নির্বাচন নিয়ে ভাবনা

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২০:৫৭
তত্ত্বাবধায়ক সরকারেরও ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক স্বাধীন ভূখণ্ডে পরিচিত হয়েছে। আর নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের প্রাণ। প্রাণ না থাকলে যেমন প্রাণী হওয়া যায় না, ঠিক তেমনি নির্বাচন না থাকলে তাকে গণতান্ত্রিক দেশ বলা যায় না। আর একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন একজন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার। যেটা হচ্ছে বর্তমানে নির্বাচনের প্রধান ইস্যু। “নিউটন বলেছেন, প্রত্যেক বস্তুরই ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়া আছে।” তত্ত্বাবধায়ক সরকারেরও থাকতে পারে, তাই বলে গণতন্ত্র বিরোধী কোন কাজ সরকার ও বিরোধী দলের থাকতে পারে না। যদিও বর্তমান সরকার চাইছে ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করতে। আর চাইবে না কেন? বাংলাদেশের ঐ গদিতে আজ পর্যন্ত যারা বসেছে কেউ সহজে ছাড়তে চায়নি। আগামী নির্বাচনকে উদ্দেশ্য করে যেভাবে হরতাল, মারামারি, হানাহানি, কাটাকাটিসহ বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চলছে তার ফলাফল সামনের দিকে ভয়াবহ হয়ে উঠবে, যদি না এর কোন মীমাংসা হয়। আশা করি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমেও আগামী নির্বাচন হবে। কিন্তু মধ্যখানে বিশ্বজিেদর জীবন দিতে হবে। আশা করি, সরকার সামনে তা প্রমাণ করতে চাইবেন না। পরিশেষে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের এই মুহূর্তে দরকার সকল দল, বিরোধী দল, উপদল এর সাথে বসে সংলাপের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর নির্বাচন করা। আমরা শান্তি চাই। হাঙ্গামা চাই না। মো.তাজুল ইসলাম ফাহিম লাকসাম ফয়জুন্নেসা সরকারি কলেজ জাওড়া, বিপুলাসার, মনোহরগঞ্জ, কুমিল্লা। ভবিষ্যতে নির্বাচন হতে হবে অবাধ, নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু এবং জনকল্যাণময় জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে একটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। যে ধাপের উপরই নির্ভর করে একটি রাষ্ট্রের সকল কল্যাণময় পর্যায়। সংবিধান অনুযায়ী ২০১৩ সাল নির্বাচনের বছর। নির্বাচন অনুষ্ঠান ও সময় সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আজও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন নিয়ে সকলেরই কিছু না কিছু ভাবনারই কথা। নির্বাচন দ্বারা একটি দেশ বা রাষ্ট্র পায় তার নতুন জীবন। নতুন করে দেশটাকে জনগণের মনের মত করে গড়ে তোলে একজন নতুন নেতা। এ নেতাকেই নির্বাচন করা হয় গণতান্ত্রিক উপায়ে। কিছু কিছু রাজনৈতিক দল তারা প্রকৃত পক্ষে রাজনৈতিক দল নয়। এরা হলো ক্ষমতা লোভী। রাষ্ট্রীয় সকল অরাজকতা বিশৃংখলার কারণ হলো এরা, তাই গণতান্ত্রিক এদেশে জনগণকে হতে হবে সচেতন। জনগণকেই নির্ধারিত করতে হবে নির্বাচনের সময়সীমা। কালক্রমে এ দেশ ধ্বংসের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। খবরের কাগজে চোখ রাখলে দেখা যায়, এখানে সেখানে খুন-খারাবি, হত্যাকাণ্ড, চুরি-ডাকাতি, গুম করা, হরতাল, ভাঙচুর, মিটিং-মিছিল, শিশু নির্যাতন, নারী নির্যাতন ইত্যাদি সবসময় লেগেই থাকে। একেই কি বলে সুষ্ঠু জ্ঞানে, সুষ্ঠু বিচারে, সুষ্ঠু নেতা নির্বাচন। এ স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণ কি স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারছে। এ স্বাধীন দেশে এখনও মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। এরই নাম স্বাধীন দেশ। এ দেশে চলছে প্রতারণা। পারে কি সরকার এসব প্রতারণা বন্ধ করতে পারে না, যদি পারতো মানুষকে আজ হয়রানি হতে হতো না। তাই কবির ভাষায় কবিতায় বলতে হয়- চাই নির্বাচন, চাই অবাধ নির্বাচন, সুষ্ঠু নির্বাচন, নিরপেক্ষ নির্বাচন। থাকবে না যেখানে অরাজকতা থাকবে শুধু শান্তি, সেই নির্বাচন চাই আমরা দেশের সকল প্রান্তে।স্বাধীন দেশে কেন আজ দুঃখ দুর্দিনের বৃষ্টি, নির্বাচন চাই আমরা শান্তি সুখের সৃষ্টি। মো. খলিলুর রহমান (জসীম) এইচএসসি প্রথম বর্ষ, মানবিক বিভাগ, ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়, ময়মনসিংহ সকল রাজনৈতিক দলকে এক টেবিলে বসতে হবে সংবিধান অনুযায়ী চলতি বছরের শেষের দিকে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে দেশের যে পরিস্থিতি তাতে সঠিক সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে জনসাধারণের মনে। সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের কারণে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সরকার ও প্রধান বিরোধীদল তত্ত্বাবধায়কের পক্ষে-বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে। একদিকে বিএনপি বলছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলে তারা নির্বাচনে যাবে না, অপরদিকে সরকার বলছে বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। যাই হোক দেশের এই অচলাবস্থার জন্য সরকার ও বিরোধীদল উভয়ই সমানভাবে দায়ী। কারণ প্রথম আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার জন্য আন্দোলন হয় কিন্তু তত্কালীন বিএনপি সরকার তা গ্রহণ না করে সরকারের অধীনেই নির্বাচন করে। কিন্তু নির্বাচিত সরকার ৩ মাসও টিকেনি। ফলে এই অচলাবস্থা নিরসনে তত্ত্বাবধায়কের অধীনেই নির্বাচন হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে ঠিক তার উল্টো। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার তত্ত্বাবধায়ক অবৈধ করেছে আর বিরোধীদল বিএনপি তা রাখার জন্য সংগ্রাম করছে। বিগত সময়ে যদি তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে ঝামেলা না বাধতো তাহলে হয়তো আজকে এই অচলাবস্থা হতো না। এমতাবস্থায় সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে দেশের সুশীল সমাজ দুই নেত্রীকে একত্রে বসার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু দুই নেত্রী একসাথে বসছেন না। কিছুদিন আগে শুনলাম লন্ডনে নাকি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংলাপ হয়েছে। সুতরাং বৃটেনে সংলাপ হলে দেশের মাটিতে সংলাপে বসতে বাধা কোথায়। মো. সা’দ উদ্দিন ২য় সেমিস্টার, ইসলামিক স্টাডিজ, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করতে হবে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠিত করতে হলে প্রয়োজন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। দেশের গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে হলে সুষ্ঠু নির্বাচনের কোন বিকল্প নেই। সরকারি দল ও বিরোধী দলের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে জনগণ। এই জনগণই তাদের মূল্যবান ভোটের মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন আগামী ৫ বত্সর দেশ কারা চালাবে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাধারণ জনগণ যাতে তাদের মূল্যবান ভোট যাকে ইচ্ছে তাকে প্রদান করতে পারে সেই সুবর্ণ সুযোগটুকু সরকারি দল ও বিরোধীদল উভয়কে দায়িত্ব নিয়ে করতে হবে। নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকার এবং স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে বিরোধীদলকেও কিছু ছাড় দিতে হবে তা না হলে কোনোদিন বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না। এতে করে গণতন্ত্রও টিকবে না। বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নিবন্ধনকৃত ৩৮টি রাজনৈতিক দল রয়েছে। সবদলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হলে দেশে জনগণ শান্তিতে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। বিশেষ করে বর্তমান সরকার ও বিরোধীদল উভয় মিলে ছোট রাজনৈতিক দলগুলোকে সাথে নিয়ে সকলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি নির্দলীয় সরকার গঠন ও নির্বাচন কমিশনকে আরো শক্তিশালী করার মাধ্যমে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারে। মনে রাখতে হবে জনগণই হলো রাজনৈতিক ক্ষমতা বদলের প্রধান উত্স। জনগণের রায়কে পাশ কাটিয়ে কোনো রকম একদলীয় সিদ্ধান্ত নেয়া সমীচীন হবে না। এমতাবস্থায় সরকারি দল ও বিরোধীদলসহ সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি আমার উদাত্ত আহ্বান আসুন দেশ ও জাতির কল্যাণে জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিয়ে গণতন্ত্রকে রক্ষা করি ও দেশকে একটি সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলি। মোনতাছির আহমেদ ডিএইচএমএস, ৪র্থ বর্ষের পরীক্ষা সমাপনার্থী, বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন