চাই সুশৃঙ্খল, সুন্দর
এবং গণতান্ত্রিক
নির্বাচন
নির্বাচনের ব্যাপারে দেশের সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের সুষ্ঠু মতামতের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হতে পারে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচন। যে নির্বাচন নিয়ে কোন বিরোধিতা থাকবে না। আমি আমার দৃষ্টিকোণ থেকে বলছি, যেভাবে আমাদের গণমানুষের সুবিধা হয় ঠিক সেইভাবে মানে সুশৃঙ্খলভাবে নির্বাচন সংগঠিত করুন। যেন এই নির্বাচনের জন্য কোন মাকে ছেলের জন্য কাঁদতে না হয়। কোন বোনকে তার সম্ভ্রম হারাতে না হয়। যেন কোন মানুষ নিভৃতে বসে চোখের পানিতে আঁচল না ভেজায়। তারপরও হাজারো প্রশ্ন মনে বাসা বাঁধে— আদৌ কি এমন নির্বাচন সম্ভব কিনা। কেন, আমরা তো আমাদের চারপাশের জগত্, ইতিহাস থেকেও শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি। জনগণ তাদের জনমত দিয়ে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করবে, যেখানে কোন মিথ্যা আহাজারির ছাপ থাকবে না। মোটকথা, আমাদের সকলের কাম্য সুশৃঙ্খল, সুন্দর, মননশীল এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচন।
মো. হায়াতউল্লাহ সরকার (রাজন)
এইচএসসি পরীক্ষার্থী, ব্যবসায় শিক্ষা
শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ
ময়মনসিংহ।
চাই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ
নির্বাচন
দেশের ১৬ কোটি মানুষের আজ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে, না দলীয় সরকারের অধীনে হবে তা নিয়ে সরকারি এবং বিরোধী দলের মধ্যে টানাপড়েন চলছে বহুদিন থেকে। দেশের রাজনীতিতে আজ ঘোলাটে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই সঙ্কট সমাধানের অন্যতম উপায় হচ্ছে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যে আগামী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করা। সরকারের উচিত নির্বাচন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করা। জনগণ যেহেতু সকল ক্ষমতার উত্স, তাহলে আমরা গণভোটের আয়োজন করতে পারি। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ যদি চায় দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে তাহলে তাই হবে। আর যদি তত্ত্বাবধায়কের অধীনে চায় তত্ত্বাবধায়কের অধীনে হবে। দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে সকল ষড়যন্ত্রকে পেছনে ফেলে, সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আজ গণমানুষের দাবিতে পরিণত হয়েছে। সংঘাত ও রক্তপাতহীন নির্বাচন শুধু দেশের গণতন্ত্রকেই উন্নত করবে না, বিশ্ববাসীর কাছে দেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
মো. মনিরুল ইসলাম
হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ
২য় বর্ষ, ঢাকা কলেজ।
দুইটি দলকে একই
পন্থায় আসতে
হবে
গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে জনগণের হাতে দেশের সর্বময় ক্ষমতা আর জনগণ যা চাইবে দেশে তাই হবে। জনগণ সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে নির্বাচনের মাধ্যমে। আর সে নির্বাচন যদি হয়ে পড়ে অনিশ্চিত তা হলে জনগণ নির্বাচিত করবে কাকে। আমাদের ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। প্রধান দুই দলের মধ্যে চলছে দ্বিমত। সরকারি দল চাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে। অপরদিকে বিরোধী দল সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে সোচ্চার। এই বিষয় নিয়ে দুইটি দল একমত হতে পারছে না। বিরোধী দলের এই দাবি আদায়ের জন্য তারা হরতাল, মিছিল, সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করছে। আর এসব দমন করতে সরকারি দল বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এসব কারণে সাধারণ জনগণ পড়ছে চরম দুর্ভোগে। তাই দেশের প্রধান দুই দলের উচিত একসাথে বসে সংলাপের মাধ্যমে একটি সঠিক পদ্ধতি বেছে নিয়ে ঠিক সময়ে নির্বাচন দেয়া। তানা হলে দেশে চলবে নৈরাজ্য, দুর্ভোগ ও অশান্তি। তাই দরকার দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে ও জাতির স্বার্থে আসন্ন “১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন” যথাসময়ে সুন্দরভাবে সম্পন্ন হওয়া। তাহলে দেশ হবে সমৃদ্ধ আর মুক্ত হবে নৈরাজ্য ও অশান্তি।
কাজী সাহাবুদ্দিন আহাম্মদ
একাদশ শ্রেণি, বিজ্ঞান বিভাগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ।
সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য জনগণের মতামত নেয়া অপরিহার্য
বর্তমানে নির্বাচন নিয়ে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর জন্য দুই নেত্রীই দায়ী। তারা কেউ কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলেন না। এর ফল কি দাঁড়াবে তা একবার ভেবে দেখা দরকার। নচেত্ অবস্থাটা ঠিক এরকম হতে পারে—দুই বাঘ শিকার নিয়ে ঝগড়া করতে করতে ক্লান্ত হয়ে গেল। তখন চতুর শিয়াল এসে তাদের শিকার লুফে নিল বিনা ক্লেশে। স্বৈরাচারী শিয়ালরা ক্ষমতা নামক শিকার লুফে নিতে উঁকিঝুঁকি মারছে। মাঝে-মধ্যে তৃতীয় শক্তির কথা শুনতে পাই। দলের চেয়ে গণতন্ত্র বড়। এই গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে দুই দলকে সমঝোতায় আসতে হবে। জনগণ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চায়।
শরীয়ত উল্লাহ
ফাজিল ১ম বর্ষ
শাহআলী কামিল মাদ্রাসা
মিরপুর-১, ঢাকা।
রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ গণভোট যাচাইয়ের মাধ্যমে সর্বজন সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব
দেশ-জাতির স্বার্থ বড় করে না দেখে, তারা নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থকে বড় করে দেখছে। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্য অনুকূল পরিবেশ আমাদের দেশে নেই। ঠিক তেমনি এটা জনগণের মধ্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতাও পায়নি কিংবা তত্ত্বাবধাযক সরকার পদ্ধতির হাতে দেশের নির্বাচন ততটা স্বচ্ছতাসম্পন্ন হতে পারে না। আমাদের সামনের ২০১৩ সালের নির্বাচন অন্তর্বর্তী সংবিধানের বিধান অনুযায়ী বা তত্ত্বাবধায়ক নিয়মানুসারে কোনটি দ্বারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া সম্ভব হবে না। কারণ উক্ত দুই নীতিতেই রাজনৈতিক স্বার্থের হস্তক্ষেপ আছে। উপরোক্ত দুই পদ্ধতিতে কিংবা কোয়ালিশন সরকার যে পদ্ধতিতেই নির্বাচন হোক না কেন তাতে আমাদের কোন আপত্তি নেই। তবে তাতে অবশ্যই স্বচ্ছতা ও জনমত যাচাইয়ের সুযোগ থাকতে হবে। সঠিক এবং সর্বগ্রহণযোগ্য নির্বাচন পদ্ধতি যাচাই করার জন্য গোটা দেশে গণভোট দেয়া যেতে পারে। অন্তর্বর্তী-তত্ত্বাবধায়ক- কোয়ালিশন সরকার যেদিকে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ভোট পড়বে আমরা সেই পদ্ধতিতেই আগামী নির্বাচন দিতে পারি।
গোলাম মোস্তফা
অনাস প্রথম বর্ষ
প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগ
নীলফামারী সরকারি কলেজ
নীলফামারী।
কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের
দৃ ষ্টি আ ক র্ষ ণ
২০১৩ সাল সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের বছর। নির্বাচন অনুষ্ঠান ও সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আজও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এমতাবস্থায় নির্বাচন নিয়ে আপনি কি ভাবছেন? আপনি যদি ছাত্র বা ছাত্রী হয়ে থাকেন তবে এখনই লিখতে বসে যান এবং লেখাটি পাঠিয়ে দিন আমাদের ঠিকানায়। এবারের বিষয়:‘নির্বাচন নিয়ে ভাবনা’। কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম, শ্রেণী, বিভাগ ও ছবি পাঠাতে ভুলবেন না।
লেখা পাঠানোর ঠিকানা
দৃষ্টিকোণ বিভাগ
দৈনিক ইত্তেফাক, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা ১২১৫
Email: [email protected]
