ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না

নির্বাচন নিয়ে ভাবনা

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:১৭
সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন অনিবার্য জাতীয় নির্বাচন যেকোনো দেশের জন্যই ক্ষমতার পালা বদল ও জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আমাদের দেশও তার ব্যতিক্রম নয়। কারণ ‘নির্বাচন’ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার অন্যতম মূল স্তম্ভ। তবে উন্নয়নশীল বিশ্বে এর অনুশীলন যথার্থভাবে হয় না। এটি অনস্বীকার্য সত্য যে, আমাদের গণতন্ত্র এখনো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করতে পারেনি। তার বাস্তব উদাহরণ ফুটে ওঠে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোর গণতন্ত্র ও রাজনীতি চর্চার ধরনের মাঝে। বড় দুই দলের মাঝে প্রায় একই ধরনের ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতি’ চর্চার ফলে দেশের গণতন্ত্র আজ গভীর সংকটে পতিত। বরাবরই ক্ষমতাসীনরা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার প্রচেষ্টা হিসেবে পবিত্র সংবিধান, সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও দলীয় নেতাকর্মীদের অনুগত আচরণকে মূল্যহীন মনে করে। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় বর্তমান সরকারও ঠিক একই পথে হাঁটছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মত একটি মীমাংসিত ও সর্বজনগ্রাহ্য বিষয়কে সংবিধানচ্যূত করে সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে জটিলতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তবে দেশের বোদ্ধা, সুশীল সমাজ ও বিশ্লেষকরা অবশ্য বিকল্প পথ সম্পর্কেও মতামত দিচ্ছেন। কিছুদিন আগেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এক সাবেক উপদেষ্টা আগামী নির্বাচন সম্পর্কে চারটি রূপরেখা প্রস্তাব করেন। কিন্তু হায়, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতি এতটাই স্বার্থান্ধ যে, কারো মূল্যায়ন তো দূরের কথা বরং পরামর্শদাতাকে নিয়ে উপহাস করা হয়। এমন পরিস্থিতি হতে কিভাবে উত্তরণ সম্ভব? ঠিক কত সময় পর এদেশের মানুষ গণতন্ত্রের সুফল পাবে অর্থাত্ কখন মূলতই গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিকতা পাবে এবং সরকার প্রকৃতই জনকল্যাণে মনোনিবেশ করতে সক্ষম হবে? বোধকরি কোন বিশ্লেষক এ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করতে চাইবে না। তার মানে আমরা কী অনিশ্চয়তার পথে হাঁটছি? তরুণ সমাজ এই অবস্থার পরিবর্তন চায়। গণতন্ত্রের কাঙ্ক্ষিত সুফল আর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আমরা ‘সংলাপ’কে একমাত্র ও অনিবার্য উপায় বলে মনে করি। সংলাপে রাজনৈতিক সহিঞ্চুতার চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শনপূর্বক একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বৃহত্ দুই দল ঐকমত্য হবেন—এই আশা পোষণ করি। রেদওয়ান বিপ্লব, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, ৪০তম আবর্তন-৩য় বর্ষ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার, ঢাকা। ---- গণতন্ত্রের যথাযথ ব্যবহার ও রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা পারে সুন্দর দেশ গড়তে আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলো কথায় কথায় ভাঙচুর, হরতাল, হত্যা, জ্বালাও পোড়াও নৈরাজ্যকর এবং আতঙ্ক সৃষ্টি করে থাকে এসব ঘৃণাজনিত রাজনীতির চর্চায় মগ্ন। বর্তমানে বাংলাদেশে এমন অবস্থা হচ্ছে যে, ছোট থেকে বড় এমন কোন দিক নেই যেখানে দুর্নীতি হচ্ছে না। গণতন্ত্র এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান চিন্তা করা উচিত, অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত একটি দেশ গড়া। দুঃখের সাথে বলতে হয় স্বাধীনতার ৪১ বছর পরও আমরা যেন আগের অবস্থাই পড়ে আছি। দেশের রাজনীতির দিকে তাকালে মনে হচ্ছে না দেশ এখন পুরোপুরি স্বাধীন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ভোগ্যপণ্যকে হাতের নাগালের বাহিরে নিয়ে যাচ্ছে। সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ তা সত্ত্বেও বৈদেশিক বিনিয়োগকারীরা আমাদের দেশে বিনিয়োগ করতে নিরুত্সাহিত হচ্ছে। রপ্তানির বাজার দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। গুণগতমানের রপ্তানি পণ্যের অভাবে হরতালের মত রাজনীতির কর্মসূচি সরকার ও দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষকে বিপাকে ফেলে। আমি প্রধান দুই দলকে বলতে চাই সংঘাত নয় শান্তিময় দেশ গড়ার চিন্তা করুন, সাধারণ মানুষকে সুন্দরভাবে বাঁচতে দিন, নিজের স্বার্থে রাজনীতি না করে জনগণ ও দেশের স্বার্থে রাজনীতি করলে দেশ হবে শক্তিশালী এবং সম্ভাবনার দেশ। এই অবস্থা থেকে সফলতা পাওয়ার জন্য গণতন্ত্রের যথাযথ চর্চা ও সহযোগিতা প্রয়োজন। দেলোয়ার হোসাইন, সরকারি তিতুমীর কলেজ, বিভাগ অর্থনীতি, ৩য় বর্ষ। ----- তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল হলেই আগামী সংসদ নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ যতদিন যাচ্ছে আগামী নির্বাচনের সময়টাও ততই ঘনিয়ে আসছে। নিয়মমতে বর্তমান সরকারের মেয়াদ এ বছরেই শেষ হবে এবং সংবিধান অনুযায়ী সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে। বাংলাদেশের সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়েছে। বর্তমান সরকার বলে যাচ্ছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আর কোন নির্বাচন নয়; দলীয় সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে। কিন্তু নির্বাচনের প্রধান বিরোধীদল বলছেন এ পদ্ধতি তারা মানেন না। এই পরিস্থিতিতে দেশ এখন চরম রাজনৈতিক সংকটে ভুগছে, গণতন্ত্র শব্দটা যেন হারিয়ে যাচ্ছে রাজনীতি নামক পিস্টনের ঘর্ষণে। সরকার দলীয় নির্বাচনের আশা করা মানেই সচেতন নাগরিক সমাজের চোখে সন্দিহান হয়ে পড়া। কারণ বর্তমান রাজনৈতিক এই মহাসংকটই সচেতন মানুষকে সাড়া দিচ্ছে কোন ক্ষমতাসীন দলের অধীনে সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ হতে পারে না। কথায় আছে ‘ক্ষমতা যার মহা সিংহাসনটি তার’। আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠান করার পূর্বে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃবহাল করে সরকারের উচিত, দেশ ও জনগণের স্বার্থে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করা। কামরুল হাসান (নাজমুল), এলএলবি (অনার্স) (শেষ বর্ষ), আইন ও বিচার বিভাগ, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, ঢাকা । ---- গণতন্ত্রের এই অপচর্চা ঠিক একইভাবে ধীরে ধীরে আমাদের দেশ তথা সারাদেশের মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে রোগ জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে ধীরে ধীরে তা গোটা শরীরকে আক্রমণ করে এবং বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। গণতন্ত্রের এই অপচর্চা ঠিক একইভাবে ধীরে ধীরে আমাদের দেশ তথা সারাদেশের মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দুপক্ষের এ যুদ্ধে তাদের কতটা স্বার্থসিদ্ধি হবে তা আমাদের জানা নেই, তবে সাধারণ জনগণের সুখ-দুঃখ যে এ মহারণের বিষয় না তা বোধ হয় আর নতুন করে বলবার দরকার নেই। সিংহাসন হারানোর ভয়ে একদল কাতর, অপর দল হারানো সাম্রাজ্য উদ্ধারের জন্য মরিয়া। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রথা উঠিয়ে দিয়ে বর্তমান সরকার বিরোধীদলের কাজটা কঠিন করে দিয়েছে। বিরোধীদল তাই আটঘাট বেঁধে নেমেছে। এর ফলে আমরা ধরে নিতে পারি যে এ বছর আমাদের কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। আজ হোক, কাল হোক বা পরশু নির্বাচন হবে। কিন্তু তার আগে দেশের মানুষের ওপর দিয়ে এক ভয়াবহ ঝড় বয়ে যাবে। নির্বাচনের পর নতুন সরকার আসবে। এই ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করতে গিয়ে পাঁচটি বছর চলে যাবে। মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা স্বপ্ন হয়েই থাকবে। বছরের পর বছর সাধারণ মানুষ এই দেখে আসছে। আশিকুল হক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ সাউথ বিজনেস স্কুল, বিবিএ, ২য় বর্ষ।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন