নির্বাচন নিয়ে ভাবনা

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:২৩
দুই নেত্রী রাজনৈতিক সাংঘর্ষিক অবস্থা নিরসনে না আসলে “আজকের পরিস্থিতি কাল হয়ে দাঁড়াবে” বড় দুই দলের রাজনৈতিক সাংঘর্ষিক কারণে স্বাধীন সার্বভৌম দেশকে বিপদাপন্ন পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গত দুই মাসের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে তাকালে দেখা যায়- হানাহানির রাজনীতি, হিংসা, অসহিষ্ণুতা, হলমার্ক দুর্নীতি, পদ্মা সেতু দুর্নীতি ও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের প্রবণতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া ১৮ দলীয় জোটের বক্তৃতার সারমর্ম থেকে জানা যায় যে, তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংশোধন করে পূর্ববর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পুন: প্রবর্তনের জন্য আন্দোলন করছে। আমি সিলেটের আলিয়া মাঠে নিজস্ব প্রত্যক্ষদর্শী হয়ে শুনেছি যে, তারা বিগত ২০১১ সাল থেকে এ দাবিটি করে আসছে। পক্ষান্তরে, আওয়ামী লীগ সরকার একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে আগামী নির্বাচন করার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ এটি গণতান্ত্রিক দেশ, জনগণ নির্বাচন করবে কে গঠন করবে আগামী দিনের সরকার। পক্ষান্তরে ১৮ দলীয় জোট দেশের সর্বত্র অঞ্চলে হরতাল, অবরোধের ডাক দিয়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এবং দোকানপাঠ ভাংচুর করে নজিরবিহীন হিংস্রতা ঘটায়। এ সংঘাতের সমাধানের লক্ষ্যে দেশের সর্বস্তরের জনগণ আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে সমঝোতাভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথ বেছে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। যাই হোক, সবশেষে বলতে চাই আজকের পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণরূপে সমাধানে আনতে হলে বিশেষ করে দুই নেত্রীর প্রতি সর্বস্তরের জনগণের যে আহ্বান ও অনুরোধ তা আমি সংক্ষেপে উপস্থাপন করছি। দেশকে সর্বপ্রকার নিন্দনীয় হরতাল, অবরোধ, দুর্নীতি, গুম, খুন ইত্যাদি থেকে মুক্ত করা। দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্র থেকে দেশের সর্বত্র বুদ্ধিজীবী বিশেষ করে দু-নেত্রী সাবধান হওয়া। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে আগামী দিনের নির্বাচন সম্পাদন করা (তবে ফখরুদ্দীনের মত তত্ত্বাবধায়ক সরকার থেকে সতর্ক থাকা)। দুই নেত্রী একত্রে বসার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। এক নেত্রী আরেক নেত্রীকে ‘শত্রু’ না ভেবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ভাবা। একজন আরেকজনের আচরণ, জীবনযাত্রা নিয়ে ‘রুচিহীন’ মন্তব্য না করা। উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোর ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দলের নেতাদের আচরণ থেকে নিজে শিক্ষা লাভ করা। মোহাম্মদ ফয়সল বিন আব্দুল হক প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগ (প্রথম বর্ষ) বৃন্দাবন সরকারি কলেজ, হবিগঞ্জ। সুস্থ গণতন্ত্র চর্চার জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন আবশ্যক আমাদের দেশে এখনও মনে হয় রাজনীতিবিদগণ সে রকম স্বচ্ছতার প্রমাণ দিতে পারেননি যে রকম স্বচ্ছতার কথা বলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যতবারই জনগণকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন। এ ভয় কাটানোর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ এবং সংলাপের মাধ্যমে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক, অন্তর্বর্তী বা কোয়ালিশন যেই নামেই হোক না কেন এরকম একটি সরকার। যে সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়ে এ দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে সুনিশ্চিত করবে। ক্ষমতা চিরদিন আগলে রাখার কোন বিষয় নয়। একদিন না একদিন ক্ষমতা হস্তান্তরিত হবে-এটাই স্বাভাবিক। ক্ষমতা যে কত বড় মোহ কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর একটি কথায় তা প্রমাণিত। তিনি কিছু দিন আগে তাঁর ছেলে রাহুল গান্ধীর বেডরুমে গিয়ে কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন ক্ষমতা হচ্ছে বিষ। এটি সাধারণ কোন কথা নয়, এর তাত্পর্য অনেক। তাঁর সারা জীবনের রাজনৈতিক বাস্তবতার বহি:প্রকাশ হচ্ছে এ বক্তব্যটি। একটি দেশে সুস্থ গণতন্ত্র চর্চা তখনই হবে বলে ধরে নেওয়া হয় যখন জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন যে, তাঁরা হচ্ছেন জনগণের (গরীব, সাধারণ মানুষের) প্রতিনিধি। এ সকল মানুষের সেবা নিশ্চিত করার জন্য তাঁদেরকে নির্বাচিত করা হয়েছে। আমার বিশ্বাস মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী বিষয়গুলো বিবেচনা করে দ্রুত সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সচেষ্ট হবেন। তা না হলে আরব বসন্ত যেমন শুরু হয়েছিল তিউনিসিয়া থেকে এরকম একটি বসন্ত যে বাংলাদেশ থেকে শুরু হবে না তার গেরান্টি দেওয়া মুশকিল। মো: মহিব উল্লাহ বি.এড প্রশিক্ষণার্থী সরকারি টির্চাস ট্রেনিং কলেজ, কুমিল্লা। সুশৃঙ্খল নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করে বাংলার মাটি ও মানুষের শান্তি ফিরিয়ে আনুন নির্বাচন জনগণের মৌলিক অধিকার। নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করাও মানুষের সাংস্কৃতিক অধিকার। এ দেশ কোন নেতা-নেত্রীর নয়, এ দেশ সকলের। জনগণের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভোটের মাধ্যমে যোগ্য নেতা- নেত্রীকে নির্বাচিত করা হয়, যেন তারা দেশকে সঠিক রাজনীতি অনুযায়ী পরিচালনা করেন। আগামী দিনের নির্বাচন ব্যবস্থা খুবই মুমূর্ষু অবস্থায় রয়েছে। কেননা রাষ্ট্রের তখনই পতন ঘটে যখন রাষ্ট্র অযোগ্য নেতা- নেত্রীর হাতে চলে যায়। কোন অযোগ্য নেতা-নেত্রীকে এই বিশাল দায়িত্বপূর্ণ কাজ দেয়া চরম দায়িত্বহীনতা। সকল বড় ধরনের অপকর্ম তখনই হয়, যখন বহি:বিশ্বের কূটনৈতিক ইস্যু প্রতিফলিত হয়। ভারত- আমেরিকাদের চক্রান্তমূলক ইস্যু, রাহাজানিমূলক ইস্যু, রাজনৈতিক অপকর্মমূলক ইস্যু গ্রহণ না করে ৮০-৮৫% মুসলিমের ইসলামী রাজনীতি অনুযায়ী রাষ্ট্রকে পরিচালিত করলেই এ দেশ সুদ, ঘুষ, হত্যা, মারামারি, হরতাল বন্ধ করা সম্ভব। নইলে কোনদিনই এদেশে শান্তি ফিরানো সম্ভব হবে না। আগামী দিনের নির্বাচনকে বাংলার মানুষ দেখতে চায় সুশৃঙ্খলভাবে যেখানে থাকবে না স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রীতি। আর সুশৃঙ্খল নির্বাচন করার জন্য হরতাল না করে দুই নেত্রী বিনয় ও দয়ার মাধ্যমে আখলাকে হামিদার অধিকার অর্জন করুন। এরকম হরতাল ও ধরাধরি করে এই শাহজালালের, শাহ পরানের এবং হাজী নওয়াব আলীর ভূমিটাকে অসম্মান করবেন না। ঘরে ঘরে ভাই ভাইয়ের সাথে গৃহযুদ্ধ করাবেন না। তাই সুস্থ মাথায় সুন্দর নির্বাচন করুন। দুই নেত্রীই হাক্কানী পীরবুজুর্গদের থেকে নেক দোয়া নিয়ে সুশৃঙ্খল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন। এসএম নাজমুল হোসাইন (নোম) হাজী জামাল উদ্দীন ডিগ্রী (অনার্স) কলেজ একাদশ শ্রেণী, বিজ্ঞান বিভাগ, রোল (৫২) ভাঙ্গুড়া, পাবনা। সবার কাম্য স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় জাতীয় নির্বাচন নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো দেশ পরিচালনার দায়িত্ব খুঁজে পায়। রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের পূর্বে বিভিন্নভাবে জনগণকে আকৃষ্ট করার জন্য নির্বাচনী ইশতেহার পেশ করে। তাদের নির্বাচনী ইশতেহার কিংবা তাদের পূর্বের আচার-আচরণ এবং তাদের পূর্ব কৃতিত্ব দেখে ব্যালট পেপারে জনগণ নিজের ভোট নিয়ে নিজস্ব মতামত পেশ করেন। অর্থাত্ তাদের ব্যাপারে পূর্ণ আস্থা রেখে জনগণ ভোটের মাধ্যমে যে রায় দেয়, সেটাই সঠিক নির্বাচন এবং যে যোগ্য সেই নির্ধারিত হয়। উক্ত অবস্থা হলে Care-taker কিংবা Government এর আন্ডারে নির্বাচন হলে কোন প্রভাব পড়বে বলে মনে হয় না। মো: আব্দুর রাজ্জাক আবাদ তাকিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা, ঠাকুরগাঁও।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন