আমার মা কেঁদে বলেছেন ক্ষমতা হচ্ছে বিষ

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৫
ভারতের ক্ষমতাসীন কংগ্রেস পার্টির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর রবিবার জয়পুরে সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির অধিবেশনে দেয়া বক্তৃতায় রাহুল গান্ধী অত্যন্ত আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মা গতরাতে আমার রুমে এসে কেঁদে বলেছেন, এখানে অনেক লোক যে ক্ষমতার পিছনে ছুটছে, সে ক্ষমতা মূলত একধরনের বিষ। আর এই বিষই একসময়ে ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তার এই বক্তব্যের একদিন আগে অর্থাত্ শনিবার রাজস্থান প্রদেশের রাজধানী জয়পুরে দলের শীর্ষ বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে রাহুল গান্ধীকে ওই দায়িত্ব দেয়া হয়। খবর এনডিটিভির। রাহুল গান্ধী তার মায়ের কথা শ্রদ্ধাচিত্তে স্মরণ করে বলেন, গতরাতে আমাকে এ নতুন পদে আসার জন্য অনেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আমিও তাদের শুভেচ্ছা সাদরে গ্রহণ করেছি। আমি সেসঙ্গে স্মরণ করছি আমার দাদি ইন্দিরা গান্ধীর কথা। ১৯৮৪ সালে যিনি নিরাপত্তা প্রহরীদের হাতে নিহত হন। আমি আরো স্মরণ করছি আমার পিতা রাজিব গান্ধীর কথা। তারা সবাই ছিলেন এ দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ। তিনি বলেন, আমার মা বুঝেছিলেন যে, ক্ষমতা হচ্ছে একটা বিষের মতো। আর এ বিষে তিনি তার নিজেকে কখনোই সম্পৃক্ত করেননি। তিনি বলেন, এই বিষের প্রতিষেধক কি তা আমাদের ভেবে বের করতে হবে। আমাদের কখনোই ক্ষমতার জন্য লালিত হওয়া উচিত নয়। আমাদের এই ক্ষমতাকে ব্যবহার করা উচিত কেবল জনতার কণ্ঠকে শক্তিশালী করার জন্য। রাহুল গান্ধী তার শৈশবের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি তখন ব্যাডমিন্টন খেলতে ভালোবাসতাম। কারণ এর মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্য বুঝতে পারা যায়। রাহুল গান্ধী আরো বলেন, নতুন এ পদে আমি নির্বাচিত হওয়ায় আমি বুঝতে পেরেছি যে, আমার দায়িত্ব বহুগুণ বেড়ে গেছে। এ দায়িত্বকে মেনে নিয়ে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে এবং সে লক্ষ্যেই আমাদের সকলকে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের অবশ্যই আশা থাকতে হবে। কেননা আশা ছাড়া কোন কিছুই হয় না। এ কারণে প্রত্যেকটি কাজে আমাদের পরিকল্পনামাফিক এগুতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের অনেকের কাজের জন্য ধারণা রয়েছে । কিন্তু সেই ধারণা যদি কাজে না লাগিয়ে বাস্তবে রূপায়ণের আশা না থাকে তাহলে তার কোন মূল্য নেই। তাই আমাদের অবশ্যই আশা নিয়ে পরিবর্তনের দিকে যেতে হবে। তিনি বলেন, এই পরিবর্তনে কংগ্রেস হচ্ছে একটা আশার প্রতীক। পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, ভারতের গোটা যুবসমাজ এখন নতুন কিছু চায়। তারা পরিবর্তনের পিছনে ছুটছে। তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে ভারতের জন্য একটা কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারবো। উল্লেখ্য, শনিবার পার্টির কার্যকরী কমিটির বৈঠকে রাহুল গান্ধীকে দলের সহ-সভাপতি করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষ নেতা এ কে অ্যান্টনি। প্রস্তাবটি সমর্থন করেন শীর্ষ নীতি-নির্ধারকেরা। এর ফলে কংগ্রেস পার্টিতে রাহুলের বড় ভূমিকা রাখার ব্যাপারে যে গুঞ্জন চলছিল তার অবসান ঘটল। সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর পর দলের নীতি-নির্ধারণে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ছেলে রাহুল। এর ফলে, আগামী ২০১৪ সালে ভারতের সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করতে পারেন রাহুল গান্ধী। দায়িত্ব পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় রাহুল গান্ধী বলেন, আমার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে। কংগ্রেস একটি বড় দল এবং আমরা দেশকে এগিয়ে নিতে পারবো। কংগ্রেস পার্টির মুখপাত্র জনার্দন দ্বিবেদি বলেন, এ সিদ্ধান্ত কংগ্রেস পার্টি ও এর সভানেত্রীর হাতকে আরো শক্তিশালী করবে এবং এর মাধ্যমে কংগ্রেস পার্টির তরুণ কর্মীরা উজ্জীবিত হবেন।