কাবুলে ট্রাফিক সদর দপ্তরে আত্মঘাতী হামলা

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৬
আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের পশ্চিমে ট্রাফিক পুলিশ ভবন চত্বরে বন্দুকধারী ও আত্মঘাতী বোমা হামলায় দু’জন নিহত এবং ১০জন আহত হয়েছে। গতকাল সোমবার ভোরে নিরাপত্তা বাহিনী ও শসস্ত্র জঙ্গিদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এদিকে ২০১২ সালে দেশটিতে যুদ্ধবন্দিরা কর্তৃপক্ষের সীমাহীন নির্যাতন আর অত্যাচারের শিকার হচ্ছে বলে গত রবিবার জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়। কিছুদিন আগে কাবুলে আফগান গোয়েন্দা সংস্থার সদর দপ্তরে হামলা চালানোর পর আবারো এ বোমা হামলার ঘটনা ঘটলো। এদিন কয়েকজন সন্ত্রাসী ট্রাফিক পুলিশ ভবনে ঢোকার চেষ্টা করে। প্রবেশ পথেই নিরাপত্তা প্রহরীর গুলিতে তাদের দুইজন নিহত হয়। তবে একজন জঙ্গী ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয় এবং এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। এতে চার পুলিশ সদস্য এবং ছয়জন বেসামরিক আহত হয়েছে বলে কাবুল পুলিশ জানিয়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, প্রথমে একটি বিশাল বিস্ফোরণ হয়। এর ব্যাপকতা ছিল অনেক বেশি। এতে ভবনটির সবচেয়ে উপরের ফ্লোরটিতে আগুন ধরে যায়। এর পর পর আরো কয়েকটি বিস্ফোরণ এবং গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে তিনি জানান। এ ঘটনায় ট্রাফিক পুলিশ ভবনের দু’টি কক্ষ আগুনে পুড়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে দুই এবং তিনজন হামলাকারী এখনো ভবনের ভেতর রয়েছে। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছে, হামলাকারী তালেবান যারা ছিল সবাইকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হল আফগান পুলিশ অনেক শক্তিশালী। আমরা সত্যিকার অর্থেই তাদের ধ্বংস করতে পারি এবং দ্রুত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি। এ হামলার ঘটনায় তালেবান এক লিখিত বার্তার মাধ্যমে দায়িত্ব স্বীকার করেছে। ওদিকে ‘আফগানিস্তানের কারাগারে সংঘাত-সম্পর্কিত বিষয়ে আটক বন্দিদের উপর আচরণ’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদন গত রবিবার প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। গবেষণায় ৬৩৫জন বন্দির অর্ধেকেরই বেশির ওপর জরিপ চালানো হয়। এতে দেখা যায়, বন্দিদের রশি দিয়ে হাত বেঁধে ঝুলিয়ে তার এবং কাঠের লাঠি দিয়ে প্রহার করা হয়, বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয়। এছাড়া যৌনাঙ্গে আঘাতের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনও চালানো হয় বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে।