ধর্ষিতাকে বিয়ে করার মাধ্যমে মামলার অভিযোগ থেকে রেহাই পাওয়ার যে আইন মরোক্কোতে চালু আছে তা পরিবর্তন করার পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটি। প্রায় এক বছর আগে সেখানে ১৬ বছরের একটি মেয়ে ধর্ষিত হলে তাকে ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে করতে বাধ্য করা হলে সে আত্মহত্যা করে। এরপর থেকেই বিদ্যমান এই আইনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে উঠে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনসহ সমাজের নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। সম্প্রতি নারী অধিকার কর্মীরা সেদেশের বিচার মন্ত্রী মোস্তফা রামিদের এই আইন পরিবর্তনের ঘোষণাকে স্বাগত জানান। তবে মন্ত্রী বলেন, এটা কেবল আইন সংস্কারের প্রথম ধাপ মাত্র। পুরোপুরি পরিবর্তনের জন্য আমরা পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেব। এই আইনটিতে দণ্ডবিধির ৪৭৫ ধারার একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যারা অপহরণের পর ধর্ষণ বা সরাসরি ধর্ষণের শিকার হয়, তাদেরকে সমাজের লজ্জাস্কর পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে ধর্ষককে বিয়ে করার বৈধতা দেয়া হয়েছে। আর এর মাধ্যমে দোষী সাব্যস্ত ধর্ষকও প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তি থেকে রক্ষা পায়। মন্ত্রী বলেন, আমরা শীঘ্রই এই আইনের পুরোপুরি পরিবর্তন আনবো। মরক্কোর মানবাধিকার সংগঠনের সভাপতি খাদিজা রিয়াদি বলেন, আইনের এই ধারাটির পরিবর্তনের যে ঘোষণা সরকার দিয়েছে তা অবশ্যই একটা ইতিবাচক দিক। তবে এর মাধ্যমে আমাদের সকল দাবি পূরণ হবে না। তিনি বলেন, দণ্ডবিধির পুরোটাই সংস্কার করতে হবে। কেননা এটা না হলে ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যাবে না। তিনি আরো বলেন, ওই দণ্ডবিধির কিছু ধারা ও উপধারায় এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা নারীর অধিকারকে পুরোপুরি রক্ষা করে না। কাজেই সেগুলোরও পরিবর্তন আনতে হবে।
গত বছর মার্চ মাসে মরক্কোয় ১৬ বছরের একটি মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে এবং বিচারকরা তাকে ওই ধর্ষককে বিয়ে করে বিষয়টি ফয়সালার জন্য বলেন। এতে মেয়েটি ক্ষুব্ধ হয়ে রাগে দুঃখে অভিমানে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে। এ ঘটনার পরপরই এই আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামে সেদেশের অনেক মানুষ। তারা বর্তমান আইনটি পরিবর্তন করে ধর্ষককে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়ার দাবি জানান। সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রী বাসিমা হাক্কোই যিনি সংসদে একমাত্র নারী মন্ত্রী তিনি বলেন, এই আইনটি পাস করাতে তার পক্ষে যা যা করার দরকার, তা-ই তিনি করবেন।
