জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে সড়ক পথের পর এবার নৌ-পথে লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে ১শ’ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে ২৮ পয়সা এবং পরবর্তী কিলোমিটার প্রতি ২২ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় এক পয়সা কমিয়ে ২৭ পয়সা প্রতি কিলোমিটার যাত্রী ভাড়া করতে রাজি হয়েছে বলে লঞ্চ মালিকরা জানিয়েছেন। অপরদিকে অবৈধ রোটেশন প্রথা বহাল রেখে যাত্রীভাড়া বৃদ্ধির খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন এই অঞ্চলের যাত্রীরা।
বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং মালিকদের সমন্বয়ে গঠিত ভাড়া বৃদ্ধি প্রস্তাবনা কমিটি যে প্রস্তাব দিয়েছে তাতে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত কিলোমিটার প্রতি ভাড়া ১ টাকা ৫০ পয়সা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ১ টাকা ২০ পয়সা। এ প্রস্তাব এখন মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নতুন ভাড়া কার্যকর হলে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটারে ১ টাকা ৭৮ পয়সা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটার ১ টাকা ৪২ পয়সা হবে।
যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, নতুন এ লঞ্চ ভাড়া কার্যকর হলে দুর্ভোগ পোহাতে হবে নদীবেষ্টিত দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ যাত্রীকে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন ডিজেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে লঞ্চ ভাড়া যে হারে বাড়ানোর প্রস্তাব এবং অনুমোদনের কথা শোনা যাচ্ছে তা স্বাভাবিকের তিনগুণেরও বেশি। এছাড়া কমিটি লঞ্চের যন্ত্রাংশ মেরামতসহ আনুষঙ্গিক যে খরচ বিশ্লেষণ করে ভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে তা যথাযথভাবে নির্ধারণ করা হয়নি। পাশাপাশি প্রতিটি রুটে লঞ্চ মালিকরা তাদের ইচ্ছেমত রোটেশন প্রথা চালু করে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করলেও তা আমলে নেয়া হয়নি। অতি সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম ৭ টাকা বাড়ার পরই সড়ক পথে যাত্রীবাহী বাসে ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১০ পয়সা করে বাড়ানো হয়। এরপরই লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ আভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থার পক্ষ থেকে লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধির জন্য বিআইডব্লিউটিএ’র সমন্বয় মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় প্রতি কিলোমিটার ২৮ পয়সার পরিবর্তে ২৭ পয়সা করে বৃদ্ধি করতে রাজি হয়েছেন বলে এখানকার লঞ্চ মালিকরা জানান। যাত্রী পরিবহন সংস্থার সিনিয়র সহ-সভাপতি বরিশাল চেম্বার অব কর্মাসের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু ইত্তেফাককে জানান জানান, জ্বালানি তেলের দাম কয়েকবার বৃদ্ধি করা হলেও লঞ্চ ভাড়া বাড়ানো হয়নি। এছাড়া লঞ্চে অনেক দরিদ্র-অসহায় যাত্রী উঠে যাদের কাছ থেকে ভাড়া নেয়া সম্ভব হয় না। এমনকি প্রতিবারই ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার সময়ও লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে শতকরা ১০ শতাংশ ভাড়া কম নেয়া হয়েছে বলে সুরভী নেভিগেশনের পরিচালক রিয়াজ উল কবির দাবি করেন। কীর্তনখোলা কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুরুল আহসান ফেরদৌস জানান, সম্প্রতি লঞ্চের স্টাফদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। ঢাকা-বরিশাল রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী লঞ্চগুলোর আপ-ডাউন করতে প্রতিটি লঞ্চের ২০ থেকে ২৪ ব্যারেল পর্যন্ত জ্বালানি তেল খরচ হয়। জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পর প্রতি ব্যারেলের তাদের খরচ বেড়েছে ১৫শ’ টাকা করে। অথচ ভাড়া বৃদ্ধি তো দূরের কথা ডেকের যাত্রীদের বর্তমান ভাড়া ২৪২ টাকার পরিবর্তে তারা প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে মাত্র একশ’ টাকা নিচ্ছেন। তবে যাত্রীরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের বক্তব্য নৌপথে সড়ক পথের মতো চাঁদাবাজি নেই। আবার লঞ্চ মালিকরা যাত্রী ধারণ ক্ষমতা কম দেখিয়ে সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দেন। কিন্তু যাত্রী পরিবহন করেছেন ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশী। তার উপরে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে লঞ্চে উঠতে বাধ্য করার পাশাপাশি কেবিনের টিকেট কালো বাজারে বিক্রি করে লঞ্চ মালিকরা বিপুল টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ভাড়া বৃদ্ধি হবে মরার উপর খড়রা ঘা। এর আগে ২০১১ সালের মে মাসে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর জুলাই মাসে এক দফা লঞ্চ ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। নতুন যে ভাড়া নির্ধারণ করা হচ্ছে তাতে সর্বনিম্ন লঞ্চ ভাড়া হবে ২০ টাকা। বর্তমানে সর্বনিম্ন লঞ্চ ভাড়া হচ্ছে ১৫ টাকা।
