কারফিউ ভেঙে মিসরের পোর্ট সাঈদ, ইসমাইলিয়াহসহ সুয়েজ খালের তীরবর্তী শহরগুলোতে সোমবার রাতভর বিক্ষোভ করেছে মুরসি বিরোধীরা। বিক্ষোভকারীরা সেখানে কয়েকটি পুলিশ স্টেশনেও হামলা চালিয়েছে। পোর্ট সাঈদ শহরে সংঘর্ষে কমপক্ষে দু’জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।
পোর্ট সাঈদে শত শত বিক্ষোভকারী রাত্রিকালীন কারফিউ ভেঙ্গে রাস্তায় নেমে আসে। এ সময় পুলিশের সাথে তাদের পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশ স্টেশনে হামলার ঘটনা ঘটে। নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, এসব হামলায় পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংঘর্ষে অন্তত দু’জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১০ জন গুলিবিদ্ধ। পোর্ট সাঈদ ও সুয়েজ খাল এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ইসমাইলিয়া শহরে বিক্ষোভকারীরা ‘মোহাম্মদ মুরসি নিপাত যাক’, ‘জরুরি অবস্থা বাতিল হোক’—এসব শ্লোগান দেয়। আলেকজান্দ্রিয়ায় বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়— ‘জনগণ মুরসি শাসনের অবসান চায়’। কায়রোতে মধ্যরাতে পুলিশের কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেয়া হয়।
সুয়েজ খাল-সংলগ্ন ওই তিন শহরের রাস্তায় অবস্থান নেয় হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। এর আগে সহিংস বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে এসব শহরে রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করেছিলেন প্রেসিডেন্ট মুরসি। সোমবার মিসরের মন্ত্রিসভা প্রেসিডেন্ট মুরসিকে সেনা মোতায়েনের ক্ষমতা দিয়ে একটি খসড়া আইন অনুমোদন করে। উদ্ভূত সমস্যার সমাধানে প্রেসিডেন্ট বিরোধী দলগুলোকে আলোচনায় বসার ডাক দিলেও বিরোধীরা তা প্রত্যাখ্যান করে।
গত সোমবার তাহরির স্কয়ারের আশপাশে বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোঁড়ে পুলিশ। সাবেক স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে গত বৃহস্পতিবার মিসরের বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। গত কয়েকদিনের এসব সহিংসতায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৫২ জন নিহত হয়েছে।
