নিত্যপণ্যের চাহিদা ও সরবরাহের তথ্য সঠিক হওয়া বাঞ্ছনীয়

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৮
নিত্যপণ্যের বাজারের হালচাল নিয়া নিত্যদিনই লেখালেখি হইতেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এইসব লেখালেখির মূল উপজীব্য হইল নিত্যপণ্যের অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধি। দাম বৃদ্ধি কেন অযৌক্তিক তাহার জবাব; উত্পাদন খরচ কিংবা আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি না পাওয়া সত্ত্বেও বাজারে কিছু পণ্যের দাম বৃদ্ধি। সমস্যাটা দেখা দিয়াছে এইখানেই—বাজার অর্থনীতির মর্ম বুঝিতে পারা না পারা। বাজার অর্থনীতি কিন্তু বলে না যে, উত্পাদনের খরচ কিংবা আমদানি ব্যয় পরিবর্তন না হইলে দামের পরিবর্তন হইবে না। বাজার অর্থনীতির মূলকথা হইল—সরবরাহ আর চাহিদার মধ্যে কোন ফারাক থাকিলে কিংবা এই ফারাকের উঠানামা হইলে তাহার সহিত দামেরও উঠানামা হইতে পারে। ফলে দামের হ্রাস-বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে প্রথমেই জানা দরকার বাজারে সংশ্লি¬ষ্ট দ্রব্যের চাহিদা এবং তাহার বিপরীতে প্রকৃত সরবরাহ; কিন্তু প্রায় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, নিত্যপণ্যের সরবরাহ বা স্টক সম্পর্কে সরকারের সংশ্লি¬ষ্ট বিভাগে যে তথ্য আছে এবং বাস্তবে যাহা বাজারে বিদ্যমান তাহার মধ্যে বিরাট অসামঞ্জস্য রহিয়াছে। সংশ্লি¬ষ্ট দ্রব্যের চাহিদা সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়ার ফলে ঐ সকল পণ্যের দামের হ্রাস-বৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধান এবং উপসংহারে পৌঁছানো কঠিন হইয়া যায়। অতি সম্প্রতি কোন একটা দৈনিক পত্রিকায় চালের উত্পাদন ও ভোগের তথ্যে গোলমাল নিয়া প্রতিবেদন প্রকাশিত হইয়াছে। আসলে এই প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর একটি গবেষণা ফলাফলের উপর ভিত্তি করিয়া লেখা। ঐ গবেষণা অনুযায়ী কৃষি মন্ত্রণালয় খাদ্য উত্পাদন বাড়াইয়া দেখায়। ভোগও দেখায় কম। গবেষণা মতে, প্রকৃত উত্পাদন আরও অনেক কম এবং ভোগ আরো বেশি। ফলে দেশে চালের যে উদ্বৃত্ত দেখান হয় তাহা সঠিক নহে। চালের উত্পাদন যাহা কিনা চালের সরবরাহের মূল উত্স তাহা যদি সঠিকভাবে পরিমাপ করা না হয় কিংবা যদি উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাড়াইয়া দেখান হয় তাহা হইলে ঐ তথ্য-উপাত্তভিত্তিক সকল সিদ্ধান্ত ভুল হইতে বাধ্য। একই কথা, ভোগ কিংবা চাহিদার তথ্যের ক্ষেত্রেও। চালের ক্ষেত্রে যে সমস্যা দেখা যাইতেছে, তাহা কিন্তু নিত্যপণ্যের অন্যান্য আইটেমে যেমন—ভোজ্যতেল, চিনি প্রভৃতির ক্ষেত্রেও দেখা যায়। ফলে যখন সরবরাহের ঘাটতির কারণে বাজারে দাম বাড়ে তখন পত্র-পত্রিকার ভুল তথ্যের উপর ভিত্তি করিয়া সরকার সরবরাহের আধিক্যের কথা বলিয়া সিণ্ডিকেট তত্ত্বের মাধ্যমে দাম বৃদ্ধির ব্যাখ্যার চেষ্টা করে। ব্যবসায়ীরা যে অপ্রতিযোগিতামূলক আচরণ আদৌ করে না—এমনটি হয়তো বলা যাইবে না; কিন্তু দাম বৃদ্ধির ব্যাখ্যা হিসাবে সর্বদা সিন্ডিকেট তত্ত্বের ব্যবহার কিন্তু ভুল বার্তা পৌঁছায় সংশ্লি¬ষ্ট সবার কাছে। কে জানে, হয়তো বা এই ধরনের মনগড়া ভুল তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যার কারণেই আমরা বাম্পার ফলনের সময় চালের দাম বাড়িতে দেখি। বিশ্ববাজারে দাম পতনের সময় অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বাড়িতে দেখি। ফলে আমাদের জন্য যাহা দরকার তাহা হইল গবেষণাধর্মী কাজের মাধ্যমে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের বাহিরে থাকিয়া প্রত্যেকটি নিত্যপণ্যের চাহিদা ও সরবরাহের সঠিক তথ্য গবেষক ও মিডিয়ার নিকট সরবরাহ করা উচিত যাহাতে বিভ্রান্তিমূলক সিদ্ধান্তের মুখে আমাদের পড়িতে না হয়।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন