প্রিয় শিক্ষার্থী, তোমরা অষ্টম শ্রেণির নতুন বছরের ক্লাস ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছ। বাংলা প্রথম পত্রের পাঠ সহযোগিতায় আজ তোমাদের জন্য থাকছে “মানবধর্ম” কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন সম্পর্কে আলোচনা। চর্চা করলে উপকৃত হবে।
সৃজনশীল প্রশ্ন:
মিথুন হিন্দু ঘরের ছেলে। সে হিন্দু সমপ্রদায়ের লোক হলেও তার মধ্যে ধর্মীয়সংস্কার লক্ষ করা যায় না। সে সকল ধর্মের মানুষকে সমান নজরে দেখে। তার কাছে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সকলেই সমান। কারণ মানুষের প্রধান পরিচয় ধর্ম দিয়ে বিবেচিত হতে পারে না। মিথুন বিশ্বাস করে মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে একজন মানুষ অর্থাত্ মনুষ্যধর্ম। মানুষের অন্য কোন পরিচয় মুখ্য নয়। মনুষ্যধর্মই সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম।
ক)‘গঙ্গাজল’ অর্থ কী? ১
খ) ‘সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে’— উক্তিটি ব্যাখ্যা কর। ২
গ) উদ্দীপকটি ‘মানবধর্ম’ কবিতার কোন দিকটি ইঙ্গিত করে? বর্ণনা কর। ৩
ঘ) উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর সঙ্গে ‘মানবধর্ম’ কবিতার বিষয়বস্তুর কোনো পার্থক্য আছে কী?
বিশ্লেষণ কর। ৪
উত্তর:
ক) জ্ঞান:‘গঙ্গাজল’ অর্থ হলো গঙ্গা নদীর পানি।
খ) অনুধাবন: আলোচ্য চরণে লালন শাহ জাত-ধর্মের কথা বলেছেন। উক্ত অংশটি দিয়ে তিনি জাত-ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন।
গ) প্রয়োগ: উদ্দীপকটি দিয়ে ‘মানবধর্ম’ কবিতার লালন শাহের অসামপ্রদায়িক চেতনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
ফকির লালন শাহ ছিলেন মানবতাবাদী ও অসামপ্রদায়িক চেতনার অধিকারী। তাঁর ছিল অসাধারণ জ্ঞানভান্ডার। তিনি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ না করলেও নিজের চিন্তা ও সাধনা দিয়ে তিনি হিন্দু ও মুসলমানের ধর্মীয় শাস্ত্র সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। তাঁর কাছে ধর্ম বড় ছিল না, তিনি মনুষ্যবোধকেই বড় করে দেখতেন। কারণ ধর্মের পরিচয়ের গন্ডিতে মানুষকে আবদ্ধ রাখা যায় না। ধর্ম কোন মানুষের পরিচয়ের মাধ্যম হতে পারে না। ‘মানবধর্ম’ কবিতার প্রতিটি লাইনে এ অভিব্যক্তিই ফুটে ওঠেছে।
উদ্দীপকের মিথুন হিন্দু ঘরের সন্তান হলেও সে সব ধর্মের মানুষকে সমান নজরে দেখে। তার কাছে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবাই সমান। মিথুনের এ মানসিকতা কবির অসামপ্রদায়িক মানসিকতারই প্রতিরূপ। কেননা লালন ফকির কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন না। তাঁর কাছে সব ধর্মই সমান মর্যাদা পেয়েছে। তিনি ছিলেন সকল ধর্মের, সকল জাতের।
ঘ) উচ্চতর দক্ষতা: না, উদ্দীপকের বিষয়বস্তুর সাথে ‘ মানবধর্ম’ কবিতার বিষয়বস্তুর কোন পার্থক্য নেই।
‘সব লোকে কয় লালন কী জাত সংসারে’ গানটি ‘মানবধর্ম’ কবিতা হিসেবে এ গ্রন্থে গৃহীত হয়েছে। এ কবিতায় লালন ফকির জাতের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ লালন শাহের জাতের বা ধর্মের সম্পর্কে আজীবন জন মনে প্রশ্ন ছিল। তিনি কোন ধর্মের অনুসারী ছিলেন না।
উদ্দীপকের মিথুনের কাছেও ধর্মের কোন ভেদাভেদ নেই। কারণ সে মনে করে ধর্মের নামে মানুষে মানুষে প্রভেদ মিথ্যে। সে মানব ধর্মকেই বড় মনে করে। ‘মানবধর্ম’ কবিতার বিষয়বস্তুও একই। কবি লালন শাহ মনুষ্যধর্মকেই সবার ওপরে স্থান দিয়েছেন। ধর্মীয় পরিচয়কে তিনি প্রাধান্য দেন নি।
মনুষ্যবোধ না থাকলে মানুষকে কখনো মানুষ বলা যায় না। মানুষের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মনুষ্যত্ববোধ। এ মনুষ্যত্ববোধ দ্বারা মানুষকে চেনা যায়, জানা যায়। এ পৃথিবীতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করে, কিন্তু লালন শাহ সকল মানুষকে এক করে দেখেছেন। তিনি ধর্মের বা জাতের ভিত্তিতে তাদেরকে চিহ্নিত করেন নি। কারণ ধর্ম মানুষের পরিচয়ের মূল মাধ্যম নয়।
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন:
১. লালন শাহ কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
ক) যশোর খ) কিশোরগঞ্জ গ) ঝিনাইদহ ঘ) রংপুর
২. লালন শাহ কোন ধরনের কবি ছিলেন?
ক) মরমী কবি খ) নাগরিক কবি
গ) সামাজিক কবি ঘ) চেতনার কবি
৩. লালন শাহ ‘মানবধর্ম’ কবিতায় কোন গৌরবের কথা বলেছেন?
ক) ধর্ম গৌরব খ) জাত গৌরব
গ) ধন গৌরব ঘ) চেতনা গৌরব
৪. লালন শাহ কার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন?
ক) সত্যেন সাহা খ) আব্দুল করিম
গ) সিরাজ সাঁই ঘ) কানু সাঁই
৫. মানুষ ভিন্ন হতে চায় কীভাবে?
i) তসবি পরে
ii) মালা পরে
iii) জামা পরে
ক) i ও ii খ) i ও iii
গ) ii ও iii ঘ) i ,ii ও iii
উত্তর: ১)গ,২)ক,৩)খ,৪)গ,৫)ক
