জন কেরি :সাফল্য কামনা করি

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, ২১:৪৯
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচিত হন গত বত্সর। আর গত মাসে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। ইহার পর হইতে তাঁহার মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়টি সর্বত্র আলোচিত হইয়া আসিতেছে। তাঁহার কেবিনেটে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ দুইটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইতোমধ্যে গত শুক্রবার ৬৮তম পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করিয়াছেন জন কেরি। অন্যদিকে চাক হেগেল মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হইতে যাইতেছেন বলিয়া ধারণা করা হইতেছে। বারাক ওবামার প্রথম মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করিলেন সাবেক ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটন। তিনি ২০০৮ সালে দল হইতে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন লাভের জন্য ওবামার সহিত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। আর বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২০০৪ সালে ডেমোক্রাট পার্টির ছিলেন প্রেসিডেন্টপ্রার্থী। তিনি এক বর্ণাঢ্যময় রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী। ১৯৮৫ সাল হইতে তিনি সিনেট সদস্য। ৬৯ বত্সর বয়সী এই নেতা দীর্ঘদিন সিনেটের ফরেন রিলেশনস কমিটিতে কাজ করার সৌভাগ্য অর্জন করেন। তিনি এই কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেন। ডেমোক্রাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের সদস্যদের মধ্যে তাঁহার গ্রহণযোগ্যতা রহিয়াছে। সবচাইতে বড় ব্যাপার হইল, তিনি একটি কূটনীতিক পরিবারেই জন্মগ্রহণ করিয়াছেন। তাঁহার বাবা ছিলেন একজন কূটনীতিক। তাঁহার বয়স যখন ১২, তখন তিনি পিতার কর্মক্ষেত্রের সুবাদে পূর্ব বার্লিনে ছিলেন। তাঁহার শৈশব কাটিয়াছে কূটনীতির পাঠ নিয়াই। তবে জন কেরি এমন এক সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করিলেন যখন মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। তন্মধ্যে সিরিয়া ইস্যুর সমাধানে মনোযোগ দেওয়াটাই তাঁহার প্রধান কাজ হওয়া উচিত বলিয়া অনেকে মন্তব্য করিতেছেন। আরব বসন্ত বা অভ্যুত্থান ২০১১ সালে শুরু হইলেও সিরিয়ায় স্বৈরশাসনের কোন পরিবর্তন এখনো হয় নাই। যদিও এই পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সরকার রাজধানী ও উত্তরাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করিতেছে। পক্ষান্তরে ফ্রি সিরিয়ান আর্মি নামক বিদ্রোহীরা পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করিয়া রাখিয়াছে। এমতাবস্থায় বিরোধী গ্রুপের কমান্ডো ফোর্সদের কার্যকরি প্রশিক্ষণ দেয়ার উপর নির্ভর করিতেছে অনেক কিছু। অনেক আরব দেশে রাজতন্ত্র ভুল হইতে শিক্ষা নিয়া নিজ অবস্থান শক্তিশালী করিতেছে যাহা আরব বসন্তের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে বাধা হইয়া দাঁড়াইয়াছে। ইহার পরই ইরান ইস্যু তাত্পর্যপূর্ণ। অনেকের মতে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা খুবই পুরাতন একটি অস্ত্র। কোন কোন ক্ষেত্রে আজ যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা পণ্যের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়া গিয়াছে। ইরান এইভাবেই টিকিয়া আছে, যদিও দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই নাজুক। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ ও কূটনৈতিক পদক্ষেপের উপর নির্ভর করিতেছে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়া। ইরান পরমাণু শক্তির অধিকারী হইলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রীয় নীতি মার খাইবে। অন্যদিকে সেনকাকু দ্বীপ নিয়া জাপান ও চীনের মধ্যে বিরোধ নিরসনেও নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে কাজ করিয়া যাইতে হইবে। চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বিরূপ হইলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় মার্কিন নীতি ও কৌশলগত ভূ-রাজনীতি নূতন করিয়া চাপের মুখে পড়িবে। ইহাছাড়া আজ পররাষ্ট্রীয় অর্থনীতি গুরুত্ব পাইতেছে। পৃথিবীর সবকিছুই ব্যবসা-বাণিজ্য নির্ভর হইয়া পড়িতেছে। তাই অধিক মুক্তবাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর ও অঞ্চল গঠনে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হইবে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিশ্বের সবচাইতে প্রভাবশালী দেশ। অর্থনীতি, সামরিক বাহিনী, শিক্ষা-দীক্ষা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, সংস্কৃতি কোনকিছুতেই জুড়ি মেলা ভার। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করিবার কোন উপায় নাই। তবে তাহা ধরিয়া রাখা ও দেশকে আরও মর্যাদাশীল করার কাজটি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপর বহুলাংশে নির্ভর করে। আমরা জন কেরির সাফল্য কামনা করি।

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন