মিসরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে দেশটির তিনটি শহরে ৩০ দিনের জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি। রবিবার পোর্ট সৈয়দে গুলিতে সাতজনের মৃত্যু হওয়ার পর দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেয়া ভাষণে মুরসি পোর্ট সৈয়দ, ইসমাইলিয়া এবং সুয়েজে জরুরি অবস্থা এবং রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করেছেন। সোমবার থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে ৪৯ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে। এদিকে মুরসি-বিরোধীরা সোমবার দেশজুড়ে আরো ব্যাপক বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। তবে মুরসি-বিরোধী দলগুলোকে জাতীয় সংলাপে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। রবিবার পোর্ট সৈয়দের বিক্ষোভকারীরা নিহতদের লাশ নিয়ে মিছিল করে। তারা মুবারকের পতন হোক, সরকারের পতন হোক, তারা আমাদের হত্যা করেছে, তারা আমাদের নির্যাতন করেছে বলে রাজপথে স্লোগান দেয়। মুরসির জরুরি অবস্থা জারির পর ঐ তিন শহরের শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে এর প্রতিবাদ জানায়। তারা জরুরি আইন অমান্য করারও ঘোষণা দেয়। এদিন দেশটির পোর্ট সৈয়দে নিহত ৩৩ জনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানের সময় গুলিতে আরো সাতজন নিহত হয়েছে। গতবছর ফুটবল স্টেডিয়ামে সহিংসতার ঘটনায় ২১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার প্রতিক্রিয়ায় শনিবার প্রতিবাদরত সহিংস বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ঐ ৩৩ জন নিহত হয়। রায় ঘোষণার পর-পর ভূ-মধ্যসাগরের উপকূলবর্তী শহর পোর্ট সৈয়দে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয়রা। স্টেডিয়ামে সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় এখানকার লোকদের ‘অন্যায়ভাবে’ দায়ী করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে তারা। এতে মুবারকের পতনের পর মিসরের ইসলামপন্থিরা মুবারক-বিরোধী বিপ্লবের সঙ্গে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছে বলে উদারপন্থিরা অভিযোগ করেছে। এর আগে শুক্রবার কায়রোর তাহরির চত্বরে প্রেসিডেন্ট মুরসি-বিরোধী কয়েক হাজার লোক জড়ো হয়। এই একই চত্বর থেকে দুই বছর আগে ২৫ জানুয়ারি মুবারক-বিরোধী আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। যে আন্দোলনের মাত্র ১৮ দিনের মাথায় ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন তত্কালীন প্রেসিডেন্ট মুবারক। দিবসটি উপলক্ষে মিসরজুড়ে সরকার-বিরোধী ঐ বিক্ষোভ-সহিংসতায় নয়জন নিহত হয়েছিল। তাহরির চত্বরে সমবেত জনতা মুবারক-বিরোধী বিপ্লবের চেতনা আবার ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আন্দোলন শুরু করতে চায়। তাদের অভিযোগ- বিপ্লবের ঐ চেতনাকে মুবারক-বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম শরিক মুসলিম ব্রাদারহুড ‘ছিনতাই’ করেছে। এই মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখা ‘ফ্রিডম এন্ড জাস্টিস’ পার্টির প্রার্থী হিসাবেই মুরসি মুবারকহীন মিসরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। দেশকে ইসলামিকরণের দিকে এগিয়ে নিয়ে মুরসি মিসরবাসীর ব্যক্তি ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা খর্ব করেছেন বলে অভিযোগ উদারপন্থি বিরোধীদলগুলোর।
