স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবারে মরিচের গুঁড়া বিষয়ে তাঁর ও তাঁর সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। আমাদের নশ্বর চক্ষু মরিচের গুঁড়ায় যেকোনো সময় আক্রান্ত হতে পারে। দূরদর্শী পণ্ডিত-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেজন্য গোড়াতেই আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমাদের জ্ঞানচক্ষু খুলে দিয়েছেন। আর কে না জানে জ্ঞানচক্ষুই চক্ষুকুলের মধ্যে সেরা! তিনি জানিয়েছেন এই গুঁড়া যথেষ্ট বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বানানো হয়েছে। এগুলো পাশ্চাত্যের দেশে যথেষ্ট হারে বহু বছর ধরে ব্যবহূত হয়ে আসছে। বটেই তো! পাশ্চাত্যের কত কিছুকেই না তাঁরা মানদণ্ড ধরে কাজ করে যাচ্ছেন! তিনি আরও জানালেন— এতে স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে টেলিভিশনে তাঁর উত্সাহ দেখে মনে হচ্ছিল তিনি বস্তুটিকে প্রায় স্বাস্থ্যকরই বলতে আগ্রহী ছিলেন। একথাও তিনি জানাতে ভোলেননি যে, এই বস্তুটি ব্যবহার করা থেকে তিনি বা তাঁর সরকার পিছিয়ে আসবে না। তবে ঠিকই তো! রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জানগণিক পয়সাপাতি খর্চা করে যে মহার্ঘ্য শাসন-উপকরণটি খরিদ করা হলো সেটা ব্যবহার করা না-হবে কেন?
অবশ্য তিনি আরও জানাতে ভোলেননি যে, এটার প্রয়োগ করা হবে তাদের উপর যারা ঝামেলা পাকাবে বা কোনোরকম বিশৃঙ্খল ক্ষয়ক্ষতিকর সভা-সমাবেশ করবে বা এরকম কিছু একটা। তাঁকে একটুও বিশ্বাসী শোনাচ্ছিল না যা বলছিলেন সে বিষয়ে। কারণ সম্ভবত তাঁর মনে পড়ছিল ১০ জানুয়ারি শহীদ মিনারে অনশনরত শিক্ষকদের উপর পিপার-স্প্রে করা হয়েছে। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়তো বুঝতে পারছিলেন যে টেলিভিশন দর্শক, দেশবাসী-জনতা এতবড় আহাম্মক হয়নি যে বেতন বিবর্জিত বিভিন্ন জায়গা থেকে নেহায়েত্ জানের দায়ে ঢাকায়-আসা একদল বিনয়ী শিক্ষক, যাঁরা অতীব নম্র একটা দাবির জন্য অনশনে বসেছেন, তাঁদেরকে রাষ্ট্র বা সরকারের জন্য কোনো বিশৃঙ্খল-ক্ষতিকর পদক্ষেপ গ্রহণকারী ভাববেন। টেলিভিশনে তাঁর পদমর্যাদার লেগ্যাসির সঙ্গে মানানসই একটা ভঙ্গি করবার চেষ্টা তিনি করছিলেন বটে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ধমকাচ্ছিলেন। কিন্তু হতে পারে তিনি মনে করতে পারছিলেন যে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষকদের জীবন যতই জেরবার হোক না কেন, বাস্তবে যতই হুমকি-ধামকি খেয়ে তাঁরা থাকুন না কেন, বাংলাদেশের মানুষজন স্কুল শিক্ষকদের উপর রাষ্ট্রের মাস্তানিটা ভালভাবে নেন না। তাঁরা আঘাত পান। মন্ত্রীদের বোলচাল থাকুক, শিক্ষকদের দারিদ্র্য থাকুক, কিন্তু সেই বোলচাল শিক্ষকদের উপর দেখতে চান না মানুষজন। হয়তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষণিকের জন্য সেগুলো মনে পড়ে গিয়েছিল, এমনকি তাঁর মারমুখী আচরণ চর্চা করবার মধ্যেও। তিনি খানিকক্ষণের জন্য হয়তো নিশ্চিত হতে পারছিলেন না যে সদ্য-আমদানিকৃত এই মরিচ-গুঁড়োর আপ্যায়ন পাবার মতো যথেষ্ট মর্যাদাসম্পন্ন জায়গায় শিক্ষকরা আছেন কিনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সুদূর শৈশব হয়তো যত্ন করে রাখা অ্যালবামের পাতা গলে খানিকক্ষণের জন্য বেরিয়ে পড়েছিল। হতে পারে! তাঁকে নিষ্ঠুর পুলিশীরাজের অধিকর্তা হিসেবে ততটা শান্ত দেখাচ্ছিল না। তাঁকে বিচলিত দেখাচ্ছিল।
মাধ্যমিক ও মাদ্রাসার আন্দোলনকারী শিক্ষকদের নেতাকে যখন টেলিভিশন ক্যামেরায় প্রশ্ন করা হলো যে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের বৈঠকে তাঁরা শিক্ষকদের উপর লাগাতার পুলিশী আক্রমণ নিয়ে কোনো আপত্তি পেশ করেছেন কিনা, অবাক হইনি যে শিক্ষকনেতা তখন যথাসম্ভব ভাব-গম্ভীরভাবে প্রশ্নটা সামলাবেন। আসলে একভাবে এড়িয়েই গেলেন। তাঁদের পরিস্থিতিটা বোঝার জন্য বিশেষ গবেষক হবারও দরকার পড়ে না। ‘ভিক্ষাটা অন্তত জুটুক মা, আপনার কুত্তার কামড় দুইটা খেয়ে হলেও।’ হয়তো গরিব, পিপার-স্প্রে-প্রবণ শিক্ষককুল সবচেয়ে সঠিক আচরণ মনে করেছেন শিক্ষামন্ত্রীকে লয়্যালটি প্রদর্শনই, যে লয়্যালটি ‘কম্যুনিষ্ট’ শিক্ষামন্ত্রীর ব্যক্তিত্বের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হয়ে দেখা দিয়েছে অধুনা, সমপ্রতি, অবশ্যই মন্ত্রী হবার পর। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী কি পুলিশ প্রশাসনের কাছে জবাব চেয়েছেন যে কেন এই সারাবছর আধপেটা এবং ওইদিন খালিপেটা শিক্ষকদের উপর পুলিশ হামলা করেছে? মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী কি জানতে চেয়েছেন গত কয়েকমাস শিক্ষকদের উপর এরকম হামলা হচ্ছে কেন? বাংলাদেশের শিক্ষকদের প্রতি, তাঁদের শিক্ষার্থীদের প্রতি, অভিভাবকদের প্রতি কোনো বার্তা কি শিক্ষামন্ত্রী দিয়েছেন যে এই ঘটনা তিনি কোনোমতেই সহ্য করতে পারেননি? তিনি এরকম কিছু আশঙ্কা করেননি? তিনি মর্মাহত? ক্ষুব্ধ? তিনি ক্ষমাপ্রার্থী?
যেরকম নাজুক অবস্থায় গিয়ে তাঁরা বাংলাদেশের শিক্ষার বনিয়াদী অংশে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন, সেটা এমনিতেও ধন্যবাদার্হ। সেলাম জানানোর মতো। এর মধ্যে এমপিওভুক্তির দাবি নিয়ে যতবার তাঁরা ঢাকায় জড়ো হয়েছেন ততবারই নৃশংস পুলিশী হামলার মুখোমুখি হয়েছেন। প্রকাশ্য রাস্তায় বেদনায় ও অপমানে শিশুর মতো কান্নাকাটি করেছেন। জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার বাটিয়ানি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান সাহেব মারা গেলেন বাড়ি ফিরে, ১৫ মে। জলকামানের আঘাত সামলে, পুলিশের লাঠিচার্জ খেয়ে, মানসিক আঘাত সামলাতে না পেরে বাসায় ফিরে হূদরোগে মারা গেছেন। অন্যান্য আজিজুর রহমানদের শারীরিক ও আত্মিক ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ আমরা নিয়ে উঠতে পারিনি। সময়ের অভাবে, কিংবা একটা ঠিকমতো গড়ে-ওঠা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে। এরকম একটা দোজখনামার মধ্যে তাঁরা আশ্বাস পেয়েছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। সেটিও অক্টোবরের কথা। বার্তাটি পাবলিক করা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকেই। সেই আলাপ প্রধানমন্ত্রী করেননি। আবার শিক্ষকেরা ঢাকার রাজপথে তাঁদের দাবিটা জানাতে এসেছিলেন। দাবিটা হচ্ছে নিজেদের প্রাণ চালানোর ন্যূনতমেরও নিচু পরিমাণ রসদ। এ দফায় এসে তাঁরা নতুন অস্ত্রের মুখোমুখি হলেন। পিপার-স্প্রে। মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেবার যন্ত্র পুলিশে সংযোজন করা হয়েছে খুব সদ্য। ১৬ জানুয়ারির সিপিবি-বাসদের হরতালে সার্থক প্রয়োগ করা হয়েছে। শিক্ষকরা এটি লাভ করলেন আরও আগে। এ দফা পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার চরব্যারা মডেল বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সেকান্দার আলী মারা গেলেন ১৪ জানুয়ারি। সম্ভবত আমাদের মতো শিক্ষামন্ত্রীও সেটা শুনে থাকবেন। অথবা তাঁর দপ্তর থেকে হয়তো আরও ত্বরিত খবর দেবার ব্যবস্থা তাঁর রয়েছে। কিন্তু তিনিও বোধহয় স্প্রে’র মাহাত্ম্যে বুঁদ হয়ে ছিলেন। এই শিক্ষকদের জীবনে স্প্রে খুবই বিরল ঘটনা বটে!
এসব শিক্ষকের জীবনে বঞ্চনার কোনো শেষ নেই। এমনিতেই বাংলাদেশে শিক্ষকদের বেতন চেনাজানা হিসেব মতে বিশ্বে অতুলনীয়। প্রাথমিক বা মাধ্যমিক শিক্ষকদের অবস্থা আরও করুণ। এটা হচ্ছে সরকারি বিদ্যালয়গুলোর প্রসঙ্গ। যেসব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হবার চেষ্টা করছে তাদের পরিস্থিতিটা একটা উত্কট উভসঙ্কটের। সামান্য এই সরকারি বেতনের কাঠামোটা পেতেই তাঁদের লড়াই করতে হচ্ছে। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের সরকারি স্কুলের পাশাপাশি ঐতিহাসিকভাবেই বেসরকারি স্কুল অতীব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অধুনা বাংলাদেশে শিক্ষার ব্যাপক ব্যক্তিমালিকানাকরণের আর ইংরেজিকরণের জোয়ারে নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য পার্থক্য করাই মুশকিল যে বেসরকারি স্কুল মাত্রই মুনাফাভিত্তিক নয়। ব্যক্তিমালিকানাধীন মুনাফাভিত্তিক বেসরকারি স্কুল আর দাতব্য বেসরকারি স্কুলের শিক্ষাদর্শন, সমাজভাবনা এবং সামাজিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে ফয়সালাগুলো বিস্তর আলাদা। বাংলাদেশের অধিকাংশ সুনাম-কুড়ানো স্কুল-কলেজ দাতব্য প্রক্রিয়ায় গড়ে-ওঠা। সচ্ছল গৃহস্থ কিংবা ধনবান সামন্তদের সামাজিক দায়-দায়িত্বের ফসল এগুলো। প্রতিষ্ঠার পর বহু বছর পর্যন্ত সেগুলোর অধিকাংশই টিকেও ছিল দাতাদের প্রদত্ত সহায়-সম্পত্তির মারফত। এসব অনেক স্কুল-কলেজই পরে সরকারিকরণ হয়েছে, রাষ্ট্রীয় রাজস্ব কোষাগার থেকে সেগুলোর অর্থায়ন হয় আর শিক্ষকরা ন্যূনতম আয়ে টিকে থাকেন। বাংলাদেশের নাজুক শিক্ষাকাঠামোর সবচেয়ে বড় বুনিয়াদটি এভাবেই সচল। এর বাইরেও আরো বেসরকারি স্কুল আছে যেগুলোর সূচনা ঘটেছে বিশেষ কারো দাতব্য প্রচেষ্টায়, কিন্তু উত্তরকালে সেগুলো সচল রাখবার দায়িত্ব নিয়েছিলেন সমাজের মানুষজন। তাঁদের নানাবিধ সাহায্য-সহযোগিতায় স্কুলগুলো সচল থাকে। খুব সরল করে বললে, এই হচ্ছে বাংলাদেশে বিদ্যায়তন গড়ে উঠবার জনপদীয় উদ্যোগ, প্রচেষ্টা এবং প্রবণতা। এই ইতিহাসের ব্যাপারে ভালমতো বোঝাপড়া না-থাকলে বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে হাতি-ঘোড়া করবার ঘোষণা একেবারে ফাঁপা বাগাড়ম্বর ছাড়া কিছু হবে না। কিন্তু ধনবান সামন্ত একটা অতীত বাস্তবতা; এবং গত শতক বা তারও আগে স্থাপিত স্কুলগুলো বাংলাদেশের প্রাথমিক মাধ্যমিক শিক্ষার প্রয়োজন মেটাতে নেহায়েত্ অপ্রতুল। এর সঙ্গে সরকারি স্কুলগুলো জুড়ে দিলেও বাংলাদেশের বিশাল জনপদের প্রয়োজন মেটে না। এরকম একটা বাস্তবিক-ঐতিহাসিক পরিস্থিতিতে স্থানীয় মানুষজন, হয়তো নানান তাগিদে, জড়ো হয়ে স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। এসব উদ্যোগের অন্তর্দর্শন প্রগাঢ়, মমতাময়, জনস্পন্দনশীল। রাষ্ট্রের পক্ষে পুরস্কৃত দেয়া যদি কঠিনও হয়ে যায়, অন্তত সাধুবাদ দেবার কথা। যেসব শিক্ষক অনিশ্চিত এক পেশাজীবনে অনুপ্রবেশ করেন তাঁদের এই অনিশ্চয়তা বরণের মধ্যেও একটা সামাজিক জীবনের আকাঙ্ক্ষা আছে। এখানে এই প্রক্রিয়াটি যত সরল করে আমি উপস্থাপন করলাম, ততটা সরল কিছুতেই নয়। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে জনপদের যূথবদ্ধ থাকবার, দীন-হীন অথচ প্রাঞ্জল, সম্পদহীন অথচ উদ্যমী একটা সামাজিক প্রবাহ আছে; নানাবিধ পক্ষ ও সম্পদ-স্বার্থের মধ্যেও।
মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন তাঁর মরিচ গুঁড়ার মাহাত্ম্য গাইতে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন তিনি বাংলাদেশের এই ইতিহাসের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী যখন শুক্রবারে সভায় বসেছিলেন শিক্ষকদের সঙ্গে, পূর্ববর্তী একটা হামলার জন্যও ক্ষমা না-চেয়ে, এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রলম্বিত সেই আশ্বাসখানিই জানাতে, তিনিও এই ইতিহাসের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। ঠিক একইভাবে হয়তো নয়। আসলেই নয়। মরিচের মাহাত্ম্য নিয়ে যতই বাহাদুরি দেখাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অবশ্য শিক্ষামন্ত্রী তা করেননি। কিন্তু তিনিও কিতাবের, কিংবা সেই কিতাব যিনি পড়ান সেই শিক্ষকের পক্ষে একটা শক্ত কদম রাখতে পারেননি। সদ্য আনা পিপার-স্প্রে’র ধোঁয়ায় ফিকে হয়ে গেছে তাঁর মুখখানাও। তাঁর লয়্যালটি যত উজ্জ্বল হয়েছে, দূরের স্কুলগুলো তত ম্লান দেখাচ্ছিল। তাঁদের দু’জনকেই পিপার-সেপ্রয়ার লেগেছে।
মরহুম আজিজ সাহেব কিংবা মরহুম সিকান্দার সাহেব কেউকেটা নন। ‘শিক্ষক’-জীবন যেমন মলিন ছিল তাঁদের, মৃত্যু এসেছে ততোধিক মলিনভাবে। তথাপি, এই দুই শিক্ষাবিদ গুটিকয় মানুষের নশ্বর চোখের জগতে থেকে যাবেন। হয়তো এ্যালবামে, হয়তো স্কুলের গ্রুপ ফটোতে কিংবা হয়তো নিছকই পরিবারের মালা-ঝোলানো ছবিটিতেই কেবল। আরও হয়তো মানুষের স্মৃতিকথায়, বেদনাবিধুর বিকেলে একটা দুটো মাচার গালগল্পে। খুব কম তার দর্শক। খুব কম তার শ্রোতা। কিন্তু পিপার-স্প্রে এতখানি ধূসর তাঁদের করতে পারবে না যে তাঁরা ইতিহাস বিমুক্ত হয়ে যাবেন। তবে মন্ত্রীদ্বয়ও যে আজিজ সাহেব বা সিকান্দার সাহেবের মতো স্প্রে’র ধোঁয়া ফুঁড়ে একটা মুখাবয়ব দীর্ঘকাল কোথাও অটুট রাখতে পারবেন সেই ভরসা খুব সামান্যই।
জনাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পিপার-স্প্র্রে’র যোগান পর্যাপ্ত থাকলেও শহীদ মিনারে সেটা প্রয়োগ করা ঠিক হয়নি। আপনি অর্থনীতির ছাত্র। যোগানের প্রাচুর্যে বেসামাল হওয়ার ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চয়ই আপনি জানেন।
লেখক : শিক্ষক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
