সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য দরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার
যে আলোচিত বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনকে উত্তপ্ত করে তুলেছে তা হচ্ছে আগামী নির্বাচন কার অধীনে হবে। আর কিছু হোক আর না হোক নির্বাচন হবে এই নিয়ে কারো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। তবে বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথা ভাবছে, আর সরকারি দল নিজেদের অধীনে নির্বাচনের কথা বলছে। তারা বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে নিপীড়নের কথা বারবার বিরোধী দলকে বোঝাতে চাইছে। শীর্ষ দুই দলের প্রধান নেতাসহ মন্ত্রীদের গ্রেফতার, রিমান্ড, মামলা অনেক অসহ্য কষ্ট সইতে হয়েছিল তাদের। আবার যে সেরকম হবে না তার কি গ্যারান্টি আছে? তাই সরকার বিভিন্ন ছলে-কৌশলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করতে চাইছে।
নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আওতায় নির্বাচন হলেও একে অপরকে সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ করে। সেখানে ক্ষমতাসীন দলের অধীনে নির্বাচন হলে সন্দেহের জালটি এত বিশালাকার হবে, যার ফাঁদে আটকা পড়বে প্রতিটি মানুষ তথা সারা দেশ। ক্ষমতার লোভ, বৈধ-অবৈধের খেলা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের সর্বত্র বিরাজমান। এমন যেখানে অবস্থা সেখানে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন খুব বেশি দরকার হয়ে পড়েছে। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে কিছু নীতিমালা অবশ্যই থাকা জরুরি। আমরা জনগণ যেহেতু সরকার নির্বাচন করে থাকি, তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পূর্বেও আমাদের পরামর্শ নেয়া একান্ত জরুরি। আমরা আশা করি এবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের পূর্বে অবশ্যই প্রধান দুই দলের সদস্যদের উপস্থিতিতে তাদের মধ্য থেকে একটি কমিটি গঠন করে তাদের মতামতের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে। তাহলে হয় তো নির্বাচন পরবর্তী সময় এক দল অন্য দলকে সূক্ষ্ম কারচুপি কিংবা ভোটচোর নামে কোন পদবী দেয়ার আগে একটু একটু চিন্তা-ভাবনা করবে।
কানিজ ফাতিমা আঁখি
অগ্রণী স্কুল এন্ড কলেজ।
০০০০
পুরাতনতন্ত্র নয়, চাই নতুনতন্ত্রের হাতছানি
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র । বিজয়ের ৪১ বছরে বাংলাদেশ সেই আগের অবস্থানে পড়ে আছে একথা বলা যেমন ঠিক নয়, তেমনি উন্নতির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে একথাটাও খুব বেশি সত্য নয়। তবে নিজেদের ঢাক নিজেদের চেয়ে আর কে বেশি ভালো বাজাতে পারে। হ্যাঁ, তবে আজ নিজেদের উন্নতির ঢাক বাজানোর সময় হয়েছে। বাংলার মানুষের নিকট আজ নতুন একটি বছর এসেছে। তাই পুরাতন সব কলঙ্কের ছোঁয়া ভুলে আজ আমরা জানাতে চাই স্বাগত ২০১৩! প্রত্যাশার বছর বাংলার মানুষের। বর্তমান সরকারের চার বছর শেষে আজ মানুষের হিসাব-নিকাশের সময় ঘনীভূত হয়েছে আগামী নির্বাচনের সৌভাগ্যবান কারা সেটি পরিমাপ করার। সেই পুরাতনকেই মানুষ আপন করবে, নাকি নতুনের হাতছানিকেই তারা স্বাগত জানাবে। বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এতটাই নোংরা হয়ে আছে যে, দেশের বিশ্লেষকগণ কি বিশ্লেষণ করবেন সেটাই খুঁজে পাওয়া মুশকিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা, নাকি অভ্যন্তরীণ নির্বাচিত সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে সেটা নিয়েই দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বাকবিতণ্ডা চলছে। তার মাঝে আবার নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের স্রোতধারা বইছে। শুরু হয়েছে শিক্ষাঙ্গনের শিক্ষাগুরুদের উপর অমানবিক নির্যাতন। এমনকি এসিডের মতো তরল পদার্থ পর্যন্ত নিক্ষেপ করছে। দেশের এই অভ্যন্তরীণ নোংরা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক বিতণ্ডার ঊর্ধ্বে থেকেই জনগণের চাওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন কিংবা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন যেটাই সংগঠিত হোক না কেন সেটা যেন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়।
মো. মামুনুর রশীদ
আল বেরুনী হল (সম্প্রসারিত ভবন),
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
০০০০
আলাদা আলাদা নয়, সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন সম্ভব
আমাদের দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি আস্তে আস্তে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। কেননা আমাদের দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সবাই আলাদা আলাদাভাবে একে অন্যের দোষত্রুটি উল্লেখপূর্বক তিরস্কারে লিপ্ত আছে। আমরা সবাই জানি যে, এ সকল তিরস্কারমূলক কথা কারও জন্যই মঙ্গলজনক নয়, না সরকারি দলের, না বিরোধী দলের, না আপামর জনগণের। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই আমরা একটি উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসাবে পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশকে দেখতে পাব। আর এজন্য বিশেষ করে আমাদের দেশের প্রধান নেত্রী মহোদয়গণের উচিত একত্রে বসে সমঝোতায় এসে একটি সুন্দর নির্বাচন দেশের মানুষকে উপহার দেয়া। আর নয় সংঘাত, হানাহানি, হরতাল, হত্যাযজ্ঞ। আমরা কিছুদিন আগে লক্ষ্য করেছি, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে ও পরে বারাক ওবামা ও মিট রমনিদের ব্যবহার। আমার মনে হয় তাদের কাছ থেকে আমাদের গণতান্ত্রিক বিষয়সমূহ শেখা উচিত। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলের প্রধানদের নিকট আমার আকুল আবেদন, আপনারা আলাদা আলাদাভাবে সাংঘর্ষিক কোন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত না হয়ে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় এসে একটি সুন্দর নির্বাচন আমাদের দেশের জনগণকে উপহার দেবেন। ফলে আর কোন ১/১১ ঘটবে না এবং কোন মায়ের সন্তান, কারো স্বামী, কারো বাবাকে “বিশ্বজিতের” মতো অকালে প্রাণ হারাতে হবে না।
মো. তরিকুল ইসলাম (সোহাগ) বিবিএস অনার্স (হিসাব বিজ্ঞান) (১ম শ্রেণী),
ওয়ালীনেওয়াজ খান কলেজ, কিশোরগঞ্জ।
----
দু’দলের সমঝোতায়ই অবাধ,
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব
বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিরাজ করছে চরম অস্থিরতা। একপক্ষ আরেকপক্ষকে (আওয়ামী লীগ ও বিএনপি) ন্যূনতম ছাড় দিচ্ছে না। একদিকে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক বা যে নামেই হোক নির্দলীয় সরকার ছাড়া দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, আর অন্যদিকে আদালতের দোহাই দিয়ে সংবিধান সংশোধন করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে মহাব্যস্ত আওয়ামী লীগ। প্রধান দু’দলের এই যদি হয় মানসিকতা, আর বিএনপি নির্বাচন বয়কট করা সত্ত্বেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে দেশে-বিদেশে নির্বাচন কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে তা সময়ই বলে দিবে। এমনকি জাতির ভাগ্যে চেপে বসতে পারে ১/১১’র মতো জগদ্দল পাথর। স্বাধীনতার ৪১ বছরে বেশ কয়েকবার গণতন্ত্রের কণ্ঠ চেপে ধরা হয়েছে। যার পুনরাবৃত্তি এ জাতি আর অবলোকন করতে চায় না। দু’দল সমঝোতায় পৌঁছতে না পারায় দেশ ক্রমেই সংঘাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মনে হয় জাতির জন্য অপেক্ষা করছে ঘোর অমানিশার অন্ধকার। দু’দল সমঝোতায় পৌঁছার এখনো যথেষ্ট সময় রয়েছে। এ জাতি আশাবাদী যে, তারা সমঝোতায় পৌঁছে জাতিকে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের হাত থেকে রক্ষা করবে।
মাকসুদুল হাসান রিয়াদ
একাদশ শ্রেণী, শাখা বিজ্ঞান,
আনন্দ মোহন কলেজ,
ময়মনসিংহ।
