আরব আল কায়েদার দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা শেহরি নিহত

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৩৭
আরব আল কায়েদার দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা শেহরি মারা গেছে। শুক্রবার ইয়েমেন নিরাপত্তা বাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা শেহরির মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন। ইয়েমেনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থাকে ওই কর্মকর্তা জানান, ২৮ নভেম্বর উত্তরাঞ্চলীয় শাদা প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর এক অভিযানে শেহরি আহত হন। কয়েকদিন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে (কোমা) থাকার পর শেহরির মৃত্যু হয়। তবে ঠিক কবে শেহরির মৃত্যু হয়েছে তা তিনি জানাননি। পরিচয় গোপন রাখা ওই কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, সদস্যদের মনোবল ধরে রাখার জন্য আল কায়েদা অজ্ঞাত একটি স্থানে শেহরিকে কবর দিয়েছে। শেহরি মারা গেছেন বলে এর আগেও দাবি করেছিল ইয়েমেন। গত সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছিল, সেনাবাহিনীর এক অভিযানে শেহরি মারা গেছেন। সৌদি আরব তখন শেহরির মৃত্যু নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানালেও চলতি সপ্তাহে সৌদি মালিকানাধীন গণমাধ্যমগুলোতেও শেহরির মৃত্যু সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ২০০২ সালে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ শেহরিকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিলে তাকে গুয়ানতানামো বে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়। গুয়ানতানামো বে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া আল কায়েদার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা বলে তাকে বর্ণনা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। এই কর্মকর্তাদের মধ্যে একজন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের আমলে গুয়ানতানামো বে থেকে মুক্তি পাওয়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সৌদি জঙ্গির মধ্যে শেহরি অন্যতম। সৌদি সরকার ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার প্রচণ্ড চাপে তাকে মুক্তি দিকে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৭ সালে সৌদি কর্তৃপক্ষের হাতে শেহরিকে হস্তান্তর করে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি কর্তৃপক্ষ তাকে জঙ্গি সংশোধন কেন্দ্রে বন্দি করে রাখে। কিন্তু এরপর কোনো এক সময় শেহরি ইয়েমেনে গিয়ে হাজির হয় এবং আরব উপদ্বীপ আল কায়েদার দ্বিতীয় শীর্ষ নেতায় পরিণত হন। শেহরি একসময় সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা ছিল। উইকিলিকস প্রকাশিত পেন্টাগনের গোপন নথি সূত্রে জানা যায়, সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা থাকা অবস্থায়ই শেহরি আল কায়েদায় যোগ দিয়ে সৌদি জঙ্গিদের আফগানিস্তানে পাঠানোর কাজ তদারকি করতেন।