বাংলাদেশের জন্য জিএসপি সুবিধা

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৩০
তাজরীন ফ্যাশনস এর দুর্ঘটনার পর হইতে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশ নিয়া আলোচনা-সমালোচনা চলিতেছে। এই দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সে দেশে আমাদের পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে যে বিশেষ অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা (জিএসপি) দিতেছে তাহা তুলিয়া নেওয়ার কথা বিবেচনা করিতেছে। নি:সন্দেহে এই সুবিধা তুলিয়া নিলে তাহা বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে একটা বিরাট ধাক্কা দিবে। জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশ যতটা না সরাসরি বা প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইবে তাহার চাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হইবে পরোক্ষভাবে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে অনুসরণ করিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন একই ধরনের পদক্ষেপ নিলে তাহা আমাদের পোশাক শিল্পকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করিবে। তাহার কারণ বর্তমানে বাংলাদেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে ৫ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করিতেছে সেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানির পরিমাণ ১১ বিলিয়ন ডলারেরও উপরে। তবে এই ক্ষেত্রে সবচাইতে বড় প্রশ্ন হইলো কর্মপরিবেশ ভালো না থাকিবার কারণে বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করিয়া নেওয়া আদৌ যুক্তিযুক্ত হইবে কিনা। তাজরীন ফ্যাশনস-এর দুর্ঘটনা অবশ্যই নাজুক কর্মপরিবেশের কথা বলে। তবে তাহা বাংলাদেশের বেশিরভাগ পোশাক কারখানার পরিবেশের কথা বলে না। অন্যদিকে, এই জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহারের আগে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কর্মপরিবেশের বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কিছু শর্ত পূরণের জন্য আল্টিমেটাম দিয়া তাহা পূরণ করা না হইলে তখন জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করা যাইতে পারে। এই রকম সময়সীমা নির্ধারণ করিয়া দেওয়া হইলে আমাদের পোশাক শিল্প মালিকরা কর্মপরিবেশের উন্নতি ঘটাইবে যদি তাহারা কর্মপরিবেশের উন্নতি ঘটানোর পরেও লাভজনকভাবে ব্যবসা করিতে সক্ষম হন। তাহা না হইলে কর্মপরিবেশের উন্নতি ঘটিবে না। সেই ক্ষেত্রে বেহাল কর্মপরিবেশের কারণে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহার করা যুক্তিযুক্ত হইতে পারে। অবশ্য বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা মার্চ মাস পর্যন্ত সময়সীমা বাধিয়া দেওয়ার কথা বলিয়াছেন। সময়সীমা আরেকটু বাড়াইয়া এই ধরনের সিদ্ধান্তে আসিলে অবশ্যই উভয় দেশের জন্য তাহা ইতিবাচক ফল বহিয়া আনিবে । তবে আরেকটা বিষয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনে রাখা উচিত। তাহা হইলো, যদি সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের অদক্ষ গরীব শ্রমিকদের অবস্থার উন্নতির জন্য তাহারা কর্মপরিবেশের ওপর জোর দিয়া থাকেন, তবে কর্মপরিবেশ নাই বলিয়া জিএসপি প্রত্যাহার করা হইলে শ্রমিকরা আরো বেশি খারাপ পরিস্থিতির শিকার হইবেন। স্বল্প বেতনে জীবনের ঝুঁকি নিয়া আমাদের শ্রমিকেরা এই কারখানাগুলিতে কাজ করার একটাই কারণ, তাহা হইলো তাহাদের সামনে ইহার চাইতে ভালো কোন বিকল্প আপাতত নাই। যদি থাকিত, তবে তাহারা এই কর্মপরিবেশে কাজ করিতে আসিতেন না। এখন যদি জিএসপি প্রত্যাহার করা হয় তবে তাহাদের অনেকেই সম্ভবত চাকরি হারাইয়া আরো বেকায়দায় পড়িবেন। জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহূত হওয়ার ফলে তাহাদের মজুরি আরো কমিয়া যাওয়ার আশংকা দেখা দিবে। উপরন্তু, এখন যে ধরনের চাপ বিদেশি ক্রেতারা দিতে পারিতেছেন তখন তাহাও আর দিতে পারিবেন না। সেই ক্ষেত্রে কর্মপরিবেশ আরো খারাপই হইতে পারে। ফলে সবকিছু বিবেচনায় রাখিয়া একটা সময়সীমা বাধিয়া দিয়া কর্মপরিবেশের উন্নতি ঘটাইতে পারিলেই হইবে সকলের কল্যাণ।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন