গত দুই দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্য আলাদা দুটি শিবিরে বিভক্ত রয়েছে। একদিকে সৌদি আরবের মধ্যকার সুন্নি রাজতন্ত্রের নেতৃত্বে থাকা সুন্নি শিবির, যারা স্পষ্টতই গত চার দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা আসাদ সরকারকে পতনের তাগিদে বিরোধীপক্ষকে মৌন সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া মুদ্রার অন্যপিঠের শিবিরটি হলো ইরান, গোটা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে শিয়া শাসিত একটি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র, যারা বহির্বিশ্বের আধিপত্য ঠেকাতে নিজেরাই মধ্যপ্রাচ্যের গোষ্ঠীবদ্ধতাকে জোরদারে ভূমিকা পালন করছে। তাই এই প্রেক্ষিতে ইরানের রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনিজাদ বলেন যে, শত্রুপক্ষ মুসলিম দেশগুলির জ্বালানি ও সম্পদকে অপচয়ের জন্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংঘাতকে উসকে দেয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে।
সিরিয়ার দীর্ঘ অচলাবস্থা প্রায় ৬০ হাজার মানুষের মৃত্যু ও ২লক্ষ ২০ হাজার উদ্বাস্তুর জন্ম দিয়েছে, যারা বিভিন্ন সময় সীমান্তবর্তী দেশগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। এ রকম প্রেক্ষিতে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলো কী ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সেটার অনুসন্ধান খুবই তাত্পর্য ও গুরুত্বের দাবি রাখে।
উপসাগরীয় রাজতন্ত্র: বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, পারস্য উপসাগরীয় কিছু দেশ যারা ইরানে ক্রমাগত পরমাণুু প্রযুক্তির বিকাশকে ভয় পায় এবং তেহরানের প্রভাব অনুবর্তী অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার যে প্রবণতা সেখানে দেখা যায় যে, বাহরাইনে ২০১১ সালে সরকার বিরোধী বিক্ষোভের সময় সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়া বিক্ষোভকারীদের প্রতি ইরান পক্ষপাত নেয়। অবশ্য এ সময় সৌদি আরব ও আরব আমিরাত বাহরাইনে সেনা প্রেরণ করে। একইভাবে, সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহ সিরিয়ার বিদ্রোহীদের প্রতি পরোক্ষ সমর্থন প্রকাশ করে এবং উল্লেখ করেন যে সিরিয়ার সরকারের আর কোন ‘বৈধতা’ নেই। এরপর ঘটনাটি এমন অভিমুখে যাত্রা করে যেখানে পারস্য উপসাগরীয় দেশসমূহ সিরিয়ার বিদ্রোহীদেরকে অস্ত্র ও অন্যান্য সহযোগিতা দিতে থাকে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যে কিনা এই উপ-অঞ্চলের প্রধান মিত্র হিসেবে পরিচিত, সেও বিভিন্ন পন্থায় সহায়তা বা বন্দোবস্ত করে।
লেবানন : এটা স্মরণযোগ্য যে, কিঞ্চিতকাল পূর্বে পর্যন্ত লেবাননের উপর সিরিয়া দেশটি অভিভাবকত্বসুলভ বিবেচনাহীন আধিপত্য জারি ছিলো এবং ২০০৫ সাল পর্যন্ত সেখানে সেনা মজুদ করে রেখেছিলো। লেবাননের রাজনীতির উপর সতর্কতামূলক সাম্প্রদায়িক ভারসাম্য আরোপ এবং সিরিয়া ও লেবাননের মধ্যকার বিদ্যমান সংবেদনশীল সম্পর্কের প্রভাব পড়ছে তাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির উপর। এর ফলে সিরিয়ার সন্দেহভাজন হত্যাকারী দ্বারা লেবাননের রাজনৈতিক নেতাদের খুন করার পাশাপাশি হিজবুল্লার প্রতি সিরিয়া ও ইরানের প্রত্যক্ষ সহায়তার কারণে ইজরাইল বিরোধী শিয়া বাহিনীও লেবাননে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান পোক্ত করছে। যদিও লেবাননের জনগণের একটা বড় অংশের মধ্যে হিজবুল্লাহ সেনাদলের একটা বিস্তৃত প্রভাব প্রচ্ছন্ন বলয় কার্যকর আছে। জাতিসংঘের তথ্য-উপাত্ত দেখায় যে, যখন থেকে বসির আল আসাদ সরকার ২০১১ সালে সিরিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে লাঞ্ছিত হতে শুরু করে , তখন থেকে প্রায় এ পর্যন্ত ৪০ হাজার সিরিয়াবাসী লেবাননে উদ্বাস্তু হিসেবে অবস্থান নেয়। এখানে সংযুক্তি হিসেবে আরো বলে রাখা ভালো যে, এসব উদ্বাস্তুদের ভিড় দেশে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করছে প্রতিনিয়ত। উল্লেখ্য যে, এ অঞ্চলে পূর্ববর্তী আরব-ইসরাইল যুদ্ধের খেসারত হিসেবে আরও প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনী উদ্বাস্তুর বাস। এসব বিষয় পরিস্থিতিকে আরো বহুমাত্রিকতা দান করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের আকাশকে ক্রমশই ঘোলাটে করে ফেলছে।
ইরান : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ও তার ইউরোপীয় সহযোগি মিত্ররা ক্রমাগত নিজেদের নিরাপত্তাকে জোরদার করার সাথে সাথে উন্নত পারমাণবিক জ্বালানি উত্পাদনের কাজ করছে। ওদিকে তেহরান ক্রমাগত দামেস্কোতে শিয়া নিয়ন্ত্রিত শক্তিপক্ষকে সমর্থন দিয়ে আসছে। প্রতিনিধিত্বশীল শিয়া সম্প্রদায় হিসেবে ইরান আল-আসাদ সরকারের সর্বোচ্চরকম সমর্থক হিসেবে কাজ করছে। এই নীতিমালা তেহরানও অনুসরণ করছে কেননা এটা ইরানের শক্তিঅক্ষকে ভূ-মধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল পর্যন্ত প্রদর্শন করে। সিরিয়া ও লেবাননের উভয়ের শিয়া সমর্থিত হিজবুল্লাহ সেনাদল এই কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এন্ড্রু ট্যাবলর, ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসি’র অন্যতম রাজনৈতিক বিশ্লেষক এ প্রেক্ষিতে সিরিয়াকে ইরানের ‘চাবিকাঠি’ হিসেবে ব্যাখ্যা দেন যা কেবল উপসাগরীয় এলাকায় ইরানের ভূমিকাকে কেবল গুরুত্বপূর্ণই করে তুলবে না, পাশাপাশি আরব-মধ্যপ্রাচ্যসহ তুরস্কেও এর ঢেউ এসে লাগবে।
তুরস্ক : তুরস্কে প্রদর্শিত সংঘাতের রূপ পরিগ্রহ করার কারণ হিসেবে আসাদ সরকারের মানবিক দায়িত্ববোধের অবনতি লক্ষ্য করা যায়। যেটা শুরু হয়েছিলো একটি উদারতা মাখানো অবয়বের হাত ধরে, সেটা আজ এক কঠিন দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। মাত্র এক বছরের মাথায় এ দেশটিতে প্রায় ৬০ হাজার উদ্বাস্তু জায়গা করে নিয়েছে, যাদের অনেকেই সিরিয়ার বিরোধীপক্ষকে সমর্থন করে। আসল বিষয়টি হলো, দুই দেশের দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি হয়েছে এবং বর্তমানে তুরস্ক সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে পরিণত হয়েছে, এছাড়া সিরিয়ার যোদ্ধারা তুরস্ককে ব্যবহার করছে অস্ত্র চোরাচালান করে সিরিয়াতে পাচারের জন্য। মধ্যসাগরীয় এলাকায় তুরস্কের যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনার পর থেকে তুরস্ক নিজেও তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্ত এলাকায় নিজেদের শক্তিকে জোরদার করেছে। এটা বোধগম্য যে ন্যাটো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আর বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরস্পরের সাথে মিলিত হয়ে এ অঞ্চলে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য পরিকল্পনা গ্রহণে রাজি হয়েছে, যেটাকে আসাদ সরকারের পতনের পর বাস্তবায়নের দিকে যেতে হবে। কিন্তু তুরস্কের জনগণ, যারা কয়েক দশক ধরে কুর্দিদের সাথে দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে লড়াই করে আসছে, তারা আলাদা করে সাম্প্রতিক দৃশ্যপটের উপর মনোযোগী হয়ে উঠছে কেননা চূড়ান্ত বিষয়টি হলো তুরস্ক সরকার মনে করে সিরিয়ার উপ-অঞ্চলসমূহে কেন্দ্রে সৃষ্ট সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা না থাকায় অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। তাদের পক্ষে এই অনিশ্চয়তা প্রবল, কেননা বিচ্ছিন্নতাবাদী কুর্দিস্থান শ্রমিক দলের পতাকা বিক্ষোভগুলো পার্শ্ববর্তী সীমান্তবর্তী এলাকা দ্বারাই প্রভাবিত হওয়াটাই একান্ত স্বাভাবিক।
ইরাক : প্রতিবেদন ইঙ্গিত দেয় যে, ২০০৩ সালে যখন ইরাকে যুদ্ধ পুরোদমে শুরু হয়, প্রায় ৩০ হাজার ইরাকি সিরিয়াতে উদ্বাস্তু হিসেবে আশ্রয় চায়। এটা ছিলো মূলত শিয়া ও সুন্নি দুই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর মধ্যকার জবর দখলের একটা দীর্ঘ যুদ্ধকালীন অবস্থা, যেটা মার্কিন আগ্রাসনকে অনুসরণ করে। মার্কিন কমান্ডার সিরিয়াকে বছরের পর বছর ধরে দোষারোপ করে আসছে যে, সিরিয়া সরকার যোদ্ধাদেরকে ইরাকে এসে মার্কিন বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করার জন্য নিজেদের সীমা ব্যবহার করতে দেয়। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে মার্কিন বাহিনী আশা করছে যে, তারা এ ব্যাপারে আসাদ সরকারের সাথে সমঝোতায় আসতে পারবে। কিন্তু এখন দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। গত বছরের পুরোটা সময় জুড়েই সিরিয়ার প্রায় ২১ হাজার উদ্বাস্তু ইরাকে প্রবেশ করে। এই পরিসংখ্যান পুরো দৃশ্যপটকে আরো জটিল করে তুলেছে। কিছু পশ্চিমা শক্তি এখন ভীত এই ভেবে যে, সুন্নি নিয়ন্ত্রিত আল-কায়েদা বাহিনী এই সুযোগটি ব্যবহার করে সীমানা অতিক্রম করবে এবং আল-আসাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে সংগ্রামরত বিদ্রোহীগ্রুপকে সহায়তা করবে। শিয়া নিয়ন্ত্রিত বর্তমানের ইরাকি সরকারও এখন বেশ দুশ্চিন্তায় আছে, কেননা ইরাকের কিছু কিছু জায়গায় এখনও মৌলবাদী সুন্নি জেহাদির উপর পূর্ণ কর্তৃত্ব আরোপের চেষ্টা করছে ইরাকি সরকার, যেটা ভন্ডুলও হতে পারে।
এটা এখন সাধারণভাবে স্বীকৃত যে, সিরিয়ার এই দৃশ্যমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করার কাজটা জাতিসংঘ সুষ্ঠু ও সুচারুরূপে করতে পারেনি। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান ইতিমধ্যে বিশেষ দূত হিসেবে নিজের নামটিকে সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি কাঙ্ক্ষিত আন্তর্জাতিক সমর্থন না থাকাকে তার প্রচেষ্টার ব্যর্থতা বলে ব্যক্তিগতভাবে ব্যাখ্যা করছেন। একইভাবে, সিরিয়ায় জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক দলের চূড়ান্ত ব্যর্থতাকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পঙ্গুত্বের দিকে আমাদের নজর ফেরায়। চীন ও রাশিয়া, উভয় দেশই সিরিয়ার উপর কঠিন প্রস্তাব আরোপ করেছে, এছাড়া তারা আরও তিনটি প্রস্তাবে ভেটো প্রদান করেছে। বর্তমানে সিরিয়ায় চলমান দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রেও একধরনের রূপান্তর দেখা যাচ্ছে। ক্রমশই এটি একটি ভয়াবহ গেরিলা যুদ্ধে রূপান্তরিত হয়ে উঠছে। আরব লীগ ও জাতিসংঘের দূত ব্রাহিমী, কফি আনান-এর এই উত্তরাধিকারী সমানভাবে এই কঠিন কাজটি করে চলেছে।
এখন পর্যন্ত বিদ্রোহীরা তুরস্কের সীমান্ত সংলগ্ন সিরিয়ার কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় স্বল্পমাত্রায় নিয়ন্ত্রণ আরোপে সমর্থ হয়েছে। এছাড়া তারা শহুরে অঞ্চলে কিছু গুহাকেও নিজেদের জন্য নিরাপদ করতে পেরেছে, কিন্তু প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে এটা প্রমাণিত হয় যে, আসাদ সরকার নিজস্ব জনশক্তির বলে বিদ্রোহীদেরকে তাদের অবস্থান থেকে সরিয়ে দিতে পারে। এদিকে পশ্চিমা বিশ্ব প্রতিনিয়ত সিরিয়ার সেনা সদস্যদেরকে কর্মদক্ষতা কার্যকর অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রবল চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে, তারা এখনও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একক নেতৃত্ব তৈরির ক্ষেত্রে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে ।
বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্ব প্রতিনিয়ত নানা ধরনের অর্থনৈতিক ও আর্থিক চাপে রাখতে পারে এ অঞ্চলকে, সেই সাথে সিরিয়ার তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ গোটা আসাদ পরিবারের উপর জারি রাখতে পারে নানা ধরনের বিধিনিষেধ ও আন্তর্জাতিক আইনের বেড়াজাল। আর এসবের বাইরেও প্রতিপক্ষতো সংখ্যালঘু। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এটা দেখাতে হবে যে, এত সবের মানে সিরিয়ার জনগণের হাত ছেড়ে দেয়া নয়। কেবল পরিবর্তনের প্রতি প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে সিরিয়ার অভ্যন্তরীণ ও বহিঃস্থ উদ্বাস্তু পরিস্থিতির দিকে নজর দিতে হবে, পাশাপাশি সিরিয়ার মধ্যকার ভয়াবহ খাদ্য সংকট সমাধানে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে।
উপসংহারে এটা বোধগম্য যে, সিরিয়া লিবিয়া নয়। এই দৃষ্টিভঙ্গিটি পশ্চিমা বিশ্লেষকদেরও সমর্থন পায়। যারা উল্লেখ করেন, এমনকি এখনও সিরিয়ার সামরিক জান্তা ও দামাসকাসের মধ্যকার নেতৃত্ব সম্পর্কিত সংযোগ ও সম্পর্ক আক্ষরিক অর্থেই গাদ্দাফি’র নিত্য পরিবর্তনশীল শাসনব্যবস্থার তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। এর ফলে এক অংশের হতাশা, আর ডেভিড মুলার সেই হতাশাকে বাড়িয়ে দিয়ে তিনি জানান যে, সিরিয়ার বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে এমন কোনো বিকল্প নেই যেটা দিয়ে সিরিয়ার বর্তমানের এই পরিস্থিতির বিবর্তন ঘটতে পারে।
ভাষান্তর :নাসিমুল আহসান
লেখক : সাবেক রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক
ই-মেইল : [email protected]
