চান্দিনায় ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্দ্বে শিক্ষকদের বেতন বন্ধ

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৫৪
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা সদরে অবস্থিত চান্দিনা ডা. ফিরোজা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের জটিলতা নিয়ে সকল শিক্ষক-কর্মচারীর দুই মাস বেতন-ভাতা বন্ধ করে দিয়েছেন বিদ্যালয় সভাপতি। ২০১২ সালের ৮ আগসস্ট সৈয়দ ফয়েজুর রহমানের সভাপতিত্বের কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়। বোর্ডের নিয়মানুসারে পুরাতন কমিটির এক মাস মেয়াদ থাকার আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সিদ্ধান্তে একই বছরের ২ জুলাই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনের পর প্রথম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এবিএম সিরাজুল ইসলামকে সভাপতি করে জহিরুল ইসলাম, মো. শহীদ, শাহজাহান, রুমা সরকার ও জাকিরকে সদস্য করে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। একই মাসের ৫ জুলাই ওই কমিটি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনের জন্য সকল কাগজপত্র জমা দেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরজাহান বেগম। এদিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী এক সদস্য নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি মর্মে বোর্ডে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগকে কেন্দ্র করে ও অজ্ঞাত কারণে নতুন কমিটি আজও অনুমোদন পায়নি। অপরদিকে বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য নির্বাচনের পর থেকে পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকদের মধ্যে কোন সভা না হওয়ায় সকল কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। আর ওই সভা না হওয়াকে ইস্যু করে সাবেক সভাপতি সৈয়দ ফয়েজুর রহমান বিদ্যালয়ে ১৪ জন শিক্ষকসহ দুই কর্মচারীর দুই মাস যাবত্ বেতন ভাতা বন্ধ করে রাখেন। এতে সংসারের ভরণ-পোষণের জন্য যে শিক্ষকদের বেতনই একমাত্র ভরসা তারা মানবেতর যীবন-যাপন করছেন। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূরজাহান বেগম জানান, নিয়মানুসারে পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পুরাতন কমিটি নিয়ে কোন সভা করা যায় না। অপরদিকে অজ্ঞাত কারণে নতুন কমিটিরও অনুমোদন দেয় না বোর্ড। যার ফলে আমি কোন সভা আহবান করতে পারছি না। এ ব্যাপারে চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন জানান, শিক্ষকদের ও সাবেক পরিচালনা পর্ষদের একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে কোন কারণেই যাতে শিক্ষকদের বেতন বন্ধ করা না হয় সে ব্যাপারে সভাপতিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশের পরও কেন শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে সে ব্যাপারে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল আহসান জানান, বিষয়টি সম্পর্কে আমি সুস্পষ্ট কিছুই জানি না। শিক্ষকদের যেন বেতন-ভাতা আটকে না থাকে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে আমি ইউএনওকে নির্দেশ দিব।