‘দেশে গণতন্ত্র ক্রমশ বিপন্ন’

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২১
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেছেন, বাংলাদেশের আজকে সমস্যা হলো গণতন্ত্রের সমস্যা। এখানে গণতন্ত্র ক্রমশ: বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে। আর এ জন্য অরাজনৈতিক শক্তি যতটা দায়ী, রাজনৈতিক শক্তি তারচেয়ে কম দায়ী নয়। বরং বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের কারণে অরাজনৈতিক শক্তিকে সুযোগ করে দিয়েছে। আজকে দেশে আবার নতুন করে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থা দূর করা না গেলে গণতন্ত্রের ভবিষ্যত্ শঙ্কামুক্ত হবে না। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘সমকালীন বাংলাদেশের রাজনীতি : প্রধান সংকট এবং উত্তরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড পিস স্টাডিজ (সিএসপিএস) নামে একটি বেসরকারি সংগঠন। সংগঠনের চেয়ারম্যান বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব শাহ আব্দুল হান্নানের সভাপতিত্বে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. হাসান মোহাম্মদ। আলোচনায় অংশ নেন ফরহাদ মযহার, অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম, নিউ নেশন সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফেরদৌস আক্তার ওয়াহিদা, সরকারের সাবেক সচিব এসএম জহুরুল ইসলাম প্রমুখ। ড. আকবর আলি খান বলেন, গণতন্ত্র ছাড়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়িত করা যাবে না। কারণ আমাদের সংবিধানের যে চারটি মৌল ভিত্তি রয়েছে, তার প্রথম ও প্রধান ভিত্তি হলো গণতন্ত্র। বাকি তিনটি মূলনীতিরও লক্ষ্য হলো গণতন্ত্রকে অর্থবহ করা। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে হলে জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের চর্চা নিশ্চিত করতে হবে। ফরহাদ মজহার বলেন, এদেশে সংবিধানের মতো মৌলিক দলিল সংশোধন হয় জনগণের কোন সম্পৃক্ততা ছাড়াই। বেশিরভাগ সংশোধনীর ক্ষেত্রে ক্ষুদ্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকে। যে কারণে সর্বশেষ পঞ্চদশ সংশোধনী আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে এক মারাত্মক সংকট সৃষ্টি করেছে। এই সংশোধনীর ফলে বাংলাদেশ বলে আদৌ কোনো দেশ আছে কি-না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন মানেই গণতন্ত্র নয়। রাষ্ট্র যখন নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে তখন তাদের সর্বাত্মক সংগ্রামের মাধ্যমে ক্ষমতাসীনদের উত্খাত করাই হলো গণতন্ত্র। ড. পিয়াস করিম বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, এদেশের অধিকাংশ রাজনীতিক জনগণের নিত্যদিনের সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টার পরিবর্তে উল্টো জনগণকে একের পর এক নতুন নতুন সমস্যায় ফেলবার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। রাজনীতিকদের সংকীর্ণ গোষ্ঠীস্বার্থের চিন্তার কারণেই জাতীয় জীবন আজ এতটা সংকটগ্রস্ত। এ অবস্থায় একমাত্র জনগণের ব্যাপক প্রতিবাদের মাধ্যমেই এ অবস্থার অবসান ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।