কংগ্রেস কমিটির দেয়া বক্তৃতায় রাহুল গান্ধীর মা যে ক্ষমতা মূলত এক ধরনের বিষ বলে উক্তি করেছেন তা ঠিকই বলেছেন। ক্ষমতা হচ্ছে যোগ্যতা। যার সঠিক যোগ্যতা আছে তারই মানায় এই পদ। তাছাড়া বর্তমানে এশিয়া ও আমাদের দেশেও ক্ষমতার দাপট চলছে। কিন্তু ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, সবই এই ক্ষমতার দাপটের জন্য হারিয়ে গেছে কোন কোন পরিবার। ভারতের লোকসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাই প্রধানমন্ত্রী হন। সুতরাং রাজনৈতিকভাবে এদেশে বিষয়টিতে মনোনিবেশ করা দরকার।
নীলুফা আক্তার,
টোলারবাগ,
মিরপুর, ঢাকা
সোনিয়া গান্ধী যা বলেছেন তা একেবারেই সত্য বলে আমি মনে করি। ক্ষমতা হচ্ছে লোভ-লালসার বিষয়। সুতরাং আমাদের দেশে বর্তমান সময়ে নির্বাচন নিয়ে দুই দলের মধ্যে যা হচ্ছে সেটা বিষের মতো। শুধু ক্ষমতায় বসার জন্য মনে হয় প্রতিযোগিতা হচ্ছে।
নূসরাত ইয়াসমীন টুম্পা,
এসএসসি পরীক্ষার্থী,
মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, ঢাকা
অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি বিষয় উপস্থাপন করার জন্য আমি ইত্তেফাককে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি রাহুল গান্ধীর মা সোনিয়া গান্ধী যে কথা উচ্চারণ করেছেন ক্ষমতা বিষের মতো তা একেবারেই আলোর মতো সত্য। আমি বলবো, আমাদের দেশে সরকারি ও বিরোধী দলের জন্য এটা খুবই উপযোগী বিষয়।
রোকসার আন্নুর,
মাইক্রো বায়োলজি,
১ম বর্ষ,
ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ঢাকা
ক্ষমতাকে বিষের সাথে তুলনা করে সোনিয়া গান্ধী একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক পরিচল দিয়েছেন। ক্ষমতাকে পুঁজি করে কোন নেতাই দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকেননি। সুতরাং ক্ষমতা হলো এক ধরনের লোভ। সে লোভে পড়ে এদেশের রাজনৈতিক দলগুলো এলোমেলোভাবে দল করে চলেছে।
ফারুক আলম,
মালিবাগ, ঢাকা
গত রবিবার সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির অধিবেশনে দেয়া বক্তৃতায় রাহুল গান্ধী অত্যন্ত আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেছেন— আমার মা বলেছেন, ক্ষমতা মূলত এক ধরনের বিষ। আমরা এশিয়া মহাদেশের ইতিহাসে দেখতে পাই নানা পরিবর্তন। শুধু ক্ষমতার জন্য আজ আমাদের দেশে সহিংসতা চলছে। সুতরাং এ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
মো. মোজাহারুল ইসলাম,
সাভার, ঢাকা
সোনিয়া গান্ধীর বক্তব্যের সূত্র ধরে বলতে চাই —আমাদের দেশের দুই বড় দলের মধ্যে আজ সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। আগামী নির্বাচনকে শুধু অর্থবহ নয়, বিশ্বের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলা দরকার। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার কোন বিকল্প নেই। সুতরাং এদেশে শাসনকর্তা ও বিরোধীদলীয় নেতাদের উদার মনের পরিচয় দেখাতে হবে। ক্ষমতা হলো সাময়িক। আজ আছি কাল নেই এটা মনে-প্রাণে ভাবা দরকার। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের তাদের পুত্রদের এমন শিক্ষা দেয়া উচিত।
এস কে মোহাম্মদ রমিজ উদ্দিন,
সাভার, ঢাকা
রাহুল গান্ধীর মা অত্যন্ত আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেছেন— এখানে অনেক লোক যে ক্ষমতার পেছনে ছুটছে সে ক্ষমতা মূলত এক ধরনের বিষ। এশিয়া মহাদেশের অনেক রাষ্ট্রের ভিতর রাজনৈতিক কারণে আজ সহিংসতা চলছে। বাংলাদেশেও ক্ষমতা নিয়ে চলছে নানারকম অরাজকতা। অথচ প্রয়োজন গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা। বড় দুই দলের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা হতে প্রয়োজন সংলাপ। আমাদের দেশে নির্বাচন কোন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখনও দূর হয়নি। সুতরাং রাহুল গান্ধীর মায়ের উক্তিটি এ সময় স্মরণ করা দরকার সরকার ও রাজনীতিবিদদের।
মজিব,
উত্তরা, ঢাকা
বর্তমানে ভারতে তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি, ধর্ষণ, দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। ফলে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। গত রবিবার সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির অধিবেশনে দেয়া বক্তৃতায় রাহুল গান্ধী অত্যন্ত আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার মা, কেঁদে বলেছেন যে ক্ষমতা হলো এক ধরনের বিষ।’ সুতরাং আমরাও জানি ক্ষমতার রোষানলে অনেকেই অনেক কিছু হারিয়ে ফেলেন।
মো. শওকত আলী শাহীন
ক্রিয়েটিভ আউট সোর্সিং সলুশান লি,
মহাখালী
সম্প্রতি সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির অধিবেশনে দেয়া বক্তৃতায় রাহুল গান্ধী অত্যন্ত আবেগজড়িত কণ্ঠে যা বলেছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যে কোন ক্ষমতাই মানুষকে ছুটতে ছুটতে এক অন্ধকারের দিকে নিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার কারণে পদত্যাগ করা ছাড়া কিছুই করার থাকে না।
মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদ উল্লাহ
মিরপুর-১, ঢাকা
সোনিয়া গান্ধী আবেগজড়িত কণ্ঠে এক বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। এশিয়া মহাদেশের মধ্যে ভারত একটি শক্তিশালী দেশ। সেখানেও এখন রাজনীতিতে বিষ এসে পড়েছে। ক্ষমতা এক কঠিন বিষ। যে বিষ থেকে আজ কেউ রেহাই পাচ্ছে না। তবে আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের সোনিয়া গান্ধীর এমন মন্তব্য থেকে শিক্ষা নিতে হবে।
কাউছার আকন্দ
মতিঝিল, ঢাকা
কংগ্রেস প্রধান সোনিয়া গান্ধীর পুত্র রাহুলকে ২০০৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী করার দাবি উঠেছে দল থেকে। অথচ ভারতে আজ রাজনীতিতে চলছে দাঙ্গাসহ নানা রকম সমস্যা। পাকিস্তানের রাজনীতিতে পরিবর্তন আমরা দেখছি। লিয়াকত আলী খানের মৃত্যুর পর আইয়ুব খানের ক্ষমতা গ্রহণ, ১৯৭০ সালের নিরপেক্ষ সর্বজনগৃহীত নির্বাচনই হোক অথবা ফাঁসির মঞ্চে ভুট্টোর অন্তর্ধান, জিয়াউল হক, পারভেজ মোশারফ, বেনজির ভুট্টো পরবর্তী আসিফ আলী জারদারি, আসা-যাওয়ার মেলা আমরা দেখতে পাই। ভারতেও সোনিয়া গান্ধীর পরিবারের মধ্যে দেখা গেছে পরিবর্তন। সেখানেও রাজনীতিতে বিষক্রিয়া এসেছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি চক্রান্তে ও বিষ আক্রান্তে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় মেয়াদে অভিষেক ভাষণেই বারাক ওবামা জানিয়ে দিয়েছেন নিজের প্রতিজ্ঞার কথা। সুতরাং আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে সত্যিকার অর্থে শিক্ষা নিতে হবে সোনিয়া গান্ধীর উক্তি থেকে।
হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী
নোয়াখালী
ঐক্যবদ্ধ হয়ে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে ঘুণেধরা এই রাজনীতিকে সংস্কারের জন্য মেধাবী, সত্ ও যোগ্য নেতৃত্ব গঠন করতে দুষ্টের দমন, শিষ্টের লালনে এখনই সকলকে মনোনিবেশ করতে হবে। তা না হলে সোনিয়া গান্ধীর মত এ দেশের কোন মা চাইবে না, অকালেই দুর্বৃত্তের হাতে ক্ষমতাঅন্ধ ছেলের ছিন্নভিন্ন লাশ কাঁধে নিতে। এ জন্য সোনিয়া গান্ধীর মত দায়িত্ব এড়ানো যাবে না। দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করে নতুনভাবে আরেকটি যুদ্ধে দেশপ্রেমিক প্রকৃত রাজনীতিবিদদের দায়িত্ব নিতেই হবে।
কামরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর
রিকাবীবাজার,
মুন্সীগঞ্জ
এশিয়া মহাদেশের অন্যতম বৃহত্ দেশ ভারত। সেখানে ক্ষমতালোভীরা এমন বিষ ছেড়েছে যে শুধু জনগণকে নয়, সরকারকেও বিষাক্ত করে ফেলেছে। যার জন্যই রাহুল গান্ধীর মা কংগ্রেস প্রধান সোনিয়া গান্ধী বলেছেন, ক্ষমতা এক ধরনের বিষ। শুধু ভারতে নয়, যখন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সরকার অবস্থান করছে তখন সেই ’৭১, ’৭৫ এর ষড়যন্ত্রকারী সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি ম্লান করতে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ নিয়ে হরতাল অবরোধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকলে ক্ষমতার বিষ প্রতিরোধ করা যাবে অবশ্যই। আর এই বিষের প্রভাব বাংলাদেশে যেন না পড়ে সেজন্য গণতান্ত্রিক সরকারকে সজাগ থাকতে হবে।
ফারুক আহমেদ
রাজশাহী
আমাদের দেশে বঙ্গবন্ধুর পরিবার, ভারতের গান্ধী পরিবার, পাকিস্তানের বেনজীর ভুট্টো পরিবার অনেককে হারিয়েছে। আমেরিকার অনেকে আততায়ীর হাতে জীবন হারিয়েছেন। এটা অভ্যন্তরীণ নয়, আন্তর্জাতিকভাবে হয়েছে ও হচ্ছে। ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন হারিয়ে গেছেন। একজন ব্যক্তি যখন ক্ষমতায় যান তখন অনেকে ভয়ও পান। সোনিয়ার গান্ধীর মন্তব্যটি যথাযথ।
এন জামান
বকসীগঞ্জ,
জামালপুর
রাজনীতি বিষময় নয়, রাজনীতি মধুময়। কিন্তু আফসোস মনুষ্যরূপী রাজনীতিবিদরা সমাজকে মধুময় না করে শুধু বিষময় করে তোলে। সোনিয়া গান্ধীর রাজনীতির ক্ষমতার দাপটে বিষ নিয়ে যে আত্মউপলব্ধি ঘটেছে তাঁর সমর্থকরা যেন আমাদের দুই প্রধান নেত্রীর আত্মউপলব্ধি ঘটান এই কামনা করি।
মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান
এলিফ্যান্ট রোড,
ঢাকা
ক্ষমতা হচ্ছে এক ধরনের লোভ। আমাদের এই উপমহাদেশে অনেকেই আছেন যাঁরা ক্ষমতার জন্য হারিয়ে গেছেন। যখন একজন ব্যক্তি ক্ষমতায় যান তখন তাঁর সব কাজ ঠিকমত গুছিয়ে করতে পারেন না। ফলে তিনি তাঁর জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলেন। এরকম উদাহরণ বহু আছে পৃথিবীতে। সুতরাং সোনিয়া গান্ধী যে মন্তব্যটি করেছেন তা আমি মনে করি সঠিক।
আবদুল মালেক মিয়া
মিরপুর,
ঢাকা
একজন আদর্শবান মা তাঁর ছেলেকে বলেছেন ‘ক্ষমতা হলো এক ধরনের বিষ’। আমি মনে করি, বাংলাদেশেও ক্ষমতাধর ও বিরোধী দলীয় নেত্রী তাদের পুত্রদের এই শিক্ষা দেবেন। একজন শিক্ষিত মানুষ তখনই শিক্ষিত যখন তিনি তাঁর পরিবার ও সন্তানকে সঠিক পথে দিক-নির্দেশনা দেবেন।
সৈয়দা নাসরিন সুলতানা
স্যানি সাইড,
নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র
দায়িত্ব মানুষ পালন করে আর ক্ষমতা প্রয়োগ ও উপভোগ করে। কর্মক্ষমতার সাথে দায়িত্বের যে বন্ধন রয়েছে তা প্রায়শ ক্ষমতাবান ব্যক্তিগণ ভুলে গিয়ে আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হন। ক্ষমতা ও রাজনৈতিক সমীকরণ ভারতের রাজবধূ সোনিয়া গান্ধী বোঝেন। আর তাই মাতা-পুত্রকে এমন শিক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছেন। আমাদের দুর্ভাগ্য, আমাদের রাজন্যগণ তাঁদের পুত্রধনদের ঠিক-বিপরীত আচরণই শিক্ষা দিয়ে থাকেন। প্রকৃতই ভারতের কাছ থেকে শেখার আছে অনেক কিছুই। আর সোনিয়া গান্ধীর বক্তব্যে দুনিয়ার রাজনীতিকদের রয়েছে বিশেষ বার্তা।
খালেদ মাহবুব মোর্শেদ
মহেশখালী,
কক্সবাজার
ধন্যবাদ জানাই ইত্তেফাককে। এমন একজনের মূল্যবান বক্তব্য পাঠকদের কাছে তুলে ধরার জন্য। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে আমি একমত।
শাহ্জালাল
বেনাপোল,
যশোর
ক্ষমতা আসলেই এক ধরনের বিষ, তবে এক্ষেত্রে এটা সব দেশেই প্রযোজ্য নয়। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে বলতে গেলে যখন ক্ষমতার অপব্যবহার হয় তখনই এই বিষটা জনগণের ওপর পড়ে। ভারতের একজন সদস্য যখন তাঁর পার্লামেন্ট হাউস থেকে বের হয়ে আসেন তখন তার সাথে থাকে শুধু একটা সুটকেস। আমাদের কিন্তু কিছু সংসদ সদস্য যখন পার্লামেন্ট হাউজ থেকে বের হয়ে আসেন তখন তাদের থলি থেকে বের হয়ে আসে রাঘব বোয়াল। ক্ষমতা তখনই বিষ হয় যখন তা ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে।
এম এন সালে বায়েজিদ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,
ময়মনসিংহ
ক্ষমতা হচ্ছে এক ধরনের বিষ—উক্তিটি ভারতের সোনিয়া গান্ধী তাঁর ছেলে রাহুল গান্ধীকে অত্যন্ত জোরালো কণ্ঠে বলেছেন। ক্ষমতা আসলেই হচ্ছে এক ধরনের লোভ এবং দায়িত্ব থেকে দূরে থাকা। এ দেশে বিষয়টি একেবারে মিলে গেছে।
বিপ্লব আলম
উর্দু রোড, লালবাগ,
ঢাকা
ক্ষমতার দাপটে মানুষ অনেক কিছুই করে বসে। আর যখন ক্ষমতা ছাড়ে বা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে যায় তখন বোঝা যায় তার পরিণতি। ভারতের রাহুল গান্ধীর মার কথাটি কোন অংশেই মিথ্যা নয়। ক্ষমতা হচ্ছে বিষের মতো একটি বিষয়।
পারভীন সুলতানা,
আরাপপুর,
ঝিনাইদহ
কেউ কেউ ক্ষমতা পেয়ে সেটাকে অপব্যবহার করে বসে থাকে। আর এর জন্য বিশেষ করে দুর্বল ব্যক্তি কোন প্রতিবাদ করে না। আবার ক্ষমতা যদি সত্ উদ্দেশ্য ও সুন্দর কাজে ব্যবহার হয় তাহলে কোন কথা নেই। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষমতাই এখন অপব্যবহার হচ্ছে। সুতরাং এর থেকে আমাদের সরে আসা দরকার।
জুয়েল
মধ্যবাড্ডা,
রামপুরা, ঢাকা
অবশ্যই ক্ষমতা এক ধরনের বিষ। এই ক্ষমতার জন্যই রাহুল গান্ধীর পরিবারের অনেককে জীবন দিতে হয়েছে। সোনিয়া গান্ধী বিষয়টি অনুভব করতে পেরেই তাঁর সন্তানকে এ কথাটি বলতে পেরেছেন। শুধু ভারতেইবা কেন, পৃথিবীর যে কোন দেশের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে বিষয়টি অনুধাবন করা যাবে। এমনকি আমাদের দেশের দিকে তাকালেও। কারণ এই ক্ষমতার জন্যই অনেকে ধ্বংসও হয়ে যায়।
জসিম উদ্দিন,
পুরান থানা,
কিশোরগঞ্জ
ব্যক্তিগত জীবন ও বৈশ্বিক রাজনীতির অভিজ্ঞতা থেকে সোনিয়া গান্ধীর বক্তব্য একটি দার্শনিক মন্তব্য। নেতৃত্ব ও ক্ষমতা সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত। যে নেতৃত্ব তা বোঝে তার চেষ্টা সর্বদাই জনগণের জন্য নিবেদিত। আর যে এটি বোঝে না সে দম্ভ ও অহংকারে ভাসতে থাকে। সাধুবাদ সোনিয়া গান্ধীকে। আশা করি আমাদের নেত্রীদ্বয় বক্তব্যটি থেকে শিক্ষা নেবেন।
মো. ফকরুল ইসলাম টিপু,
সেনবাগ,
নোয়াখালী
রাহুল গান্ধীর মা সোনিয়া গান্ধী যা বলেছেন তা অক্ষরে অক্ষরে সত্য। কারণ ক্ষমতার লালসা মানুষকে অন্ধকারে ফেলে। এহেন কাজ বাকি নেই যে, ক্ষমতার জন্য তারা করতে পারে না। শুধু ভারতে কেন, আমাদের দেশের দিকে দৃষ্টি রাখলেই তা আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে। ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকার জন্য বর্তমান সরকার নির্বাচন নিয়ে যেসব কাণ্ডকারখানা করছে আর বিরোধী দল ক্ষমতা লাভের আশায় যা করছে সবই তো ক্ষমতার জন্যই। মানুষ মারা যাক তাতে তাদের যেন কিছু আসে যায় না। যেভাবে হোক, যে কোন উপায়ে হোক ক্ষমতা চাই-ই চাই।
আলমগীর হোসেন,
সেনবাড়ী,
ময়মনসিংহ
কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী বাস্তবতাকে অনুভব করেই তাঁর সন্তানকে আবেগতাড়িত হয়ে একথাগুলো বলেছেন। কথা ক’টি যে বাস্তব সত্য তা আর নতুন করে বলার অবকাশ নেই। ক্ষমতা যে ধ্বংস ডেকে আনে তার প্রমাণ শুধু ভারতে কেন, সব দেশেই এর বাস্তব উদাহরণ লক্ষ করি।
টিপু সুলতান,
ভালুকা,
ময়মনসিংহ
ভারতের রাহুল গান্ধীর মা যে কথাটি ছেলেকে বলেছেন তা অতি সত্য কথা। ক্ষমতা শুধু এক ধরনের বিষ নয়, মরণের ফাঁদ। একজন আদর্শ মায়ের কথাই বলেছেন তিনি। দেশ ও দশের মঙ্গলের জন্যই মানুষ ক্ষমতায় যেতে চায়। কিন্তু ভালো কাজ করা যে অতি কঠিন তা সোনিয়া গান্ধী নিজেই অনুভব করেছেন। গান্ধী পরিবারের ইতিহাসে যে করুণ ঘটনা তা থেকে তিনি অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসেও ক্ষমতা এক ধরনের বিষ বা মৃত্যুর ফাঁদ। শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাধরদের মাঝে অমৃতের স্বাদ আছে।
আশা এলিজাবেত গোমেজ,
লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা
এটা সঠিক কথা। রাহুল গান্ধীর মা সোনিয়া গান্ধী যা বলেছেন তা বাস্তব সত্য কথা। আমি একথা ক’টির সঙ্গে একমত।
আবুল কালাম আজাদ,
কালিঘাট,
সিলেট
ক্ষমতাকে বিষতুল্য জ্ঞান করে সোনিয়া গান্ধী যে সুন্দর কথা ক’টি পুত্রের জন্য উচ্চারণ করেছেন তা একজন মাকে সত্যি মানায়। যেহেতু তাঁর স্বামী, তাঁর শাশুড়ি এই ক্ষমতার নীল দংশনে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেছেন। রাহুল গান্ধীকে পুত্র ভেবে এই কথা মা বলতে পারেন, বলা সংগতও বটে। তবে জীবন বলতে যা বুঝায় সেখানে ক্ষমতা একটি ভিন্ন মাত্রা জোগায়। জীবন ও জগতের শিক্ষা এবং অভিজ্ঞতা ভিন্ন। মানুষের জন্য ও জগতের সকল জীবের জন্য কেউ যদি কিছু করতে চায় তবে তাকে অবশ্যই ক্ষমতায় যেতে হয়, ক্ষমতায় থাকতে হয়। প্লেটোর ভাষায় ‘ক্ষমতার অপর নাম কল্যাণ।’ কল্যাণধর্মিতা রাষ্ট্র, ব্যক্তি এবং সমাজজীবনে নির্বিঘ্ন হলে ক্ষমতা সকলেরই কাম্য। যে ক্ষমতা মানুষের কষ্ট লাঘব করে এবং জীবনমান উন্নয়ন করে সে ক্ষমতা কাঙ্ক্ষিত। অনুন্নতরা যখন উন্নয়নের ছোঁয়া পায় তখন ক্ষমতা আশীর্বাদস্বরূপ। বিশেষ করে বড় রাষ্ট্র ভারতের বেলায় আরও বেশি সত্য। কারণ, সেদেশে আমাদের জানা মতে বেশ কয়েকটি প্রদেশ আছে, যারা অনেক পিছিয়ে। শিক্ষা-দীক্ষায় এবং যাপিত জীবনে অনেক অনগ্রসর।
ক্ষমতাকে বিষতুল্য মনে করে কোন সাহসী রাষ্ট্রনেতা ক্ষমতা থেকে দূরে থাকেননি। আমার ব্যক্তিগত ধারণায় ক্ষমতায় গিয়ে কোন দল, গোষ্ঠী বা জাতি, উপজাতি অথবা বিশেষ সম্প্রদায়ের ওপর বৈষম্যমূলক আচরণ না করলে ক্ষমতা বিষতুল্য হয় না। মনে রাখা দরকার, ক্ষমতার পেছনে লোভ কাজ করলে সে ক্ষমতা নিন্দনীয়। ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত না করে যার যতটুকু প্রাপ্য সে ক্ষমতা তাদের দিলে ক্ষমতা বিষতুল্য হবে না।
ওয়াহিদ মুরাদ,
স্বরূপকাঠি,
পিরোজপুর
ক্ষমতা এক ধরনের বিষ। এটা আমি বিশ্বাস করলেও অনেকে বিশ্বাস করে না। কারণ ক্ষমতা যারা ভোগ করে তারাই জানে ক্ষমতার স্বাদ। যাদের ক্ষমতা নেই যেমন আমরা — সত্যিই আমরা ভালো আছি এবং থাকবো।
মো. শফিকুল আলম বুলবুল
গাবতলী,
বগুড়া
ক্ষমতা এক ধরনের বিষ। আর এ বিষই ধ্বংসের কারণ। এ কথা অনস্বীকার্য তবে সকল ক্ষেত্রেই এই কথার সাথে একমত পোষণ করা যাবে না। কংগ্রেস নেতার এ উক্তির মধ্যে নির্লোভতার প্রমাণ পাওয়া যায়। ক্ষমতার প্রতি তার যে কোন লোভ নেই তা তিনি অনেক আগেই প্রমাণ করেছেন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি সম্পূর্ণ উল্টো। এখানে ক্ষমতায় যাওয়া এবং টিকে থাকার যে প্রতিযোগিতা চলে তা চোখে পরার মতো। গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা গ্রহণ করা দোষের কিছু নয়। নিজের অবস্থান ধরে রেখে টিকে থাকাই আসল কথা। ক্ষমতা পেয়ে বেপরোয়া আচরণ অনেক সময় ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলীয় প্রধানের অধিক জনপ্রিয়তাও এর কাল হয়ে দাঁড়ায়। এটাকে ধবংস বলা যায় না। এটাকে শুধু ব্যক্তি প্রস্থান বললেই যুক্তিযুক্ত হবে। দেশ বিরোধীচক্র সবসময়ই ছিল এখনও আছে। তাদের প্রতিহিংসার শিকার হন দেশের জনপ্রিয় নেতারা। তারা ধ্বংস করতে চায় দেশকে এবং নিশ্চিহ্ন করতে চায় তার নীতি-আদর্শকে। বিরোধীচক্রের এ উদ্দেশ্য কখনোই বাস্তবায়ন হয় না। ঐ নেতার হয়তো প্রস্থান ঘটে কিন্তু প্রস্থান ঘটে না তার আদর্শের এবং নীতির। তার নীতি-আদর্শই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যায়। সারা পৃথিবীতেই একথা প্রমাণিত। সুতরাং ক্ষমতা বিষ তখনই হয় যখন ক্ষমতাসীনরা বিষে আক্রান্ত হন এবং সেই বিষ সাধারণের মধ্যে সংক্রমিত করতে চান।
মো. আবদুল্লাহ আল মামুন
সারিয়াকান্দী,
বগুড়া
তিক্ত অভিজ্ঞতা আর অন্তর্ভেদি যন্ত্রণা থেকে উত্সারিত, বেদনাদায়ক স্মৃতি বিজড়িত বিষয়টি কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী তাঁর ছেলেকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। অতীত ইতিহাস সোনিয়া গান্ধীকে বাধ্য করেছে, অপ্রিয় হলেও সত্য কথাটি বলতে। উপমহাদেশের রাজনীতির চালচিত্র দেখলে, রক্ত ক্ষরণের পিচ্ছিল পথ আমাদের মানসপটে ভেসে ওঠে। ইতিহাসের অনিবার্য পরিণতিও স্মরণ করিয়ে দেয়। সোনিয়া গান্ধী হারিয়েছেন তাঁর শাশুড়ি ইন্দিরা গান্ধী ও স্বামী রাজিব গান্ধীকে। শাশুড়ি ও স্বামীর মর্মান্তিক মৃত্যু সোনিয়াকে শোক থেকে শিক্ষা নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। তাই অকপটে বলতে পেরেছেন, রাজনীতির ক্ষমতা বিষ সাদৃশ। সে বিষ শেষাবধি মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে। এ বিষয়ে আমাদের অভিমত হলো, রাজনীতি থেকে দেশপ্রেম, দায়িত্ব-কর্তব্য বিদায় নিয়ে, যেদিন রাজনৈতিক ক্ষমতা, বলদর্পিদের হাতে এসে লালন-পালন হচ্ছে, ঐদিন থেকেই সত্য সূচিতা বিদায় নিয়ে, রাজনীতিতে ক্ষমতা নামের ‘বিষ’ আমদানি হয়েছে। রাজনীতির এই বিষ ব্যক্তিকে বিত্ত-বৈভবে স্ফীত করে, শেষাবধি রাজনীতিকদের জীবন সংহারি পথে এগিয়ে নিচ্ছে। তথাপিও রাজনীতিকরা কেন এই জীবন মৃত্যুর পথে ধাবিত হচ্ছে? ধাবিত হচ্ছে এ কারণে যে, এতে নগদ প্রাপ্তির হাতছানি আছে। নগদ যা পাও হাত পেতে নাও —এই নগদ পাবার জন্য হিতাহিত শূন্য হয়ে পড়ে স্বার্থান্বেষী রাজনীতিকরা। রাজনীতির বহু সম্ভাবনাময় প্রাপ্তিকে উপেক্ষা করে, সোনিয়া গান্ধী পুত্র রাহুলকে সত্য বলে যে, সততা ও নির্লোভের পরিচয় দিয়েছেন তা ঘুণে ধরা রাজনৈতিক সমাজে অনেকের কাছে উদাহরণ হয়ে থাকবে।
মুরাদ হোসেন
মধুখালী, ঝিকরগাছা,
যশোর
সোনিয়া গান্ধী ক্ষমতাকে বিষের সাথে তুলনা করেন। তাঁর এই তুলনা মোটও অমূলক নয়। বিশ্ব ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় দেশপ্রেমিক প্রত্যেকটি নাগরিকের জীবন সব সময়ই ঝুঁকির মধ্যে থাকে এবং বহুক্ষেত্রে চরম বিয়োগান্তুক পরিণতিই তাদেরকে বরণ করে নিতে হয়। ইতিহাসে তার বাস্তব ভুরি ভুরি নজির আছে। অপরদিকে ক্ষমতাকে যারা নিজেদের আখের গোছানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তাদের কাছে ক্ষমতা অমৃত হিসেবে আবহমানকাল ধরে বিবেচিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশসহ ভারত উপমহাদেশে শেষোক্তদের সংখ্যাই বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। সেই শেষোক্তদের কাতারে রাহুল গান্ধী পা না মাড়িয়ে মায়ের উক্তির পরিপ্রেক্ষিতে “এই বিষের প্রতিষেধক কী তা ভেবে বের করতে হবে” বলে যে মন্তব্য করেছেন তা প্রণিধানযোগ্য। শুধু তাই নয়, “আমাদের কখনোই ক্ষমতার জন্য লালায়িত হওয়া উচিত নয়” বলে যে মত প্রকাশ করেছেন তা থেকে আমাদের রাজনৈতিক বর্তমান ও ভবিষ্যত্ প্রজন্মদের ভেবে দেখার যথেষ্ট অবকাশ আছে। আমরা রাহুল গান্ধীর সাফল্য কামনা করছি।
ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
চৌমুহনী, হাজীপুর,
বেগমগঞ্জ, নোয়াখালী
