দ্রুত আহার করা ক্ষতিকর

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:২৬
আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আহার, নিদ্রা, বিশ্রাম, অবসর, বিনোদন এসব অপরিহার্য। অন্তত: স্বাস্থ্যসম্মতভাবে বেঁচে থাকার জন্য। কিন্তু এসব হতে হবে বিজ্ঞানসম্মতভাবে। যেমন আমাদের সব ব্যস্ততা দেখা যায় খাবার টেবিলে। অনেকে প্রায় ২ থেকে ৫ মিনিটের মধ্যে খাবার সেরে ফেলেন। আর যদি অফিসের তাড়া, বসের সঙ্গে মিটিং বা প্রিয়জনের সঙ্গে ডেটিং-এর টাইম থাকে তাহলে তো কথাই নেই। একেবারে বিদ্যুতের গতিতে খাবার টেবিল সাফ। কিন্তু আমরা কি কখনই ভেবে দেখেছি অতি দ্রুত নাস্তা, দুপুরের খাবার বা ডিনার সেরে ফেলা স্বাস্থ্য সম্মত নয়। বরং এতে ওজন বৃদ্ধি, অনাকাঙ্ক্ষিত বুকে ব্যথা, ইনডাইজেশন এবং অস্বস্তি বোধ হতে পারে। আমাদের সকলের একটা কথা মনে রাখা দরকার খাবার খেতে হবে অন্তত: ২৫-৩০ মিনিট ধরে ধীরে ধীরে। প্রথমেই মূল খাবার নয়। আর খাবার খেতে হবে রিলাক্স মুডে চিবিয়ে যাতে পাকস্থলী থেকে নিঃসৃত প্রয়োজনীয় পাচক রস চর্বিত খাবারের সঙ্গে মিশে যথাযথ বিপাকীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারে। দ্রুত আহার করলে যথাযথভাবে খাবার পাকস্থলীতে হজমে অসুবিধা হয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আমাদের শরীরের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে ব্রেইন বা মস্তিষ্ক। এমনকি কি খাচ্ছি, কি পরিমাণ খাওয়া উচিত এরও সিগনাল আসে মস্তিষ্ক থেকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন আহার শুরুর পর অন্তত: ২০ মিনিট সময় লাগে মস্তিষ্কে সিগনাল যেতে। আর মস্তিষ্কে সিগনাল পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত পাকস্থলী বুঝতে পারে না তার ধারণ ক্ষমতা কতখানি। মস্তিষ্কই বলে দেয় তার আর খাবারের দরকার আছে কি নেই। কিন্তু বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখেছেন বেশীরভাগ ক্ষেত্রে আহার সম্পন্ন হয় গড়ে ৫ থেকে ৬ মিনিটের মধ্যে। এটা কোনভাবেই স্বাস্থ্যের জন্য হিতকর নয়। পুষ্টিবিদদের মতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে ধীরে ধীরে আরামের সঙ্গে খাবার খাওয়া উচিত। যদি কোনভাবে তাড়া থাকে, তাহলে পেট পুরে না খেয়ে কম খেতে হবে যাতে পাকস্থলীতে খাদ্য বিপাকীয় কার্যক্রমে কোন বিপত্তি না ঘটে। মনে রাখতে হবে খাবার হতে সুষম এবং আহারে আনন্দ আপনার স্বাস্থ্যের জন্য হিতকর।