অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনে সর্বদলীয় আলোচনায় রাজনৈতিক ঐকমত্যে পৌঁছাতে
না পারলে গণভোট দিন
লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশ। আর সেদিন দেশ স্বাধীন হয়েছিল শুধু আস্থা ও বিশ্বাসকে পুঁজি করে। বঙ্গবন্ধুর উপর আস্থা রেখেই সেদিন অকাতরে প্রাণ দিয়েছিল এদেশের বীর সন্তানেরা। ইজ্জত ও সম্ভ্রম হারানোর বলী হয়েছিল লক্ষ লক্ষ মা-বোন। তবে আজ কেন তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে আস্থা ও বিশ্বাসের অভাব ? আমরা কি সেদিনের সেই চেতনায় ফিরে যেতে পারি না ? সকল রাজনৈতিক দলের উচিত হবে একে অপরের উপর আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করা। সকল উদ্ভট চিন্তা থেকে বেরিয়ে এসে সর্বদলীয় আলোচনায় বসতে হবে। যেমনটি বসে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত। বিরোধী দলকে সংসদে এসে কথা বলতে হবে। জনগণ ভোট দেয় সংসদে এসে তাদের কথা বলার জন্য, রাস্তায় এসে চেঁচামেঁচি করার জন্য নয়। ভারত পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্ গণতন্ত্র চর্চার দেশ, এতবড় দেশে যদি শুধু নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা রেখে সকল নির্বাচন করতে পারে ও ফলাফল অকপটে মেনে নিতে পারে তাহলে বাংলাদেশে নয় কেন ? আমাদের নির্বাচন কমিশনকে এজন্য অধিকতর স্বাধীনতা ও ক্ষমতা দিতে হবে। সাথে বাড়াতে হবে একে অপরের আস্থা ও বিশ্বাস। জনগণের জন্যই সংবিধান। দেশের রক্ষাকবচ পবিত্র সংবিধানে জনগণের মতের প্রতিফলন থাকতে হবে। কত ভাগ মানুষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায় ? একবার হিসাব করুন। রাষ্ট্রপতি না সংসদীয় শাসন? এটার জন্য দেশে গণভোটের আয়োজন হয়েছিল। যদি আলোচনার টেবিলে এর সমাধান না হয়, প্রয়োজনে গণভোটের ব্যবস্থা করেন। আর দেশের সাধারণ মানুষের খাজনা-ট্যাক্সের টাকায় যদি এ দেশ চলে থাকে তাহলে তাদের মনের কথার মূল্যায়ন করতেই হবে।
তানজীন আহমেদ মিথুন
জার্নালিজম এন্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগ, ২য় বর্ষ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও
শান্তিপূর্ণ নির্বাচন
চাই
বর্তমান সরকার পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় এসে চার বছর অতিক্রম করে এক বছরকে সামনে রেখে জনগণকে ধোঁকায় ফেলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ক্ষমতায় আসার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল ঘোষণা করেছে। যেটা গণতন্ত্র বিরোধী কাজ। বর্তমান সরকার অযোগ্য ও ব্যর্থ সরকার বলেই তো এই গত চার বছরে এক ডজন মন্ত্রী তাদের ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। এ সরকার তার বিরোধী দলগুলোকে পরোয়া করে না। এই সরকারে প্রতি জনগণের আত্মবিশ্বাস মিথ্যার আগুনে পুড়ে ছারখার হয়ে গেছে। তারা জনগণের মাঝে যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা আজ বাস্তবায়ন হচ্ছে মাকাল ফলের মত। বর্তমান সরকার গত চার বছরে যে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে তা বিগত চল্লিশ বছরের শাসন ব্যবস্থাকে হার মানিয়ে ছাড়ছে। দেশটিতে আজ দিনে দুপুরে হরতাল, খুন, গুম, হত্যা, ইভটিজিং, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি,দুর্নীতি ইত্যাদি কুকর্ম বৃদ্ধি পাচ্ছে। বর্তমান সরকার ব্রেনস্ট্রোক করেছে বলেই তো সরকার পাগলামি শুরু করেছে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছাড়াই নির্বাচন করবে যা কোনদিনও সম্ভব নয়। তাই ভবিষ্যত্ সময়কে অপেক্ষা করে সামনে যে ক’দিন সময় আছে এই সময়টুকু কাজে লাগিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের মাধ্যমে দরকার একটি শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। জনগণ চায় শান্তিপূর্ণ নিরপেক্ষ নির্বাচন। তাই আমি এই প্রত্যয় নিয়ে নির্বাচন কমিশনে যারা দায়িত্বে আছেন তাদের উদ্দেশ্য করে বলতে চাই, আপনারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করে সামনের সংসদ নির্বাচনে একটি সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিবেন যা গণতন্ত্রের দাবি।
এম ডি মাইদুল ইসলাম (নয়ন)
বিবিএ অনার্স, ব্যবস্থাপনা ২য় বর্ষ,
ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ, গাজীপুর।
দু’পক্ষকেই সমঝোতায়
আসতে হবে সুষ্ঠু
নির্বাচনের জন্য
বাংলাদেশ একটি গরিব দেশ। এই দেশে বর্তমানে নির্বাচন নিয়ে খুব জটিলতা শুরু হয়েছে। যা ২০১৪ সালের নির্বাচন ভাল এবং সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি এবং দু’পক্ষই তাদের কথায় অটুট রয়েছেন যা বাংলাদেশের জন্য ক্ষতি ছাড়া আর কিছু বয়ে আনবে বলে মনে হয় না এবং দিনে দিনে খুন খারাবি, সড়ক দুর্ঘটনায় দৈনিক ১৫ থেকে ২০ জন মারা যাচ্ছে। সে দিকে নজর দেয়া উচিত। কিন্তু চিন্তা করুন এই দেশ কত শহীদের রক্ত দিয়ে স্বাধীন হয়েছে, কিন্তু এই দেশে কত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যাচ্ছে যা বাংলাদেশের জন্য ক্ষতি ছাড়া কিছুই হচ্ছে না। তাই আমি মনে করি ৫ বছর যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, দুপক্ষের দোষ-গুণ না ধরে জনগণের জন্য তারা কাজ করুক। সেই ভাল কাজের কারণে নিজেদের জয় হবে, জনগণ ভালবেসে আপনাদের ঘরের দুয়ারে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নিবেন। তাতে আওয়ামী লীগ হোক বা বিএনপি হোক বা জাতীয় পার্টিই হোক, তাদেরকে ভালবাসবে বলে মনে হয়। কিন্তু সবার আগে জনগণের ভাল চাইতে হবে তাহলে আল্লাহর রহমতে জনগণ ভালবেসে তাদের জয় এনে দেবে।
মো. মোশারফ হোসেন সোহাগ
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়
ষোলশহর ফরেস্ট অফিস
বাঁশ বাগান, চট্টগ্রাম।
সংঘাত এড়াতে দুই
নেত্রীর সংলাপের
বিকল্প নেই
যখন বাংলাদেশের রাজনীতি নির্ভর করে দুই প্রধান দলের উপর তখন আমরা দেখতে পাচ্ছি দল দুটির অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে এই বিপরীতমুখি অবস্থান দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে ঠেলে দিয়েছে এক অনিশ্চিত অবস্থার দিকে। বাংলাদেশে এখন অসুস্থ রাজনীতিরই চর্চা চলছে। রাজনীতির উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অসত্ অর্থ উপার্জন। ফলে রাজনীতি থেকে সমাজের শিক্ষিত ভদ্রজনরা বিদায় নিচ্ছেন। স্বার্থন্বেষীরা চলে আসছে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণকারীর ভূমিকায়। ক্রমেই রাজনীতি কালো টাকা আর পেশী শক্তির কাছে বন্দি হয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতায় একবার গেলে কোন দলই ক্ষমতা ছাড়তে চান না। ক্ষমতা ধরে রাখতে তারা মরিয়া হয়ে উঠে কেমনে ক্ষমতায় থাকা যায়। আসন্ন দশম সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ১বছর। আগামী এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠ গরম হতে চলেছে কিন্তু কোন ধরনের সরকার পদ্ধতির অধীনে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এ নিয়ে সাধারণ জনগণের মনে সংশয় নির্বাচন হবে কি, হবে না? পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। সরকার দলীয় প্রধানমন্ত্রী বলছেন এ সরকারের আমলেই অবাধ সুষুম নির্বাচন সম্ভব। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রী বলছেন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ছাড়া দেশে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। দল দুটির বিপরীতমুখি অবস্থান দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে ঠেলে দিয়েছে এক অনিশ্চিত অবস্থার দিকে। এতে করে দিনের পর দিন রাজনৈতিক অঙ্গন আরও সাংঘর্ষিক হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনে প্রধান দুই দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আলোচনা খুবই জরুরি। আলোচনার মাধ্যমেই নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা কী হবে তা চূড়ান্ত করতে হবে। আমার আশা থাকবে দেশের অভিভাবক হিসাবে সরকার বিএনপির সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেবে এবং নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থার ব্যাপারে সুষ্ঠু সমাধানে আসবেন ও জনগণকে সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচন উপহার দিবেন।
সুমন আহমেদ (বিবিএ)
ফজলুর রহমান হল
সিটি ইউনির্ভাসিটি সাভার, ঢাকা।
