নির্বাচন নিয়ে ভাবনা

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৪০
সমঝোতার মাধ্যমে জাতিকে উপহার দিতে হবে একটি গ্রহণযোগ্য কারচুপিমুক্ত নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্প্রতি দেশের প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে এতটাই নিবিড় সম্পর্ক লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, তারা একে অপরকে সহ্যই করতে পারছে না। তাদের মধ্যে বিরাজ করছে অহি-নকুল সম্পর্ক। দ্বন্দ্ব-সংঘাত তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। রাজনৈতিক অঙ্গনে যদি এরূপ প্রতিকূল পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে তাহলে কি সমঝোতা তাড়াতাড়ি সম্ভব। সমঝোতার জন্য প্রয়োজন আলোচনার। প্রয়োজন ত্যাগের মনোভাব। কিন্তু আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের একটাই মনোভাব “ত্যাগে নয় ভোগেই প্রকৃত সুখ।” ভোগের আশায় তারা শুধু নিজেদের স্বার্থের কথাই ভাবেন। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থের দিকে তাদের দৃষ্টি পড়েও পড়ে না। নিজস্ব স্বার্থের জন্যই এখন ক্ষমতাসীন দল অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে এবং বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে চাচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রধান দুটি দলের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে জ্বালাও-পোড়াও, হরতাল-অবরোধের মতো অসামাজিক কার্যকলাপ সংঘটিত হচ্ছে। যার শিকার হতে হচ্ছে বিশ্বজিত্-এর মত অসংখ্য সাধারণ মানুষকে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে দেশে অরাজকতার সৃষ্টি হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে গণতন্ত্রকে কি সুপ্রতিষ্ঠিত করা যাবে? এমতাবস্থায় এটাকে গণতন্ত্র বলা যাবে? জনগণই সকল ক্ষমতার উত্স” এটা যদি গণতন্ত্রের ভাষা হয় তাহলে ক্ষমতা নিয়ে এতো বাড়াবাড়ি কেন? তাই আমি বলবো, ক্ষমতা নিয়ে আর বাড়াবাড়ি নয় সময় থাকতেই আপনারা আলোচনায় বসুন এবং সমঝোতার মাধ্যমে জাতিকে উপহার দিন একটি গ্রহণযোগ্য, কারচুপিমুক্ত, স্বচ্ছ সংঘাতহীন নিরপেক্ষ নির্বাচন। তাহলে জনগণ আপনাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। অরাজকতার সৃষ্টি হবে না এবং উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। যা মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পরিচিতি লাভে সহায়তা করবে। নাজমুল হুসাইন অর্থনীতি বিভাগ (৩য় বর্ষ), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া। 0000000000000 জনগণের স্বার্থে সংঘাত এড়িয়ে আলোচনার মাধ্যমে দু’টি জোটের সুষ্ঠু নির্বাচন করা দরকার বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ। ১৯৭১ সালে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতা। লক্ষ্য ছিল একটাই- বাংলার মানুষ সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। জনগণের জান ও মালের নিরাপত্তা অর্জিত হবে । কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে আজ প্রায় ৪১ বছর হয়ে গেল। কিন্তু বাংলার মানুষ আজও জান ও মালের নিরাপত্তা খুঁজে ফিরে । কিন্তু কেন? তাহলে কি বাংলাদেশ আজও স্বাধীন হয়নি। কেন আজ বিশ্বজিত্-এর মত একটা নিরীহ মানুষকে অকালে প্রাণ দিতে হলো। পত্রিকার পাতায় চোখ বুলালেই দেখা যায় গুম, হত্যা, নারী ধর্ষণের মত জঘন্য সংবাদ। এর একটাই কারণ সেটা হলো রাজনৈতিক সংঘাত। বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যে দেশে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে যে দল পরাজিত হয় তাদের প্রথম কথা হলো নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে। কিন্তু আমেরিকার মত একটি পাওয়ারফুল দেশে নির্বাচন হওয়ার পরে বিরোধী দলের নেতা রমনি ঘোষণা দেন যে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে এবং নির্বাচিত দলকে অভিনন্দন জানান। আমাদের দেশের রাজনৈতিক নেতারা জনগণের সেবার থেকে নিজেদের উদরপূর্তিতে ব্যস্ত। অথচ রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া দরকার ছিল জনগণের সেবা করা। তাই আমি বাংলাদেশের দু’টি জোটের সকল রাজনৈতিক নেতাকে আহবান করবো আপনারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ভুলে একমাত্র জনগণের সেবার উদ্দেশ্যেই রাজনীতি করুন। তাহলেই বাংলার মানুষ তাদের আসল স্বাধীনতা ফিরে পাবে এবং বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। মাহফুজুর রহমান যায়েদ মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ২য় বর্ষ ,ফার্মেসী বিভাগ। ০০০০০০০০০০০ দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প নেই বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন সময়ে সংবিধানের বিভিন্ন ধারার সংশোধন বা পরিবর্তন এনেছেন। যেমন—তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু, যুদ্ধাপরাধীর বিচার, নারীর সম-অধিকার, ধর্মনিরপেক্ষতা ইত্যাদি। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংশোধনীটি বর্তমান প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কি? প্রকৃত অর্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বলতে নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন এমন একটি সরকারকে বোঝায় যা সম্পূর্ণভাবে নির্দলীয় এবং নির্বাচনে ব্যক্তিগতভাবে অংশগ্রহণ থেকে ঐ সরকারের প্রত্যেক সদস্য বিরত থাকে। বাংলাদেশে সংবিধানের ত্রেয়াদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে বিধান সংযোজন করা হয়েছিল তাতে প্রকৃত অর্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বাধ্যবাধকতা ছিল কিন্তু পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তা বাতিল ঘোষণা করা হয়, যেটি তাত্ক্ষণিকভাবে বিরোধী দল(বিএনপি) প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তারা কয়েকটি উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করেনি। প্রথমদিকে তাদের আন্দোলন বেশি জোরদার না হলেও বর্তমানে তা একদফা এক দাবি হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে এবং কয়েকটি হরতালসহ প্রায় প্রতিদিনই মিছিল-মিটিং ও সমাবেশ করছেন কিন্তু বর্তমান সরকার তাদের সিদ্ধান্তে এখনও অনড়। তারা বিরোধীদল ছাড়াই সংসদ অধিবেশন চালিয়ে যাচ্ছেন এবং নির্বাচন করবেন বলেও আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আমি বর্তমান সরকারের সমালোচনা করছি না। শুধু কয়েকটি প্রশ্ন রাখতে চাই— ধরুন আজ যদি আপনি বিরোধীদলে থাকতেন আর বিএনপি সরকার যদি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়াই নির্বাচনের ঘোষণা দিতেন তাহলে আপনি কি করতেন ? যদি পুলিশ বা র্যাব দিয়ে আপনার দলীয় লোকদের গুম বা হত্যা করা হতো তাহলে আপনি কি করতেন ? তাই বর্তমান সরকারকে আমি অনুরোধ করবো যে, দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প নেই । তাই যদি আপনার শাসনব্যবস্থায় দেশের মানুষ সন্তুুষ্ট হয়, দেশের মানুষের মন জয় করতে পারেন তাহলে আবারো বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন। আর যদি বিরোধীদলও (বিএনপি) যদি দেশের মানুষের মন জয় করতে পারে তাহলে তারাই ক্ষমতায় যাবে বা সরকার গঠন করবে এটাই গণতন্ত্র। কিন্তু দেশের বর্তমান চলমান অবস্থা দেশকে এক অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যার জন্য সরকারী দল প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে বিরোধীদলকে (বিএনপি) দায়ী করছেন। আবার বিরোধীদলও (বিএনপি) এর জন্য সরাসরি সরকারকেই দায়ী করছেন। তাই উভয় দলেরই উচিত— প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে সঠিক সমাধান খুঁজে বের করা এবং জাতিকে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেয়া । এস.এম.হূদয় আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ (স্নাতকোত্তর) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন