নির্বাচন নিয়ে ভাবনা

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫২
গণতন্ত্র রক্ষার অন্যতম হাতিয়ার সুষ্ঠু নির্বাচন বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ- তা সবার নিকটই জানা। কিন্তু কিভাবে একটি দেশ গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে সংজ্ঞা লাভ করে তা অনেকের কাছেই অজানা। তাই বলতে চাই-গণতন্ত্র হলো জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার এবং তার দ্বারা পরিচালিত শাসন ব্যবস্থা। এই শাসন ব্যবস্থার মূলমন্ত্র হলো দেশের সর্বস্তরের নাগরিক শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে সরকার নির্বাচন করবেন। কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা দেখে মনে হয় বিরোধী দল এবং ক্ষমতাসীন উভয় দলই- গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল- এই নীতিতে এগুচ্ছে। জনগণকে তারা বলির পাঠা মনে করছে। অথচ ভাবতে অবাক লাগে যে, এই বলির পাঠারাই কিন্তু তাদের অস্তিত্ব। অতীত রাজনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে উভয় দলকেই এত দিনে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিকল্পনা করা উচিত ছিল। যা হোক, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার- আপনারা (রাজনৈতিক দল) যা নিয়েই পরিকল্পনা করুন না কেন, জনগণ কিন্তু বোকা নয়। তারা অন্ততপক্ষে সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলতে জানে। জনগণ বাহুতে দুর্বল, কিন্তু মনে অনেক সবল। লিবিয়া এবং মিশর তারই উদাহরণ। যা হোক, আওয়ামী লীগ সরকার বলছে, তাদের জনপ্রিয়তা সকলের ঊর্ধ্বে। তাহলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতে এত সংশয় কেন? তাছাড়া বাংলাদেশের মত দুর্বল আইন-প্রশাসনের দেশে এমন পরিস্থিতিতে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার দেয়া যে কত জরুরি তা কোন একসময় সবাই বুঝে নিবে আশা করি। তাই গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষায় নির্দলীয় সরকারের অধীনে প্রতিটি জাতীয় নির্বাচন নিশ্চিত করুন, দেশ বাঁচান। মো. জুয়েল আইন বিভাগ, ২য় বর্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। দুই নেত্রীর দূরত্ব কমিয়ে সমঝোতা সৃষ্টি করতে হবে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। এদেশের রয়েছে হাজারো বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য। এদেশের মানুষ জন্মলগ্ন থেকে প্রকৃতির সাথে সংগ্রাম করে বেঁচে আছে। বাংলাদেশের মানুষ কখনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করতে শিখেনি। তারা শির উঁচু করে বরণ করেছে বহু নির্যাতন। বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা খুবই নাজুক। আমাদের দুই নেত্রীর অবস্থান দুই মেরুতে, তাদের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে চীনের মহাপ্রাচীর তৈরি হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো বেশামাল হয়ে উঠেছে। আমি মনে করি পৃথিবীতে একমাত্র শিশু ও পাগল ব্যতীত কেউ নিরপেক্ষ নয়। তাই এই অবস্থায় দুই নেত্রী একই টেবিলে বসে কিছু মিষ্টি বিনিময় করে একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে যে, কোন্ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন করলে জাতি একটি অবাধ, সুষ্ঠু, সুন্দর নিরপেক্ষ নির্বাচন পাবে। শেষবারের মতো অনুনয় করে বলছি আপনারা আর রেষারেষি না করে জীবনের শেষ মুহূর্তে জাতিকে কিছু দিয়ে যান যাতে করে মৃত্যুর পরে জাতি আপনাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে, কেন না ক্ষমতা নদীর তীরের বালুঘর যা নিমিষে ধ্বংস হয়ে যায়। মো. রাজিব হোসেন (মাজেদ) বিএসএস (সম্মান) অর্থনীতি বিভাগ (২য় বর্ষ) সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ। নির্বাচন কমিশনকে আরো শক্তিশালী করা প্রয়োজন দেশের রাজনীতিতে আগামী নির্বাচন নিয়ে যে বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে তা অবলীলায় বলা চলে। অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প কিছু হতে পারে না। তাই একটি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কতটা প্রভাবমুক্ত হবে সেটা বলা বড় মুশকিল। সংবিধান অনুসারে দেশের নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করার কথা থাকলে দীর্ঘ দিনেও তা নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারেনি। বলা চলে করতে দেয়া হয়নি। অতীত ইতিহাস দেখলে সে চিত্রই প্রকাশ পায়। যখনই যে দল ক্ষমতায় থাকে তখন সে দল ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার জন্য নির্বাচন নিয়ে নানা কৌশল অবলম্বন করে থাকে। তাতে করে দেশের মধ্যে অরাজকতা এবং সহিংসতা বৃদ্ধি পায়। তাই আগামী নির্বাচন নিরপেক্ষতা বজায় রাখা নির্বাচন কমিশনারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যদি সত্যিকার দেশের প্রতি মমত্ববোধ থেকে থাকে তাহলে অরাজকতার পথ পরিহার করে কিভাবে দেশের নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু করা যায় তার দিকপাল ঠিক করতে পদক্ষেপ নিবেন। নইলে যে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে তাতে দেশের পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তা বলা মুশকিল। জিদনী আক্তার জান্নাত ফাযিল ১ বর্ষ, ধীপুর ইসলামিয়া ফাযিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা, টঙ্গীবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ। সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য গণভোটের আয়োজন আপনারা যারা বহির্বিশ্বের খবরাখবর মোটামুটিভাবে রাখেন তারা হয়তোবা জানেন বছর দুয়েক আগে ইংল্যান্ডে শিক্ষা ব্যয় নীতি সংক্রান্ত একটি বিল পাস করার ব্যাপারে সংঘটিত ঐতিহাসিক গণভোটের আয়োজন যা সমগ্র বিশ্বে ভূমিকম্প তুল্য একটি ঝাঁকুনির সৃষ্টি করেছিল। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে একটি আইন করার জন্য চাওয়া হয়েছিল। আমার আপনার মত নিতান্ত সাধারণ নাগরিকের ভোট। আর তা তো সাধারণের কাছে বিস্ময়কর হিসাবেই ঠেকবে। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার না নির্বাচিত সরকার- কার অধীনে হবে আগামী নির্বাচন? এ নিয়ে দেশের সর্বত্র ঘোলাটে পরিস্থিতি বিরাজমান। যখন রাজনীতিবিদেরা রাজনীতির তপ্ত মঞ্চারোহণ করে চিরাচরিত নিঃষ্প্রয়াজনীয় বাণী আওড়াতে ব্যস্ত এবং সুশীল সমাজের লোকেরাও সরকারকে একটি সুপরামর্শ দেয়ার জন্য উদগ্রীব তখন এ সামগ্রিক পরিস্থিতিকে সামাল দেয়ার জন্য একটি গণভোটের আয়োজন। বাংলাদেশের বিশেষতঃ সংবিধানে যে কয়টি সংশোধনী আনা হয়েছে তা কোনো এক শ্রেণীর কাছে আনন্দের বন্যা হয়ে ধরা দিয়েছে তো অপর শ্রেণীকে যেন বজ্রাঘাতে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে তুলেছে। কিন্তু একটি গণভোটের আয়োজনকে সকল শ্রেণীর লোকই সাদরে গ্রহণ করবে। আর এ হতে প্রাপ্ত টাটকা ফলাফল আগামী নির্বাচনের ব্যাপারে সরকারকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করবে। আর এরূপ একটি ঐতিহাসিক কৃচ্ছ্রতা সাধনের জন্য বর্তমান সরকারও জাতির বাহবা ও সাধুবাদ পেতে পারে। অন্যথায় সংঘাতময় পরিস্থিতি ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হবে। সুতরাং জনগণ নামক নির্যাতিত, নিষ্পেষিত শ্রেণীর রাজনৈতিক গিনিপিগ (!) লোকদের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গণভোটের আয়োজন করুন। এর ব্যতিক্রম হলে সুষ্ঠু নির্বাচন নয়, কন্টকাকীর্ণ এবং বিভীষিকাময় নির্বাসনের দিকেই দেশকে, জাতিকে পাঠানো হবে যার দায় আপনাদেরই নিতে হবে। মু. মুসায়েমুল ইসলাম এইচএসসি পরীক্ষার্থী-২০১৩। বিজ্ঞান বিভাগ এ্যাডভান্সড রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ, ময়মনসিংহ।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন