সংবর্ধনার নামে ইউসিসি’র প্রতারণা

আপডেট : ০২ মে ২০১৯, ১৯:২২

সংবর্ধনা দেওয়ার কথা বলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করে তা ইউনিভার্সিটি কোচিং সেন্টার (ইউসিসি)’র প্রসপেক্টাসে ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় সংবাদ সম্মেলন এ অভিযোগ করেন। সংবর্ধনা নাম করে তথ্য ও ছবি নিয়ে আজও সংবর্ধনা দেয়নি ইউসিসি। বরং ছবি গুলো প্রসপেক্টাসে ব্যবহার করে নিজেদের শিক্ষার্থী দাবি করেছে ইউসিসি। 

তবে এসব বিষয়ে মাথা ঘামিয়ে কোনো লাভ নেই বলে জানান, ইউসিসির ঢাকা হেড অফিসের ম্যানেজার সেলিম।

সংবাদ সম্মেলনে আইন বিভাগের লামিয়া, এষা, মারুফ, মোর্শেদ, তন্বী, আছিয়া, হুমায়ুন কবীর, সাজেদুল হকসহ ১৯জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সানজিদা ঢালী বলেন, ‘চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউসিসি কর্তৃপক্ষ সংবর্ধনার নাম করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া বিভিন্ন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের তথা আমাদের কাছ থেকে ছবি, মোবাইল নম্বর, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও প্রাপ্ত জিপিএ সহ ফরম পূরণ করিয়ে নেয়। 

এসব তথ্য ব্যবহার করে ইউসিসি ২০১৯ সালে রাজশাহী শাখা থেকে প্রকাশিত প্রসপেক্টাসে আমাদের ইউসিসি’র শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমাদের কেউই ইউসিসি’তে কোচিং করিনি। ইউসিসি কর্তৃপক্ষ যেভাবে তাদের শিক্ষার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার ও প্রতারণা।’

সানজিদা বলেন, ‘শুধু আইন বিভাগই নয়, অন্য বিভাগেরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর ছবি ব্যবহার করেছে ইউসিসি। দুয়েকদিন আগে সংবর্ধনার জন্য আমাদের মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠায় ইউসিসি সাহেব বাজার শাখা। সে অনুযায়ী ১৩ মে তারা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন এবং আমাদের চলতি মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে অনুষ্ঠানের টোকেন সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।’
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউসিসি রাজশাহী শাখার পরিচালক দেলোয়ার হোসেন এই অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, ‘প্রসপেক্টাসে আমরা যাদের ছবি ব্যবহার করেছি তারা সবাই আমাদের কোচিংয়ের শিক্ষার্থী। সব তথ্য আমাদের কাছে আছে। আমাদের শিক্ষার্থী যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে তাদের সংবর্ধনার জন্য পরবর্তীতে তথ্য সংগ্রহ করেছি। ওই সময় যদি অন্য কেউ নিজে থেকে ফরম পূরণ করে সেক্ষেত্রে আমাদের কিছু বলার নেই।’ 

আরও পড়ুন: ‘ফণী’ মোকাবেলায় প্রস্তুত সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান

ভর্তির সময় সবার মোবাইল নম্বরসহ সকল তথ্য ইউসিসির কাছে থাকলেও পরে কেন সংগ্রহ করা হল?  এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি ইউসিসির ওই কর্মকর্তা।

ইউসিসির ঢাকা হেড অফিসের ম্যানেজার সেলিম বলেন, ‘কেউ যদি ইউসিসিতে কোচিং না করে তাহলে তাদের ছবি ছাপানোর ক্ষমতা আমাদের নেই। রাজশাহী শাখা এমনটা করেছে কিনা জানি না। ওদের সঙ্গে কথা বলে দেখবো। আর এসব বিষয়ে আপনার-আমার মাথা ঘামিয়ে লাভ নেই।’

ইত্তেফাক/অনি