নির্বাচন নিয়ে ভাবনা

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০৬
প্রয়োজন পরিবর্তনের মানসিকতা এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে, কোন দেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত করার পূর্বশত হল একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। যা নিয়ে কোন দল বা গোষ্ঠীর মতবিরোধ থাকবে না। জনগণের রায়ের পূর্ণ বাস্তবায়নের ফসলস্বরূপ গঠিত হবে একটি আস্থাভাজন সরকার। যেখানে রাজনৈতিক সহিংসতা, ক্ষমতার দাপট, দলীয়করণ আর হরতালের নামে জনজীবনে দুর্ভোগ ডেকে আনার কোন স্থান নেই। যেমনটি আমরা উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর দিকে তাকালে সহজেই অনুধাবন করতে পারি। যেখানে আমেরিকা-ফ্রান্সের মত দেশগুলোতে একই মঞ্চে প্রার্থীদের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন উপস্থিত জনতাকে একটি সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ করে দেয়, সেখনে আমাদের পৃথক মঞ্চের জ্বালাময়ী ভাষণে সহিংসতার শপথ নেয় কর্মী-সমর্থকরা। ফলে আজ পর্যন্ত কোন নির্বাচনের পর কোন বিরোধীদলকেই নবগঠিত সরকারকে শুভেচ্ছা বাণী শোনাতে দেখা যায়নি। উপরন্তু কারচুপির অভিযোগে চলে সংসদ বর্জন। ফলে অকার্যকর সংসদে ইচ্ছামত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার, টেকসই উন্নয়ন থেকে দূরে থাকে দেশ। এ অবস্থার উত্তরণে আমাদের রাজনীতিবিদদের উচিত বহিঃবিশ্বের দিকে দৃষ্টি দিয়ে, সনাতন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে পরিবর্তনের মানসিকতা তৈরি করা। যা তাদের ক্ষমতার মোহকে ছাড়িয়ে উদ্বুদ্ধ করবে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে একটি আস্থাভাজন সরকার ও কার্যকর সংসদ উপহার দেয়ায়। রাকিবুল হাসান রাসেল সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা, বিবিএ (অনার্স), হিসাববিজ্ঞান ২য় বর্ষ। ০০০০০০০০০০০০০০০ দুই দলের সমঝোতাই আলোর পথ দেখাবে ‘রাজনীতি’ মানে, ‘রাজ্য সম্পর্কিত নীতি’ কথাটিতে অবগত হয়েও বেশ দৃঢ়ভাবে অবস্থান করছে দুই দল। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্টি হচ্ছে অস্থিরতা। এভাবে চলতে থাকলে দেশের গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। ভুলে গেলে চলবে না বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। বাংলাদেশে অনেক ত্যাগের বিনিময়েই এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর গণতন্ত্রের মূলভিত্তি হল জনগণ এবং জনগণের স্বার্থই গণতন্ত্রের মূলকথা। যেখানে জনগণ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই নির্বাচিত করেন রাষ্ট্রনায়ক। তাই রাজনীতি টিকিয়ে রাখতে দেশের স্বার্থে দেশের জনগণের স্বার্থে দুদলের ঐকমত্য অপরিহার্য। বিরোধিতার কারণে বিরোধিতা করা বা ক্ষমতাসীন বলে ক্ষমতার অপব্যবহার করার মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। রাজনীতির মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে কিন্তু জাতীয় ইস্যুতে একমত পোষণ করতে হবে। তাই দুই দলকেই সমঝোতায় আসতে হবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতার লোভ ত্যাগ করে দেশের স্বার্থে দেশের মানুষের স্বার্থে কাজ করার মানসিকতা থাকলেই নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব। আশ্রাফুল ইসলাম শ্রেণী-দ্বাদশ, বিভাগ-বিজ্ঞান, সফিউদ্দিন সরকার একাডেমী এন্ড কলেজ, টঙ্গী, গাজীপুর। ০০০০০০০০০০০০০ গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সমঝোতার বিকল্প নেই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে একটি সঠিক, উপযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জনসাধারণের কাম্য। কিন্তু এটি কিভাবে সম্ভব? এই প্রশ্নই আজ জনমহলে সৃষ্ট। এই প্রশ্নের সহজ সমাধান কি? নির্বাচন হল একটি দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। যার মাধ্যমে জনগণের সুখ শান্তি নির্ভর করে। আজ আমাদের এই গণতান্ত্রিক দেশে প্রধান দল দুটি হল- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি)। এই দু’দলকে কেন্দ্র করে প্রধানত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই দিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের দাবি দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অপরদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বি.এন.পি)-এর দাবি কোন দলীয় সরকারের অধীনে নয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে। দুই দলের এই ধাক্কাধাক্কির মাধ্যমে এদেশে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেখা দিয়েছে ব্যাপক সংশয়। যা এদেশের আপামর জনসাধারণের জন্য ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং উভয় দলকে আলোচনার মাধ্যমে এক হয়ে একটি সুষ্ঠু, উপযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আয়োজন করার জন্য এদেশের জনসাধারণের দাবি। মো: আতিকুল ইসলাম (বি.এস.সি. অনার্স) দ্বিতীয় বর্ষ, বিভাগ- গণিত নরসিংদী সরকারি কলেজ। ০০০০০০০০০০০০০০০ নির্বাচনের মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সত্ ও যোগ্য লোক নির্বাচিত হন নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্র সঞ্চালিত রাখার বৃহত্ একটি মাধ্যম। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণের পছন্দের ব্যক্তিবর্গ নির্বাচিত হন। জনগণ তাকেই নির্বাচিত করেন যার মধ্যে তাদের আশার আলো দেখতে পান। এই নির্বাচনের মাধ্যমে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সত্ ও যোগ্য লোক নির্বাচিত হন। আর এই সমস্ত প্রতিনিধির মধ্যে সব সময় ইতিবাচক ভাবনা প্রকট আকারে বিরাজমান থাকে। তারা সর্বদা জনসাধারণের, দেশ ও জাতির কল্যাণের চিন্তা করেন। আর তারা নির্বাচিত হওয়ার কারণ ও উদ্দেশ্য সর্বোপরি মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতাআলার দরবারে জবাবদিহিতাকে ভয় করেন। ফলে তাদের দ্বারা দেশ, জাতি ও বিশ্বে শান্তির বার্তা প্রবাহিত হতে থাকে। কিন্তু এই সুষ্ঠু ধারার ও গণতন্ত্র রক্ষার নিরপেক্ষ মাধ্যম “নির্বাচন” যদি জনগণের কাছ হতে কেড়ে নেয়া হয়, তাহলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে নানান প্রকার সহিংসতা ও মসিবত আসতে থাকবে। তাই আমাদের উচিত নির্বাচনকে নিয়ে টানাহেঁচড়া না করে, যথাসময়ে নির্বাচন দেয়া। আর দেশ ও দশের কল্যাণের কথা চিন্তা করে দেশের জন্য কাজ করা। বাংলাদেশকে একটি আদর্শ ও উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করা। মো. আমিনুল ইসলাম প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, অনার্স সরকারি তিতুমীর কলেজ, ঢাকা ০০০০০০০০০০০ জনগণই রায় দিবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে কি হবে না এ বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন। গণতন্ত্র হচ্ছে একটি দেশের সম্পদ। আর এই গণতন্ত্রকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারো নেই। বাংলাদেশে দুটি দলই প্রধান। তার মধ্যে একদল বলছে অন্তর্বর্তী সরকার, অন্যদল বলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। এমতাবস্থায় আমি মনে করি জনগণ রায় দিবে আগামী নির্বাচনের। জনগণের ভোটের দ্বারা নির্বাচিত হওয়া উচিত। কীভাবে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হবে অর্থাত্ তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে ভোট নেওয়া হলে প্রমাণিত হবে জনগণ কি চায়। কীভাবে হবে বাংলাদেশে আগামীদিনের নির্বাচন। একটি নিরপেক্ষ ও সঠিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এটাই জাতির প্রত্যাশা। বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে ১১তম সুখি দেশ। রাজনীতির দ্বারা আমরা এ সম্মান হারাতে চাই না। মো. তারিকুল ইসলাম (প্রিন্স) কলাগাছিয়া, বামনা, বরগুনা শ্রেণী: একাদশ, বিভাগ: কমার্স বামনা সারওয়ার জান মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, বরগুনা।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন