বিমান হামলার ‘বিস্ময়কর’ জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি সিরিয়ার

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:২৩
দামেস্ক ইসরাইলি বিমান হামলার ‘বিস্ময়কর’ জবাব দিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লেবাননে সিরিয়ার রাষ্ট্রদূত। হামলার প্রতিবাদে সিরিয়া ইিতমধ্যে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিকভাবে নালিশ জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের। দামেস্ক ইসরাইলি আগ্রাসনের ‘বিস্ময়কর’ জবাব দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেন লেবাননে সিরিয়ার রাষ্ট্রদূত আলি আব্দুল করিম আলি। ওদিকে, ইসরাইলের হামলার প্রতিবাদ জানাতে গোলানের জাতিসংঘ কমান্ডারকে ডেকে পাঠায় সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইসরাইলের কর্মকাণ্ড ১৯৭৪ সালে দু’পক্ষের মধ্যকার চুক্তির লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করেছে মন্ত্রণালয়। পরিস্থিতি দেখভালের জন্য ওই সময় থেকেই গোলান মালভূমিতে রয়েছে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক বাহিনী। সিরিয়ার সেনাবাহিনীর ভাষ্য: বুধবার দামেস্কের উত্তর-পশ্চিমের সামরিক গবেষণা কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলের জঙ্গি বিমান। কিন্তু সীমান্তে লেবাননগামী অস্ত্রভর্তি কোনো ট্রাকে ইসরাইলি হামলা হওয়ার কথা সিরিয়ার সেনাবাহিনী অস্বীকার করেছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ইসরাইলের জঙ্গি বিমান সিরিয়ার জামরায়া বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রে সরাসরি হামলা চালিয়েছে। এতে দু’জন নিহত হওয়াসহ ৫ জন আহত হয়েছে। এর পাল্টা জবাবের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়ে লেবাননের হিজবুল্লাহ গেরিলা গোষ্ঠীর ওয়েবসাইটে রাষ্ট্রদূত আব্দুল করিম বলেন, “সিরিয়া তাদের সার্বভৌমত্ব এবং ভূখণ্ড রক্ষায় সচেষ্ট।” ইসরাইল বুধবারের বিমান হামলার ব্যাপারে নিশ্চুপ রয়েছে। তাদের পশ্চিমা মিত্ররাও তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে সিরিয়ার মিত্রদেশ রাশিয়া এরই মধ্যে ইসরা্্্্ইলি হামলার নিন্দা জানিয়েছে। ইসরাইলি বিমান হামলার পরস্পরবিরোধী খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে মস্কো বলেছে, এ ধরনের হামলা জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন; এটি মেনে নেয়া যায় না। রাশিয়ার পাশাপাশি ইরান এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তেল আবিবের জন্য এ ঘটনা মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনবে বলে মন্তব্য করেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুসেইন আমির আবদুল্লাহিয়েনও। সিরিয়ার বিদ্রোহীরাও জানায়, ইসরাইলি বিমান হামলায় দামেস্ক-বৈরুত মহাসড়কের ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে পার্বত্য এলাকায় একটি গাড়িবহরে বিস্ফোরণ ঘটে। ওই বহরে খুব সম্ভব অত্যাধুনিক বিমান-বিধ্বংসী এবং ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র বহন করা হচ্ছিল লেবাননের হিজবুল্লাহ গেরিলাদের জন্য। সিরিয়ায় গোলযোগের সুযোগ নিয়ে সেখানকার বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা রাসায়নিক অস্ত্র হাতিয়ে নেয়ার বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহদের হুঁশিয়ার করার পরপরই ইসরাইল বুধবার ওই হামলা চালায়।