ভারতে ধর্ষণকারীর মৃত্যুদণ্ড নয়, আমৃত্যু কারাদণ্ডের সুপারিশ করেছে একটি বিশেষ কমিশন। ধর্ষণের ঘটনা ও আইন সংশোধনের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিচারপতি জে এস ভার্মার নেতৃত্বাধীন এই কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশন নারী নির্যাতনের মামলাগুলো দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তরেরও সুপারিশ করেন।
বিচারপতি জে এস ভার্মার নেতৃত্বে গঠিত কমিশনে সদস্য করা হয় হিমাচল প্রদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি লাইলা শেঠ ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল গোপাল সুব্রামনিয়ামকে। কমিশন করার ২৯ দিনের মাথায় বুধবার ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেয় ভার্মা কমিশন। তবে মৃত্যুদণ্ডের দাবির সঙ্গে একমত না হয়ে ভার্মা কমিশন বলেছে, ভারতের প্রচলিত আইন কার্যকর করতে পারলেই নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি সম্ভব। আইনে নয়, গলদ আইনের শাসন বাস্তবায়নে। এ ধরনের মামলায় পুলিশ ও প্রশাসনের মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি জে এস ভার্মা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশের একটি বড় অংশ সমাজকে ‘সংকীর্ণ পিতৃতান্ত্রিক’ দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেন। এজন্য পুলিশ ব্যবস্থার সংস্কার করে রাজনীতির প্রভাবমুক্ত থেকে কাজ করতে পারার পরিবেশ তৈরির সুপারিশ করেছে কমিশন।
মৃত্যুদণ্ডের বদলে ধর্ষণের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসাবে আমৃত্যু কারাদণ্ডের পক্ষে মত দিয়েছেন কমিশনের সদস্যরা। তবে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রচলিত আইন অনুযায়ীই মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
