা যায়। সত্য বটে, হরতালের নামে ভাংচুর বা সহিংসতা কোনক্রমেই গ্রহণযোগ্য হইতে পারে না। হরতাল পালনে জনসাধারণকে বাধ্য করিতে ভয়-ভীতি প্রদর্শন বা আতংকগ্রস্ত করিয়া তোলা কিংবা জনসাধারণের জান-মালের প্রতি হুমকি সৃষ্টি যাহারা করে তাহারা প্রকৃত প্রস্তাবে জনগণের বন্ধু হইতে পারে না। অতএব, উচ্ছৃঙ্খল কোন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে দমনের নিমিত্তে তথা জনসাধারণের জান-মালের নিরাপত্তা বিধানকল্পে পুলিশকে তাই পেটোয়া বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হইতে দেখা যায়। গণতান্ত্রিক সমাজে এই ধরনের ভূমিকা কাম্য নহে ইহা যেমন সত্য, তেমনি আবার গণতান্ত্রিক সমাজে হিংসা ও হানাহানি রাজনীতির ভাষা হইতে পারে না। বর্তমানে বিক্ষোভকারীদেরকে দমাইতে বা ছত্রভঙ্গ করিতে মরিচের গুঁড়ার ব্যবহার আসলেই কোন শারীরিক বিপত্তি সৃষ্টি করে কিনা উহা পরীক্ষা করিয়া দেখা দরকার। যদি তাহা না করে তাহা হইলে উচ্ছৃঙ্খলকারীদের দমনের জন্য বুলেট, লাঠিচার্জ ইত্যাদির পরিবর্তে এই জাতীয় অস্ত্র প্রয়োগ অপেক্ষাকৃত কম বিপত্তি সৃষ্টি করিবে নিশ্চয়ই। আর পরীক্ষায় যদি ধরা পড়ে যে মরিচের গুঁড়া মারাত্মক শারীরিক ক্ষতিসাধনে সক্ষম, তাহা হইলে অবশ্যই ইহা পরিত্যাজ্য। ইতোমধ্যে শিক্ষকদের আন্দোলনকালে এই মরিচের গুঁড়া ব্যবহারের পরিণতিতে এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটিয়াছে বলিয়া দাবি করা হইয়াছে। ইহা কতখানি সত্য উহাও যাচাই করিয়া দেখা আবশ্যক। বিভিন্ন মহল হইতে মরিচের গুঁড়া ব্যবহারের ব্যাপারে যে সোচ্চার প্রতিবাদ উঠিয়াছে উহাকে আমলে লইয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে ইহার শারীরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া। যাহারা এই ব্যাপারে প্রবল ওজর-আপত্তি তুলিতেছেন তাহাদেরও উচিত বিষয়টিকে লইয়া অযথা রাজনৈতিক ধূম্রজাল সৃষ্টি না করিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইহা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যাপারে সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করা। মনে রাখা দরকার যে, সমাজে একশ্রেণির উগ্রবাদী বা গোলযোগ সৃষ্টিকারী মানুষকে দমনের ব্যবস্থা থাকাটাও জরুরি। আর সেই ব্যবস্থায় বিক্ষুব্ধ ব্যক্তির শারীরিক-মানসিক ক্ষতি যতটা কম সাধন করিয়া কার্যোদ্ধার করা যাইবে ততই মঙ্গল। সুতরাং মরিচের গুঁড়ার ব্যবহার লইয়া যে বাদ-বিসম্বাদ ও ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখা দিয়াছে উহার সর্বজনগ্রাহ্য একটি সমাধান আমরা কামনা করি। শুধু শুধু হৈ চৈ করিয়া জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি নিশ্চয়ই কোন প্রকার শুভ ফল বহিয়া আনিবে না। অতএব সংশ্লিষ্ট সকল মহলকেই আমরা বিষয়টি সহিষ্ণুচিত্তে মোকাবিলার আহ্বান জানাই।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন