সুষ্ঠু নির্বাচন করতে ব্যর্থ হলে
গণতন্ত্রের কবর হবে এবং
দুই নেত্রীকে জেলে যেতে হবে
নির্বাচন এলেই আমাদের দুই নেত্রী তথা মহারানীর মাথা একটু গরম হয়ে যায়। এই দুই মহারানীরা আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চায়। তারা জনগণের মুখোমুখী হতে ভয় পান। বিশেষ করে ভোটের সময়। কারণ দুই নেত্রীই অবগত যে, বাংলার জনগণ বোকা নয়, বোকার অভিনয় করে। ক্ষমতায় থাকাকালীন তারা যে অপকর্ম করে তার ভয়ে তারা নির্বাচন দিতে চায় না। আমাদের দুই নেত্রীর মুখে গণতন্ত্র এবং অন্তরে ষড়যন্ত্র। দুই নেত্রী জানে গণভবন এবং রাজপথের পার্থক্য। দুই নেত্রীই নির্বাচনে অনাগ্রহী থাকে যখন ক্ষমতায় থাকে। সুষ্ঠু নির্বাচনে না যাওয়ার কারণ হল—দুই নেত্রীই অগণতান্ত্রিক। ক্ষমতাসীন নেত্রীর পাঁচ বছর শেষ হলেই পুনরায় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার জন্য এমন একটি নির্বাচন দিতে চান যেখানে বিরোধীদল অংশগ্রহণ করতে চায় না। তারা আবিষ্কার করেন নতুন নতুন ফর্মূলা। সংবিধানের অভিনব ব্যাখ্যা দেন। দুই নেত্রীর ইচ্ছায় গণতন্ত্র এবং সংবিধানের ব্যাখ্যা। আর প্রতিটি নির্বাচনের আগে দুই নেত্রীর সৃষ্ট এ অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যার জন্য দেশে এক বিশাল সংকট দেখা দেয়। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায় প্রতিটি নির্বাচনের আগে নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে একটি সমস্যা দেখা দেয়। গণতান্ত্রিক এবং সুষ্ঠু নির্বাচন কেউ দিতে চায় না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়—১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন, যে নির্বাচনে বিরোধী দল অংশগ্রহণ করেনি এবং ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর পুনরায় নির্বাচন হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় আমাদের দুই নেত্রী তা ভুলে গেছে। আবারও নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দুই নেত্রী তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে দুই মেরুতে অবস্থান করছেন। তাই দুই নেত্রীকে বলছি—হুঁশিয়ার হোন। এবার সুষ্ঠু নির্বাচনে ব্যর্থ হলে গণতন্ত্রের কবর হবে এবং আপনারা আবার জেলে যাবেন। জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না। জনগণকে নিয়ে খেলবেন না। আপনারা একমত হয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে মহারানী হোন। জনগণের মতামতকে মূল্যায়ন করুন।
মিকাইল হোসেন
বি.এস.এস (অনার্স) এম.এস.এস
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
০০০০০০০০০০০০০
নির্বাচনী হাওয়া কার অনুকূলে যাবে— তা বোঝার উপায় নেই
বাংলাদেশ সংবিধান অনুযায়ী সরকার ক্ষমতায় থাকে পাঁচ বছর। সেই ধারাবাহিকতা অনুযায়ী বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের চার বছর হয়ে গেল। বাকি রইল মাত্র এক বছর। তার মানে বুঝা যাচ্ছে নির্বাচন আসন্ন। নির্বাচনের সময় আসলেই পুরোপুরি পাল্টে যেতে থাকে আমাদের দেশের অবস্থা। ক্ষমতায় থাকা দল তখন প্রতিশ্রুতির বন্যা ভাসায় আর বিরোধী দল বলে “তারা শুধু প্রতিশ্রুতি দিতে পারবে, কাজ করে দেখাতে পারবে না।” বিরোধী দল বলে— “আমাদের একবার সুযোগ দিলে দেখিয়ে দিব আমরা।” বর্তমানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া বাচ্চাদের মত। বাচ্চারা তো ঝগড়ার শেষ পর্যায়ে হাতাহাতি পর্যায়ে যায় আর এদিকে রাজনৈতিক নেতারা বাকযুদ্ধ পর্যন্ত শান্ত না থাকতে পেরে ভাংচুর, মারামারি, খুন, বোমা হামলা ইত্যাদি পর্যন্ত যায়। এই হল আমাদের দেশের রাজনৈতিক অবস্থা। আর নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতি। বর্তমান সরকার চায় নিজদলে থেকে নির্বাচন করতে তার বিরোধী দল চায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। হচ্ছে না কারো মনঃপুত। তাইতো বিরোধী দল ইচ্ছে মত ঢাক-ঢোল বাজিয়ে হর-হামেশা হরতাল চালিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল ছাড়তে পারছে না খোঁচা দিয়ে কথা বলার অভ্যাস। দেশের অভ্যন্তরে যখন এই অবস্থা তখন সুষ্ঠু নির্বাচন খুবই কষ্টকর। নির্বাচনের অনুকূলে হাওয়া কার পালে যে লাগবে তা বোঝার কোন উপায় নেই। দেশের এই অবস্থায় খুব করে বলতে ইচ্ছে করছে—“নির্বাচনের হাওয়া দোলে, সেই দুলোনির তালে তালে, সাধারণ জনগণ কে কোথায় যাবে, তা কে জানে?
হাই হোক, সমঝোতার মাধ্যমে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চাই আমরা সাধারণ জনতা।
সুলতানা আনজুমান
শিক্ষার্থী, অর্থনীতি বিভাগ,
গুরুদয়াল সরকারি কলেজ,
কিশোরগঞ্জ।
০০০০০০০০০০০০০০
নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যেমন
প্রয়োজন তত্ত্বাবধায়ক সরকার তেমনি
প্রয়োজন দু’দলের আন্তরিকতা
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের আপামর জনসাধারণ একদিকে যেমন চিন্তিত অন্যদিকে অসন্তুষ্ট। সাধারণ জনগণ চায় যে, শান্তিপূর্ণভাবে প্রধান দু’দলের নেতা-কর্মীরা এক সাথে বৈঠকের মাধ্যমে আলোচনা করে নিরপেক্ষ নির্বাচন তৈরি করা হোক। যা নিয়ে পরবর্তীতে যেন নিরপেক্ষ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আওতায় নির্বাচন হলে একে অপরকে সূক্ষ্ম কারচুপির অভিযোগ আনতে না পারে। আজকাল নির্বাচনকে সামনে রেখে দু’দলের নেতা-কর্মীরা যে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়েছে তাতে করে জাতির জন্য অপেক্ষা করছে ঘোর অমানিশার অন্ধকার। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, জাতির জন্য কোন নির্বাচিত দল যে ভাবছে না তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তা না হলে নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান দু’দল সংঘাত, হানাহানি আর হরতাল নিয়ে থাকবে, সমঝোতায় আসবে না অন্যদিকে নিহত আর আহত হবে সাধারণ পরিবারের সন্তান এ কেমন গণতন্ত্রের দেশ। বিবেক কি আমাদের হারিয়ে যাচ্ছে? আজ যদি কেউ কাউকে ছাড় না দেয় দু’দল যদি সমঝোতায় না এসে একজন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত, অন্যদিকে বিরোধী দল নির্বাচন যদি বয়কট করে, তাহলে সাধারণ জনগণের কাছে নির্বাচন কতটুকু গ্রহণযোগ্য হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাহলে কি জাতির ভাগ্যে আবার ১/১১ এর মতো হবে, নাকি অন্য কিছু? প্রশ্ন রয়েই গেলো। আমরা আশা করি প্রধান দু’দল সমঝোতার মাঝে, দেশের স্বার্থে এবং জনগণের স্বার্থে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিয়ে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে এক সাথে কাজ করবে এবং দেশকে নিয়ে যাবে উন্নয়নের দ্বারপ্রান্তে।
কাজী আবুল কাসেম রতন
নারায়ণগঞ্জ তোলারাম কলেজ,
বাণিজ্য বিভাগ, না.গঞ্জ।
০০০০০০০০০০০০
রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে চাই অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতাহীন নির্বাচন
অনেক স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ১৯৭১ সালে লক্ষ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে ও সম্ভ্রমহানির মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় এই স্বাধীনতা। কিন্তু স্বাধীনতার ৪২ বত্সর পেরিয়ে গেলেও সে স্বাধীনতা আমরা পাইনি। তথাকথিত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অসীম লোভ ও স্বার্থপরতায় জর্জরিত এ দেশ। ক্ষমতার লোভ অন্ধ হয়ে নির্বাচন নিয়ে তারা বিভিন্ন ফাঁদ পেতেছে। আজ দেশ দু’নেত্রীর গোঁড়ামিতে বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া এ দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন কতটা সম্ভব তা ভাবা জরুরি। আবার ডিজিটালাইজেশনের যুগে সম্ভবও বটে। স্বামীর স্বপ্ন বা পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন নয় বরং দেশের জনগণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে চাই অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন।
রাকিবুল ইসলাম,
বিবিএ ফিন্যান্স
১ম বর্ষ, ১ম সেমিস্টার,
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
