নির্বাচন নিয়ে ভাবনা

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:১৪
দুই নেত্রীর উচিত সমঝোতায় এসে জনগণকে একটি সুন্দর সাবলীল নির্বাচন উপহার দেয়া বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ, গণতান্ত্রিক দেশ। দেশের নাগরিক হিসেবে প্রতিটি মানুষের প্রত্যাশা সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও অবাধ ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ২০১৩ সালটিই সেই কাঙ্ক্ষিত নির্বাচনের বছর, যেটি নিয়ে জেগেছে নানা জল্পনা-কল্পনা-সমালোচনা। নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতাসীন দলের চলছে নানা কর্মসূচি। বিরোধী দলও বসে নেই নির্বাচনী প্রস্তুতিতে। সরকারি দল কর্তৃক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের বিপক্ষে মাঠে নেমেছে বিএনপি। তারা হরতাল, অবরোধ কর্মসূচি, বিক্ষোভ, সমাবেশ, মিছিল-মিটিং-এর মাধ্যমে সৃষ্টি করছে যানজট, বাড়াচ্ছে জনদুর্ভোগ। সরকারি দলই বা কম কিসে? তারাও পাল্টাপাল্টি সমাবেশ, অবরোধে সৃষ্টি করছে একই আকারের জনদুর্ভোগ। শিঙ্গাঙ্গনে চলছে অস্থিরতা, হত্যা, গুম, হানাহানি কাটাকাটি। রাজপথে চলছে বিশ্বজিতের মতো খেটে খাওয়া মানুষের প্রাণহানি। কিন্তু এসব চলতে থাকলেই কি গণতন্ত্র টিকে থাকবে। এসবের মধ্য দিয়েই কি সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করা সম্ভব? তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাদ দিয়েও কি নির্বাচন কমিশন পারবে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে? অবশ্যই না। সুতরাং ক্ষমতাধর দুই নেত্রীর উচিত সমঝোতায় এসে জনগণকে একটি সুন্দর সাবলীল নির্বাচন উপহার দেয়া। মো. মাসুদুর রহমান সমাজবিজ্ঞান বিভাগ (২য় বর্ষ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আগামী নির্বাচন চাই সুষ্ঠুু, নিরপেক্ষ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হয়েও আজ নেই কোনো স্বস্তির নিঃশ্বাস। গণতান্ত্রিক দেশ হয়েও সাধারণ মানুষের চাওয়া-পাওয়া পূরণ হয়েছে নামে মাত্র। বিএনপি কিছু দাবি আদায়ের জন্য হরতাল পালন করে, আওয়ামী লীগ হরতাল বিরোধী কর্মসূচি পালন করে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে বড় দুটি রাজনৈতিক দল তাদের নিজ নিজ অবস্থানে এখনও অনড়। রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের প্রতি যে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেয় তা সত্যিই ছাত্র সমাজকে বিস্মিত করে। এই রাজনৈতিক সংস্কৃতির আমরা পরিবর্তন চাই। কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে এ পর্যন্ত চারটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচন থেকে দেখা যায়, যে দল পরাজিত হয় সে দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার যতই সুষ্ঠু নির্বাচন করুক না কেন, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন বলে স্বীকার করেন না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সমালোচনা করেন। তবে কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে হরতালের নামে জ্বালাও-পোড়াও, ধ্বংসাত্মক কাজকর্ম, নৈরাজ্য আর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়? সাধারণ জনগণ হরতাল চায় না, জনগণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে রাজপথে সরকার বিরোধী এ যুদ্ধ দেখতে চায় না। ১৬ কোটি জনগণের কথা মাথায় রেখে জাতীয় স্বার্থে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে আপনারা দুই নেত্রী জাতীয় সংসদে বসে এ সমস্যা সমাধান করুন। খাজা মাহদী ফটোগ্রাফি কোর্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। একটাই চাওয়া দুর্নীতিমুক্ত সুন্দর দেশ ডেমোক্র্যাসি বলতে যদি জনগণের ক্ষমতাকে বোঝায় তো এই দেশে নির্বাচন অনিবার্য। নির্বাচন যদি অনিবার্য হয় তো সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ আবশ্যক। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুদীর্ঘ ৬০ মাস অপেক্ষার পর দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মুখোমুখি হবো আমরা ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে। এমতাবস্থায় দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুটিকে নিয়ে তাদের নিজ নিজ সিদ্ধান্তে অনড়। দেশের প্রধান বিরোধী দল বলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। নিন্দা ছাড়া যেমন প্রশংসার কোন মূল্য নেই, তেমনি প্রধান বিরোধী দল নির্বাচন না করলে সেই নির্বাচনের কোন সার্থকতা নেই। এমতাবস্থায় প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের ইস্যুকে বাস্তবায়ন করতে বলি হচ্ছে বিভিন্নভাবে দেশের জনগণ। রাজনৈতিক দলগুলো যেন জনগণকে ঘুড়ি বানিয়ে ওড়াচ্ছেন। তাই নির্বাচন এখন তথৈবচ। আমরা তরুণ প্রজন্ম অনুরোধ করব যে রাজনৈতিক সংকীর্ণতা পরিহার করে, ধ্বংসের লীলা সাঙ্গ করে সব দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করুন। দেবাশীষ চন্দ্র সাহা গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ১ম বর্ষ (স্নাতক), বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর। সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচন শুধু আমাদের চাওয়া নয় এটা আমাদের অধিকার একদল বলছে নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাই-ই চাই। আবার আরেক দল বলছে এটা হতে পারে না। এ ব্যাপারে আমি মনে করি, যেহেতু বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ। তাই এ ব্যাপারে জনগণের মতামতের গুরুত্ব অনেক বেশি। জানতে হবে জনগণ কী চায়। কাকে সরকার হিসেবে পেতে চায়। জনগণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় কি না। এক দলের ইচ্ছা আরেক দলের অনিচ্ছা এসব কেন? দেখা যায় এক দলের কোন ইচ্ছা পূরণ হচ্ছে না তাই সারাদেশে হরতাল। তাই তারা রাস্তায় মিছিল বের করে, ‘হরতাল চাই, হরতাল চাই’। আবার যে দল এর বিরোধী সে দল শ্লোগান দেয়, ‘হরতাল মানি না, হরতাল মানব না। সবাই রাস্তায় বেরিয়ে এসো।’ তারা সবাই কী এটা ভেবেছে যে সাধারণ জনগণের কী হবে? কত মানুষ না খেয়ে থাকবে কাজের অভাবে। এই করাল গ্রাসে পড়ে জীবন হারাবে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, আর তার পরিবারটি পড়ে থাকবে অন্ধকারের অতল গহ্বরে। এটা কী কোন দল ভেবেছে? তাই আমার মতামত হলো সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে জনগণের সেবা করার মনমানসিকতা সৃষ্টি করা। নির্বাচন কমিশন, সরকার, বিরোধী দল সবার উচিত জনগণের মতামতের মাধ্যমে নির্বাচন কিভাবে হবে তা ঠিক করা। আর নির্বাচন উপলক্ষে দেয়া তাদের সকল ওয়াদা পূরণ করা। আর এটা যদি সম্ভব হয় তাহলেই দেশ হবে সমৃদ্ধ, নির্বাচন নিয়ে আর কোনদিন দেশে কোন অশান্তি হবে না। রিনা আক্তার রনি ভেটেরিনারি অনুষদ, লেভেল-১, সেমিস্টার ১, প্রথম বর্ষ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন