রাজনীতিবিদদের
মনোভাবের পরিবর্তন
জরুরি
একটা সময় ছিল যখন রাজনীতি কথাটা দিয়ে রাজার নীতিই বোঝাতো। রাজনীতি দিয়ে আসলে তাই বোঝানো উচিত। আর রাজনীতিবিদগণ হবেন দেশের সাধারণ মানুষের নির্ভরতা ও আস্থার জায়গা। কিন্তু এখন কিছু কিছু রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী তাদের নিজ প্রতিভা ও কর্মগুণে রাজনীতিকে একটা জঘন্য গালির পর্যায়ে নামিয়ে এনেছেন। আমাদের দেশটা আক্ষরিক অর্থেই সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা এবং অসম্ভব সম্ভাবনাময় একটা দেশ। অনেক জীবন ও সম্মান হারিয়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আর যাদের জীবন ও সম্মানের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি তারা নিজের কথা একবারও ভাবেননি, ভেবেছেন দেশ ও মানুষের কথা। তারা যদি নিজেদের কথা ভাবতেন তবে আমরা কখনোই স্বাধীনতা পেতাম না। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত একত্রে দেশের জন্য কাজ করা। নির্বাচনকে নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ হতে দেয়া। হরতাল বা বিক্ষোভ করে নয়, আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। দেশের সাধারণ মানুষ তাদের ভাল-মন্দ সবকিছুর দায়িত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে কোন একটি রাজনৈতিক দলের হাতে দিয়ে দেয়। আর নির্বাচিত রাজনৈতিক দলই আইনসম্মতভাবে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকার পায় এবং একটি রাজনৈতিক দলই জনগণের সমর্থনে পাওয়া ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার করে দেশের সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে পারে। তাই নির্বাচন অবশ্যই সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে হবে যাতে দেশের সাধারণ মানুষ সঠিক দলটির হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারে। আর সে জন্য প্রথমে তাদের মনোভাব পাল্টাতে হবে।
শামীমা ইয়াসমিন মিতা
সম্মান (৪র্থ বর্ষ),
ইংরেজি বিভাগ,
ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ
শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন থাকলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব
বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিরাজ করছে অনেকদিন ধরে। এখনো শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায়নি। এ জন্য দায়ী আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো। তাদের সদিচ্ছার বড়ই অভাব পরিলক্ষিত হয়। তারা বিরোধী দলে থাকলে বলে একসুরে, ক্ষমতায় গেলে বলে আরেক সুরে। সাধারণ জনগণ তাদের সুরের মাঝে ডুবে গেছে। জানি না কবে তারা জেগে উঠতে পারবে। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে দেশ ও জনগণ জিম্মি। রাজনৈতিক দলগুলোর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটছে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হয়নি। সত্যিকার গণতন্ত্র চর্চা শুরু না হলে গ্রহণযোগ্য কোনকিছু আশা করা সম্ভব নয়। নির্বাচনকে ঘিরে ভয়াবহ পরিবেশ সৃষ্টি হলে সাধারণ জনগণ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এদেশের সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক দলগুলোর ইচ্ছা-অনিচ্ছার কাছে জিম্মি, যদি নির্বাচনকে ঘিরে সঙ্কট এড়ানো সম্ভব না হয় তাহলে সাধারণ জনগণকে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হবে। অতীতের মত এক দল আরেক দলের উপর দায়বদ্ধতা চাপিয়ে নিজেদেরকে নির্দোষ প্রমাণের নির্লজ্জ চেষ্টা করবে।
মো. মিজানুর রহমান
বি এ অনার্স (বাংলা),
এম এ অধ্যয়নরত
সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা
জনগণের কথা ভেবে জনগণের জন্যই নির্বাচনের সিদ্ধান্ত
নিতে হবে
একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে বাংলাদেশের নির্বাচন তো গণতান্ত্রিক পন্থায়ই সম্পন্ন হওয়া উচিত। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একাধিক রাজনৈতিক দল থাকবে, থাকবে সরকারি দল, থাকবে বিরোধী দল। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশিত রাজনৈতিক দল সরকার গঠন করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা কি দেখছি— যখনই আমাদের দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, নির্বাচনের সময় সৃষ্টি হচ্ছে নানা জটিলতা। বিরোধী দলগুলো মেনে নিতে পারছে না জনগণের ভোটে নির্বাচিত দলকে। ২০১৩ নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যে সরকারি এবং বিরোধী দলের বিরতিহীন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক দল হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির কার্যাবলী দেখে এদেশের মানুষ শঙ্কা অনুভব করছে যে, ২০১৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হওয়া আদৌ সম্ভব হবে কী? রাজনীতি নিজের জন্য নয়, জনগণের জন্য রাজনীতির এ মূলমন্ত্র আজ পদদলিত হচ্ছে দেশের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের কাছে। অথচ মানুষের কথা ভাবতে হবে, এদেশের প্রতিটি জনগণের কথা ভাবতে হবে, জনগণের কথা ভেবেই দু’দলকে আগামী নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে কোন প্রশ্ন তৈরি হবে কিনা তা সরকারি দলকে ভাবতে হবে। সর্বোপরি এ দেশের জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা তার সার্বিক উন্নয়নের কথা নতুন করে ভাবতে হবে সরকারি এবং বিরোধী দল উভয়কেই।
ফারহানা খান
মাস্টার্স ১ম বর্ষ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,
বরিশাল সরকারি কলেজ
দেশের স্বার্থে দুই নেত্রীকে সংলাপে বসা উচিত
আমাদের প্রাণপ্রিয় এই বাংলাদেশ আজো পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি থেকে বের হতে পারেনি। দেশের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দল প্রত্যেকটি বিষয় নিয়ে একে অন্যের দিকে কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি করছে। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থার যদি সুযোগ তৈরি না করা যায় তাহলে আমাদের দেশে আবার ওয়ান ইলেভেনের মতো ঘটনা ঘটতে পারে। উভয় দলই তাদের মতাদর্শ নিয়ে সামনে এগুচ্ছে। তারা নির্বাচন দেয়ার পরিবেশ নিয়ে বাস্তব কোন চিন্তা করছে না। নির্বাচনের সময় যতই কাছে চলে আসছে ততই নির্বাচন সম্পর্কে সংশয় তৈরি হচ্ছে। কোন স্বার্থে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রথাকে বাদ দিয়েছে। ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে জাতীয় স্বার্থকে অবশ্যই উভয় নেত্রীর প্রাধান্য দিতে হবে। জনগণের সামনে খোলাখুলি আলোচনা তুলে ধরতে হবে। আর এ জন্য উভয় নেতাকে সংলাপে বসতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকুক আর নাই থাকুক তা ভাবার বিষয় নয়। বর্তমানে সরকার যদি এমন পরিবেশ তৈরি করতে পারে যার মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন করা সম্ভব, তাহলে তার বাস্তব প্রমাণ দিয়ে বিরোধী দলকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনুক। কোন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার আশ্রয় না নিয়ে যদি উভয় দল দেশের স্বার্থে সংলাপে বসে তাহলে অবশ্যই এ সমস্যার সমাধান দেয়া সম্ভব। আমরা সরকারি দলের কাছে এমন কিছু আশা করব না যার কারণে বিরোধী দল বার বার আন্দোলনের নামে হরতাল, ভাংচুর করবে। পক্ষান্তরে প্রতিবাদ করতে গিয়ে সরকারি দল পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আমরা বিগত সময়গুলোতে দেখেছি উভয় দলই একে অন্যের বিরুদ্ধে সহিংসতা ছড়াচ্ছে। দেশের সকল সমস্যার সহজ সমাধান হচ্ছে দুই নেত্রীকে একত্রে বসানো। একমাত্র তারা দু’জনই পারে সহজে সমস্যার সমাধান দিতে।
মো. মোফাজ্জল হোসেন
মাস্টার্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়
